জি ২৪ ঘণ্টা ডিজিটাল ব্যুরো: দেশের রাজনীতিতে এখন অন্যতম চর্চিত বিষয় ককরোচ জনতা পার্টি (Cockroach Janta Party বা CJP) এবং তার প্রতিষ্ঠাতা অভিজিৎ দীপকে (Abhijeet Dipke)। সম্প্রতি নাগপুরে এক সাংবাদিক সম্মেলনে কেন্দ্রীয় মন্ত্রী তথা রিপাবলিকান পার্টি অব ইন্ডিয়ার (Republican Party of India বা RPI) সভাপতি রামদাস আঠাওয়ালে (Ramdas Athawale) সরাসরি দীপকেকে তাঁর দলে যোগ দেওয়ার আহ্বান জানান। প্রশ্ন উঠছে, হঠাৎ কেন এই জেনজি আন্দোলনকারীকে পাশে পেতে এত মরিয়া এনডিএ (NDA) জোটের শরিক দল?
আম্বেদকরপন্থী মতাদর্শ ও তরুণ প্রজন্মকে টানার সমীকরণ
রামদাস আঠাওয়ালের মতে, বাবাসাহেব ড. বি আর আম্বেদকরের (Babasaheb Dr. B. R. Ambedkar) আদর্শকে মজবুত করতে হলে রাজনীতিতে নতুন প্রজন্মের, বিশেষ করে জেন জি (Gen Z)-র সক্রিয় অংশগ্রহণ জরুরি। আঠাওয়ালে উল্লেখ করেন, দীপকে একজন স্পষ্ট আম্বেদকরপন্থী মতাদর্শে বিশ্বাসী তরুণ নেতা। তাই আম্বেদকরের তৈরি রাজনৈতিক ধারায় যুবসমাজকে সংগঠিত করতে দীপকের উপস্থিতি RPI-কে আরও প্রাসঙ্গিক ও শক্তিশালী করে তুলতে পারে। এটি কেবল একটি যোগদান প্রস্তাব নয়, বরং তরুণ প্রজন্মের ক্ষোভ ও প্রতিবাদের কণ্ঠস্বরকে মূলধারার নির্বাচনী রাজনীতিতে শামিল করার কৌশল।
অতীতে ‘অ্যান্টি-ন্যাশনাল’ তকমা, এখন জোটে টানার চেষ্টা: কী বলছে CJP?
অভিজিৎ দীপকে অবশ্য এখনই কোনও রাজনৈতিক দলে নাম লেখাতে রাজি নন। এর আগেও গত আগস্টে আঠাওয়ালে একই ধরনের প্রস্তাব দিলেও দীপকে তাতে ইতিবাচক সাড়া দেননি। শাসক শিবিরের একাংশের বিরুদ্ধে তোপ দেগে দীপকে অতীতে স্পষ্ট জানিয়েছিলেন, একসময় যাঁদের ‘অ্যান্টি-ন্যাশনাল’ (Anti-National) বলে দাগিয়ে দেওয়া হয়েছিল, রাজনৈতিক স্বার্থে আজ তাঁদেরই কাছে টানার চেষ্টা চলছে। তিনি স্পষ্ট করেছেন, ককরোচ জনতা পার্টি এখনই সরাসরি নির্বাচনী রাজনীতিতে (Electoral Politics) নামছে না; বরং নাগরিক অধিকার রক্ষায় এটা শক্তিশালী ‘প্রেসার গ্রুপ’ (Pressure Group) হিসেবেই ভূমিকা পালন করবে।
যন্তর মন্তর কাণ্ড
দিল্লির যন্তর মন্তরে (Jantar Mantar) নির্বাচন কমিশনের বিরুদ্ধে প্রতিবাদ জানানোর সময় অনুমতি ছাড়া প্রবেশের অভিযোগে CJP-র দুই নেতা আশুতোষ রাঙ্কা এবং সৌরভ দাসকে দিল্লি পুলিস গ্রেফতার করে। তাঁদের সাত দিনের বিচার বিভাগীয় হেফাজতও (Judicial Custody) হয়। সম্প্রতি তাঁরা মুক্তি পাওয়ার পর এবং বিষয়টি নিয়ে সুপ্রিম কোর্টে (Supreme Court) রিপোর্ট জমা পড়ার প্রেক্ষাপটে দীপকে আপাতত আন্দোলন স্থগিত রাখার ঘোষণা দিয়েছেন। আন্দোলন থিতু হওয়ার এই পর্বেই নতুন করে রাজনৈতিক দলবদলের জল্পনা উসকে দিলেন আঠাওয়ালে।
নির্বাচনই সরকার পরিবর্তনের পথ: বার্তা আঠাওয়ালের
রাস্তায় টানা বিক্ষোভ করে গণতান্ত্রিকভাবে নির্বাচিত সরকার ফেলা যায় না বলেই মনে করেন আঠাওয়ালে। সংবিধান অনুযায়ী ব্যালট বাক্স ও নির্বাচনের মাধ্যমেই জনমত গঠন হওয়া উচিত। পাশাপাশি, ভোটার তালিকা সংশোধনের বিশেষ প্রক্রিয়া (Special Intensive Revision বা SIR) নিয়ে তিনি মত দেন, কোনো বৈধ ভোটারের নাম যেন বাদ না যায়। পরিচয় যাচাইয়ের ক্ষেত্রে উপযুক্ত বিকল্প ব্যবস্থা খতিয়ে দেখার কথাও স্মরণ করিয়ে দেন তিনি।
অভিজিৎ দীপকে এই প্রস্তাব ফের প্রত্যাখ্যান করবেন নাকি ভবিষ্যতে দলটির অবস্থান বদলাবে, তা সময়ই বলবে। তবে জেন জি রাজনীতি ও তরুণ আন্দোলনকারীদের মূলধারায় টানার এই টানাটানি ভারতের সমসাময়িক রাজনীতিতে এক নতুন মাত্রা যোগ করেছে।
(দেশ, দুনিয়া, রাজ্য, কলকাতা, বিনোদন, খেলা, লাইফস্টাইল স্বাস্থ্য, প্রযুক্তির টাটকা খবর, আপডেট এবং ভিডিয়ো পেতে ডাউনলোড-লাইক-ফলো-সাবস্ক্রাইব করুন আমাদের App, Facebook, Whatsapp Channel, X (Twitter), Youtube, Instagram পেজ-চ্যানেল)