জি ২৪ ঘণ্টা ডিজিটাল ব্যুরো: দক্ষিণের রাজনীতিতে আচমকাই দুর্নীতির বড় বোমা ফাটল। বেসরকারি স্কুলগুলোর অনুমোদন পাইয়ে দেওয়ার নামে প্রায় ১০০ কোটি টাকা ঘুষ নেওয়ার গুরুতর অভিযোগে গ্রেফতার হলেন তামিলনাড়ুর প্রাক্তন শিক্ষামন্ত্রী ডিএমকে (DMK)-র প্রভাবশালী নেতা আনবিল মহেশ (Anbil Mahesh)। তিনি প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী স্ট্যালিনের রাজ্যসভার মন্ত্রী ছিলেন। মাদ্রাজ হাইকোর্টে (Madras High Court) তাঁর আগাম জামিনের আবেদন খারিজ হয়ে যাওয়ার কিছুক্ষণের মধ্যেই চেন্নাইয়ে তাঁকে নিজেদের হেফাজতে নেয় তদন্তকারী দল। এই হাইভোল্টেজ গ্রেফতারির ঘটনায় স্বভাবতই তোলপাড় তামিলনাড়ুর রাজনৈতিক মহল।

নেপথ্যে কী অভিযোগ?
তদন্তকারীদের নজরে ছিল তামিলনাড়ুর স্কুল শিক্ষা দফতরের বিভিন্ন বেসরকারি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের অনুমোদন দেওয়ার প্রক্রিয়া। অভিযোগ, একাধিক বেসরকারি স্কুলকে সরকারি মান্যতা ও ছাড়পত্র (Private school approvals) পাইয়ে দিতে নিয়মবহির্ভূতভাবে প্রভাব খাটানো হয়েছিল। অভিযোগ উঠেছে, এই গোটা চক্রের মাধ্যমে ধাপে ধাপে প্রায় ১০০ কোটি টাকার কাটমানি বা ঘুষের অর্থ (Rs 100 crore bribe) লেনদেন হয়েছিল। সেই দুর্নীতির জাল অনুসন্ধান করতে গিয়েই প্রাক্তন এই মন্ত্রীর সরাসরি যোগসূত্র খুঁজে পান তদন্তকারীরা।
আদালতের রক্ষাকবচ খারিজ হতেই পদক্ষেপ
গ্রেফতারি এড়াতে আদালতের দ্বারস্থ হয়েছিলেন আনবিল মহেশ। মাদ্রাজ হাইকোর্টে আগাম জামিনের (Anticipatory bail plea) আর্জি জানিয়ে তিনি দাবি করেন, তাঁর বিরুদ্ধে আনা অভিযোগ রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত। তবে মামলার নথি, আর্থিক লেনদেনের তথ্যপ্রমাণ এবং অভিযোগের গুরুত্ব খতিয়ে দেখে আদালত তাঁর আর্জি পত্রপাঠ নাকচ করে দেয়। আইনি রক্ষাকবচ সরে যেতেই আর কালবিলম্ব করেনি পুলিশ। চেন্নাই থেকেই তাঁকে দ্রুত পাকড়াও করা হয়।
রাজনৈতিক প্রতিক্রিয়া ও প্রভাব
আনবিল মহেশের গ্রেফতারি ডিএমকে নেতৃত্বের কাছে এক বিরাট অস্বস্তির কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে। তামিলনাড়ুর মুখ্যমন্ত্রী এম কে স্ট্যালিনের ঘনিষ্ঠ বৃত্তের নেতা হিসেবে পরিচিত মহেশ একসময় গুরুত্বপূর্ণ দফতরের দায়িত্বে ছিলেন। বিরোধী দলগুলি এই গ্রেফতারির পরপরই সুর চড়িয়েছে। তাদের অভিযোগ, রাজ্যের শিক্ষা ব্যবস্থাকে কাটমানির আখড়ায় পরিণত করা হয়েছিল। অন্যদিকে, শাসক শিবিরের একাংশের দাবি, রাজনৈতিক প্রতিহিংসার বশবর্তী হয়েই কেন্দ্রীয় ও বিরোধী শক্তির মদতে এমন পদক্ষেপ করা হচ্ছে।
শাসক শিবিরে তীব্র অস্বস্তি, বিরোধীদের সুর চড়া
বিরোধীরা ইতোমধ্যেই বিষয়টি নিয়ে ময়দানে নেমেছে। এআইএডিএমকে (AIADMK) ও বিজেপি নেতৃত্বের দাবি, গোটা রাজ্যজুড়ে শিক্ষা দফতরে দীর্ঘদিন ধরে যে সিন্ডিকেট রাজ চলছিল, এই গ্রেফতারি তারই হিমশৈলের চূড়ামাত্র। অন্যদিকে, ডিএমকে শিবিরের একাংশের বক্তব্য, এটি রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত পদক্ষেপ এবং দল আদালতে এর যোগ্য আইনি জবাব দেবে।
স্কুলের ছাড়পত্র পাইয়ে দেওয়ার এই বিপুল আর্থিক কেলেঙ্কারির জাল আর কতদূর বিস্তৃত এবং এই ১০০ কোটির লেনদেনে আর কারা যুক্ত ছিলেন, ধৃত নেতাকে জিজ্ঞাসাবাদের পর সেই তথ্যই এখন প্রকাশ্যে আসার অপেক্ষায়।
(দেশ, দুনিয়া, রাজ্য, কলকাতা, বিনোদন, খেলা, লাইফস্টাইল স্বাস্থ্য, প্রযুক্তির টাটকা খবর, আপডেট এবং ভিডিয়ো পেতে ডাউনলোড-লাইক-ফলো-সাবস্ক্রাইব করুন আমাদের App, Facebook, Whatsapp Channel, X (Twitter), Youtube, Instagram পেজ-চ্যানেল)