জি ২৪ ঘণ্টা ডিজিটাল ব্যুরো: হোটেলের করিডোর দিয়ে স্বামী ও হোটেলকর্মীর সঙ্গে শান্তভাবেই হেঁটে যাচ্ছিলেন তরুণী। ঘরের দরজার লক খুলতেই পা বাড়ালেন ভিতরে। কিন্তু ঠিক পাঁচ থেকে ছয় সেকেন্ডের মাথায় আচমকাই পিছন দিকে ছিটকে মেঝেতে আছড়ে পড়লেন তিনি। উল্টে পড়লেন দরজা আর চৌকাঠের মাঝে। চোখের পলকে নিথর হয়ে গেল শরীর। উত্তরপ্রদেশের ঝাঁসির এক হোটেলে ২৮ বছর বয়সি নববধূ মুসকান সিমৌলিয়ার এই আকস্মিক মৃত্যুর সিসিটিভি ফুটেজ (CCTV footage) প্রকাশ্যে আসতেই শোরগোল পড়ে গিয়েছে দেশজুড়ে। চার মাস আগে ঘটা করে হওয়া বিয়ের এমন করুণ ও রহস্যজনক পরিণতিতে পরিবার তো বটেই, হতবাক তদন্তকারীরাও।
ঠিক কী ঘটেছিল হোটেলের করিডোরে?
পুলিস সূত্রে জানা গিয়েছে, ঝাঁসির ধ্যানচাঁদ স্টেডিয়ামের উল্টোদিকে ‘ঋষভ হোটেল’-এ ঘটে এই রোমহর্ষক ঘটনা। ফুটেজে দেখা যাচ্ছে, মুসকান তাঁর স্বামী নীলেশ এবং এক হোটেলকর্মীর সঙ্গে ২১২ নম্বর রুমের দিকে এগিয়ে যান। দরজা খোলার কয়েক সেকেন্ডের মধ্যেই দরজার মুখেই উল্টে পড়ে যান তিনি। পরিস্থিতি বেগতিক দেখে স্বামী নীলেশ তাঁকে তুলে ঘরের ভেতর নিয়ে যান। পরে তড়িঘড়ি জেলা হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হলে চিকিৎসকেরা তাঁকে মৃত বলে ঘোষণা করেন (Declared dead on arrival)। স্বামীর দাবি, হোটেল থেকে চেক-আউট (Check-out) করার সময় হঠাৎ পা পিছলে পড়ে গিয়েছিলেন মুসকান।
গোপন বিয়ে ও বিশ্বাসভঙ্গের অভিযোগ
মুসকানের বাবা রামজি লাল আহিরওয়ারের বয়ান এই ঘটনায় এক মারাত্মক মোড় এনে দিয়েছে। তাঁর দাবি, এটি কোনও দুর্ঘটনা বা স্বাভাবিক মৃত্যু নয়-- সুপরিকল্পিত হত্যাকাণ্ড (Alleged murder)।
গোপন অতীত: পরিবারের অভিযোগ, নীলেশ পেশায় ব্যাংক ম্যানেজার হলেও বিয়ের আগে নিজের প্রথম পক্ষের স্ত্রীর কথা সম্পূর্ণ লুকিয়ে গিয়েছিলেন। ইন্দোরে তাঁর প্রথম সংসার রয়েছে জানার পর থেকেই দাম্পত্য কলহ চরমে ওঠে।
মিথ্যা বলে হোটেলে আনা: আগামী ২৮ অক্টোবর মুসকানের রেলের জুনিয়র ইঞ্জিনিয়ার নিয়োগের পরীক্ষা (Railway JE Exam) ছিল। সেই প্রস্তুতির জন্য তিনি বাপের বাড়িতেই ছিলেন। অভিযোগ, গত ২৩ অক্টোবর নীলেশ মাসির বাড়ি যাওয়ার অজুহাতে মুসকানকে বাড়ি থেকে বের করেন, কিন্তু পরে সোজা হোটেলে নিয়ে গিয়ে ওঠেন।
মাথায় আঘাত না আকস্মিক হার্ট অ্যাটাক?
হাসপাতালে মেয়ের নিথর দেহ দেখে কান্নায় ভেঙে পড়ে পরিবার। বাবার দাবি, মুসকানের মাথায় গভীর আঘাতের ক্ষত রয়েছে; তাঁকে দেওয়ালে ধাক্কা মেরে বা শ্বাসরোধ করে খুন করা হয়েছে। অন্যদিকে, চিকিৎসকদের একাংশ এবং প্রত্যক্ষদর্শীদের বক্তব্যে আকস্মিক হৃদরোগ (Sudden cardiac arrest) বা ব্রেন স্ট্রোকের তত্ত্বও সম্পূর্ণ উড়িয়ে দেওয়া যাচ্ছে না।
ঝাঁসি পুলিস ইতোমধ্যেই মৃতদেহ ময়নাতদন্তের (Post-mortem examination) জন্য পাঠিয়েছে এবং স্বামী নীলেশকে হেফাজতে নিয়ে জিজ্ঞাসাবাদ শুরু করেছে। পুলিসের বক্তব্য, সিসিটিভি ফুটেজে যুবতীর পড়ে যাওয়ার দৃশ্য ধরা পড়লেও, ঘরের ঠিক ভেতরে কী ঘটেছিল তা জানতে ফরেনসিক রিপোর্ট ও ময়নাতদন্তের চূড়ান্ত ফলাফলের দিকেই তাকিয়ে রয়েছে প্রশাসন।
(দেশ, দুনিয়া, রাজ্য, কলকাতা, বিনোদন, খেলা, লাইফস্টাইল স্বাস্থ্য, প্রযুক্তির টাটকা খবর, আপডেট এবং ভিডিয়ো পেতে ডাউনলোড-লাইক-ফলো-সাবস্ক্রাইব করুন আমাদের App, Facebook, Whatsapp Channel, X (Twitter), Youtube, Instagram পেজ-চ্যানেল)