জি ২৪ ঘণ্টা ডিজিটাল ব্যুরো: ভারতের নির্বাচনী ব্যবস্থার নিরপেক্ষতা নিয়ে শাসক-বিরোধী সংঘাত চরমে পৌঁছল। এবার খোদ দেশের মুখ্য নির্বাচন কমিশনার বা সিইসি (Chief Election Commissioner - CEC) জ্ঞানেশ কুমারের বিরুদ্ধে সরাসরি ‘জনতার আদালত’ বসাতে চলেছে বিরোধী ‘ইন্ডিয়া’ জোট (INDIA Bloc)। আগামী ৩০ অক্টোবর কংগ্রেস সভাপতি মল্লিকার্জুন খাড়গের দিল্লির বাসভবনে আয়োজিত হতে চলেছে এক প্রতীকী ‘গণ ইমপিচমেন্ট’ (Public Impeachment) এবং ছদ্ম সংসদ অধিবেশন বা মক পার্লামেন্ট (Mock Parliament)।
সংবিধান অনুযায়ী নির্বাচন কমিশনারকে সংসদীয় প্রক্রিয়ায় ইমপিচ করতে হয়, কিন্তু সংসদের বাইরে এই ধরণের অভিনব নাগরিক ও প্রতীকী বিচার ভারতীয় রাজনীতিতে কার্যত নজিরবিহীন।
১. কী এই প্রতীকী ইমপিচমেন্ট ও মক পার্লামেন্ট? (The Symbolic Trial Format)
কংগ্রেস সাধারণ সম্পাদক কে সি বেণুগোপাল জানিয়েছেন, এই কর্মসূচিতে প্রায় ২০০ জনের প্রতিনিধিদল অংশ নেবে। এতে কেবল বিরোধী সাংসদ বা শীর্ষ নেতারাই থাকবেন না, শামিল হবেন বিশিষ্ট আইনজীবী, অবসরপ্রাপ্ত বিচারপতি এবং নাগরিক সমাজের প্রতিনিধিরা (Civil Society Members)।
ভূমিকায় অভিনয় (Role Play): কর্মসূচিতে বাস্তব সংসদের আবহ তৈরি করতে কেউ সাজবেন সিইসি জ্ঞানেশ কুমার, কেউ প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী, আবার কেউবা অধিকার হারানো সাধারণ ভোটারের ভূমিকায় সওয়াল-জবাব করবেন।
অভিযোগনামা পেশ: নির্বাচন কমিশনের একতরফা ও পক্ষপাতদুষ্ট সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে তৈরি করা একটি সুনির্দিষ্ট অভিযোগপত্র বা চার্জশিট পাঠ করা হবে এবং বিতর্কের মাধ্যমে প্রতীকী ‘ইমপিচমেন্ট রায়’ ঘোষণা করা হবে।
২. মূল সংঘাতের কারণ: ভোটার তালিকা ও ‘এসআইআর’ বিতর্ক (The SIR Row)
বিরোধীদের এই চরম প্রতিবাদের মূল কেন্দ্রবিন্দু হল ভোটার তালিকার বিশেষ নিবিড় সংশোধন বা স্পেশাল ইনটেনসিভ রিভিশন (Special Intensive Revision - SIR)।
বিরোধীদের অভিযোগ, এই প্রক্রিয়ায় নিয়মবহির্ভূতভাবে কোটি কোটি ভোটারের নাম তালিকা থেকে বাদ দেওয়া হয়েছে, যাকে তারা সরাসরি ‘ভোট চুরি’ (Mass Disenfranchisement) আখ্যা দিয়েছে।
শীর্ষ আদালতে মামলা করার পাশাপাশি রাষ্ট্রপতি দ্রৌপদী মুর্মুর কাছে ডেপুটেশন দিয়ে বিরোধীরা দাবি তুলেছিলেন জ্ঞানেশ কুমারের পদত্যাগ এবং নির্বাচন কমিশনারদের আইনি দায়মুক্তি বাতিল করার।
৩. সংঘাতের ভেনু বদল
প্রাথমিকভাবে ৩০ অক্টোবরের এই কর্মসূচি দিল্লির ঐতিহ্যবাহী ‘অশোক হোটেল’ (Ashok Hotel)-এ করার পরিকল্পনা ছিল এবং অনুমতিও মিলেছিল। তবে কংগ্রেস নেতৃত্বের অভিযোগ, দিল্লি পুলিসের হস্তক্ষেপে শেষ মুহূর্তে বুকিং বাতিল করা হয়। এরপর ঐতিহাসিক রামলীলা ময়দানে স্থানান্তরের চেষ্টা করা হলেও অনুমতি মেলেনি। শেষমেশ বিরোধীরা লড়াইয়ের ময়দান হিসেবে বেছে নেন ১০, রাজাজি মার্গে অবস্থিত কংগ্রেস সভাপতি মল্লিকার্জুন খাড়গের সরকারি বাসভবন।
৪. বৃহত্তর আন্দোলনের মহড়া:
১ নভেম্বর রামলীলা সমাবেশ আর তার আগে ৩০ অক্টোবরের এই মক ইমপিচমেন্ট কেবল একটি বিচ্ছিন্ন ঘটনা নয়। বিরোধীদের পরিকল্পনা অনুযায়ী এটি আগামী ১ নভেম্বরের রামলীলা ময়দানের মহাসমাবেশের (Mega Rally) প্রবেশিকা বা কার্টেন-রেইজার (Curtain-Raiser)। এরপর নভেম্বর মাসের শেষভাগে দেশজুড়ে ‘দিল্লি চলো’ যাত্রার প্রস্তুতি নিচ্ছে ২১টি বিরোধী দল।
সংবিধানের ৩২৪ ধারা ও নির্বাচনী বিশ্বাসযোগ্যতা রক্ষার দাবিতে নির্বাচন কমিশনকে সরাসরি রাজনৈতিক কাঠগড়ায় দাঁড় করিয়ে জনমতকে সংঘবদ্ধ করাই এখন ইন্ডিয়া জোটের প্রধান রাজনৈতিক কৌশল।
(দেশ, দুনিয়া, রাজ্য, কলকাতা, বিনোদন, খেলা, লাইফস্টাইল স্বাস্থ্য, প্রযুক্তির টাটকা খবর, আপডেট এবং ভিডিয়ো পেতে ডাউনলোড-লাইক-ফলো-সাবস্ক্রাইব করুন আমাদের App, Facebook, Whatsapp Channel, X (Twitter), Youtube, Instagram পেজ-চ্যানেল)