জি ২৪ ঘণ্টা ডিজিটাল ব্যুরো: কাজখস্তানের আস্তানায় ইতিহাস লিখলেন মনীষা ভানওয়ালা। দীর্ঘ ৩৯ বছরের প্রতীক্ষার অবসান ঘটিয়ে ভারতের প্রথম মহিলা হিসেবে মনীষা বিশ্ব কুস্তি চ্যাম্পিয়নশিপে সোনা জিতলেন। ২৯ বছরের মনীষা ৫৯ কেজির রোমাঞ্চকর ফাইনালে পিছিয়ে থেকেও আমেরিকার অ্যাবিগেইল নেটকে ৮-৬ ব্যবধানে হারিয়েছেন। ২০১০ সালে সুশীল কুমারের পর দ্বিতীয় ভারতীয় হিসেবে কুস্তিতে বিশ্বজয় করলেন মনীষা।
অলিম্পিক্সে অন্তর্ভুক্ত নয় এমন এই ওজনের ক্যাটেগরিতে মনীষা তাঁর অভিযানের শুরুটা করেছিলেন রাউন্ড অফ সিক্সটিনে কানাডার লরেন্স বিউরেগার্ডকে ‘ভিক্টরি বাই ফল’ (প্রতিপক্ষকে পুরোপুরি কাবু করে জয়)-এর মাধ্যমে হারিয়ে। কোয়ার্টার ফাইনালে দেশের মেয়ে মঙ্গোলিয়ার বোলোর্তুয়া খুরেলখুকে ৬-০ ব্যবধানে উড়িয়ে দিয়েছিলেন। সেমিফাইনালে হরিয়ানার এই কুস্তিগির স্থানীয় ফেভারিট আলতিন শাগায়েভাকে ‘টেকনিক্যাল সুপিরিওরিটি’তে জয়ী হন। চলতি এই আসরে কুস্তিতে পদক জয়ী ভারতীয়দের তালিকায় মনীষা চতুর্থ। তাঁর আগে পদক জিতেছেন নীলম সিরোহি (রুপো ৫০ কেজি), কাজল ধোচাক (রুপো, ৭৬ কেজি) এবং তনু শর্মা (ব্রোঞ্জ, ৭২ কেজি)।
২৯ বছর বয়সে, আন্তর্জাতিক অঙ্গনে উঠে আসা অনেক কুস্তিগীরের তুলনায় মনীষা হতে পারেন বয়সে কিছুটা বড়। তবে এমন একটি খেলা, যেখানে শারীরিক ক্ষমতা, রিকভারি এবং দীর্ঘ বছরের প্রস্তুতি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে, সেখানে বয়স প্রায়শই আলোচনার বিষয় হয়ে উঠতে পারে। তবে মনীষা দেখিয়ে দিলেন যে, বয়স দিয়ে তাঁর কেরিয়ারকে সংজ্ঞায়িত করা যায় না। বয়স কেবলই এক সংখ্যা। দীর্ঘ অভিজ্ঞতাই তাঁকে একজন পূর্ণাঙ্গ কুস্তিগীর হিসেবে গড়ে তুলেছে।
১৯৯৭ সালের ১০ ফেব্রুয়ারি হরিয়ানার রোহতকে জন্ম মনীষার। তিনি অত্যন্ত আক্রমণাত্মক মেজাজের কুস্তিগির হিসেবেই পরিচিত এবং ম্যাচের মাঝপথে দ্রুত নিজের আত্মবিশ্বাস বাড়িয়ে প্রতিপক্ষকে কুপোকাত করতে একেবারে পারদর্শী। তাঁর মতে, কুস্তি হল 'তপস্যা'। আর সেই সাধনারই ফল পেলেন তিনি
(দেশ, দুনিয়া, রাজ্য, কলকাতা, বিনোদন, খেলা, বিজনেস, লাইফস্টাইল, কেরিয়ার, ইউটিলিটির টাটকা খবর, আপডেট এবং ভিডিয়ো পেতে ডাউনলোড-লাইক-ফলো-সাবস্ক্রাইব করুন আমাদের Facebook, Whatsapp Channel, X, Youtube, Instagram পেজ-চ্যানেল)