জি ২৪ ঘণ্টা ডিজিটাল ব্যুরো: বিগত কয়েক মাসে সর্বকালীন রেকর্ড গড়ার পর বুলিয়ান মার্কেটে (Bullion Market) অর্থাত্ সোনা-রুপোর দামে ভূমিকম্পের মতো ধস ধরল। ঐতিহাসিক শীর্ষ স্তর থেকে এক ধাক্কায় অনেকটা নেমে এসেছে সোনা ও রুপো, দুটো ধাতুরই দরই। আগের লাগাতার মূল্যবৃদ্ধির পর মূল্যবান ধাতুর এই হঠাৎ ধস সাধারণ গয়না ক্রেতা থেকে শুরু করে দীর্ঘমেয়াদী বিনিয়োগকারী-- সকলের মধ্যেই কৌতুহল ও বিভ্রান্তি তৈরি করেছে।
ঠিক কতটা পতন ঘটল বুলিয়ান বাজারে?
ঘরোয়া ও আন্তর্জাতিক বাজারে সাম্প্রতিক মাসে সোনা এবং রুপো যে অভাবনীয় দ্রুততায় উঠেছিল, সেখান থেকে এবার প্রবল চাপ এসেছে।
রেকর্ড উচ্চতার তুলনায় সোনার দামের বড় পতন লক্ষ্য করা গেছে, যা সাধারণ ক্রেতাদের কাছে স্বস্তির হলেও ট্রেডারদের জন্য চিন্তার কারণ।
৩রুপোর ক্ষেত্রে পতনের মাত্রা আরও মারাত্মক। রুপোর মতো শিল্পজাত ও অলঙ্কার ধাতুর দাম রেকর্ড স্তর থেকে এক ধাক্কায় অনেকটা নেমে এসেছে।
বাজার বিশেষজ্ঞদের মতে, এই ধরনের খাড়া পতনকে সাধারণত টেকনিক্যাল সংশোধন (Technical Correction) বলা হয়, যখন কোনও সম্পদ অতি-ক্রয় বা ‘ওভারবট’ (Overbought) জোনে পৌঁছানোর পর স্বাভাবিক ভারসাম্য ফিরে পায়।
কেন হুড়মুড়িয়ে কমছে সোনা-রুপোর দাম?
এই রক্তক্ষরণের পেছনে প্রধানত চারটি মূল কারণ সক্রিয় রয়েছে:
১. ব্যাপক মুনাফা তোলা (Massive Profit Booking): কিছুদিন আগে, সোনা ও রুপো লাগাতার সর্বকালীন রেকর্ড উচ্চতা স্পর্শ করায় প্রাতিষ্ঠানিক ও খুচরো বিনিয়োগকারীরা তাদের জমা থাকা মুনাফা তুলে নিতে শুরু করেন। বিক্রির চাপ (Selling Pressure) বাড়তেই দাম দ্রুত নামতে থাকে।
২. মার্কিন ডলার ও বন্ড ইল্ডের প্রভাব (Stronger US Dollar & Yields): আন্তর্জাতিক ক্ষেত্রে মার্কিন ডলারের শক্তি বৃদ্ধি পেলে সাধারণত বুলিয়ানের বাজারে উল্টো প্রভাব পড়ে। ডলার শক্তিশালী হলে আন্তর্জাতিক বাজারে সোনা কেনা তুলনামূলক ব্যয়বহুল হয়ে ওঠে, যার ফলে সরাসরি চাহিদায় টান পড়ে।
৩. ভূ-রাজনৈতিক উত্তেজনার সাময়িক শিথিলতা (Geopolitical De-escalation): যুদ্ধ বা ভূ-রাজনৈতিক সংকটের সময় সোনা ‘নিরাপদ আশ্রয়’ (Safe-Haven Asset) হিসেবে কাজ করে। সেই উত্তেজনার পারদ কিছুটা থিতিয়ে এলেই বিনিয়োগকারীরা সোনা ছেড়ে শেয়ার বা অন্যান্য ঝুঁকিপূর্ণ সম্পদে অর্থ ফেরাতে শুরু করেন।
৪. শিল্পক্ষেত্রে রুপোর চাহিদা নিয়ে উদ্বেগ (Industrial Demand Concerns): রুপো কেবল মূল্যবান ধাতুই নয়, ইলেকট্রনিক্স এবং সৌরশক্তিতে ব্যাপকভাবে ব্যবহৃত একটি শিল্প ধাতু। বিশ্বব্যাপী শিল্প উৎপাদনের গতি নিয়ে উদ্বেগ তৈরি হতেই রুপোর ওপর বাড়তি চাপ পড়েছে।
সাধারণ ক্রেতা ও বিনিয়োগকারীদের এখন কী করা উচিত?
বাজার বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, উৎসব বা বিয়ের মরসুমে গয়না কেনার জন্য এই পতন নিঃসন্দেহে একটি বড় সুযোগ এনে দিয়েছে। তবে বিনিয়োগের ক্ষেত্রে বিশেষজ্ঞদের পরামর্শ হল-- একসঙ্গে সব টাকা না ঢেলে ধাপে ধাপে বা এসআইপি (SIP) পদ্ধতিতে সোনা বা সভরিন গোল্ড বন্ড/ইটিএফ-এ (Gold ETF) বিনিয়োগ করা বুদ্ধিমানের কাজ হবে, কারণ বাজারে স্বল্পমেয়াদে আরও ওঠানামা (Volatility) বজায় থাকতে পারে।
(দেশ, দুনিয়া, রাজ্য, কলকাতা, বিনোদন, খেলা, লাইফস্টাইল স্বাস্থ্য, প্রযুক্তির টাটকা খবর, আপডেট এবং ভিডিয়ো পেতে ডাউনলোড-লাইক-ফলো-সাবস্ক্রাইব করুন আমাদের App, Facebook, Whatsapp Channel, X (Twitter), Youtube, Instagram পেজ-চ্যানেল)