জি ২৪ ঘণ্টা ডিজিটাল ব্যুরো: ধনতেরাস আর কালীপুজোর আগেই ধাতুর বাজারে বিরাট পতন। মাথায় হাত ব্যবসায়ীদের। প্রতি ১০ গ্রাম সোনার দাম এক ধাক্কায় প্রায় দেড় হাজার টাকা (₹১,৫০০) এবং রুপোর দর প্রতি কেজিতে এক লাফে প্রায় সাত হাজার টাকা (₹৭,০০০) কমে গেছে। বিয়ের মরসুমের মুখে বা উৎসবের আবহে এই দরপতন সাধারণ ক্রেতাদের মুখে হাসি ফোটালেও কপালে ভাঁজ ফেলেছে লগ্নিকারীদের। কিন্তু কেন হঠাৎ এই ধস? লক্ষ্মীপুজোর আগে লক্ষ্মীধাতুতে এই দামের পতন কি অশুভ ইঙ্গিত?
সোনা-রুপোর দাম কমার মূল কারণগুলো কী কী
সাধারণত বিনিয়োগকারীরা সোনাকে মূল্যবৃদ্ধির বিরুদ্ধে ‘নিরাপদ আশ্রয়’ বা সেফ-হেভেন (Safe Haven Asset) হিসেবে বিবেচনা করেন। তবে বর্তমান পতনের নেপথ্যে কাজ করছে বিশ্ব অর্থনীতির ত্রিভুজ সমীকরণ:
১. উদ্বেগ বাড়াচ্ছে অপরিশোধিত তেল (Soaring Crude Oil)
পশ্চিম এশিয়ায় সামরিক উত্তেজনা ও ভূ-রাজনৈতিক অস্থিরতার জেরে ব্রেন্ট ও ডব্লিউটিআই ক্রুড অয়েল (Brent & WTI Crude Oil) লাফিয়ে বাড়ছে। আন্তর্জাতিক বাজারে অপরিশোধিত তেলের দাম ১০০ ডলারের কাছাকাছি ঘোরাফেরা করায় বিশ্বজুড়ে ফের মূল্যস্ফীতি বা ইনফ্লেশন (Inflation)-এর ভয় দানা বাঁধছে।
২. মার্কিন ফেডের সুদের হার কমানোর পথ বন্ধ (Rate Hike Bets)
তেলের দাম বাড়লে সব পণ্যের পরিবহন ও উৎপাদন খরচ বাড়ে, যার সোজা প্রভাব পড়ে মুদ্রাস্ফীতিতে। এই পরিস্থিতি রুখতে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের কেন্দ্রীয় ব্যাঙ্ক ফেডারেল রিজার্ভ (US Federal Reserve) শিগগিরই সুদের হার কমাবে না, বরং উল্টে দীর্ঘ সময় চড়া সুদ বজায় রাখতে কিংবা ফের বাড়াতে পারে-- এমন আশঙ্কা জোরালো হয়েছে।
৩. ডলার ইনডেক্স ও বন্ড ইল্ডের শক্তি (Strong Dollar & Bond Yields)
সুদের হার দীর্ঘদিন চড়া থাকার আশঙ্কায় মার্কিন ডলার সূচক (Dollar Index - DXY) এবং মার্কিন ট্রেজারি ইল্ড (US Treasury Yield) অনেকটাই শক্তিশালী হয়েছে। সোনা বা রুপো রাখলে কোনও সুদ বা ডিভিডেন্ড পাওয়া যায় না (Non-yielding Asset)। ফলে বন্ড থেকে বেশি নিশ্চিত রিটার্ন মিললে বড় প্রাতিষ্ঠানিক বিনিয়োগকারীরা সোনা-রুপো বিক্রি করে ডলার ও সরকারি সিকিউরিটিতে টাকা সরাতে শুরু করেন।
রুপোয় কেন সোনার চেয়ে বেশি পতন?
সোনার দাম যেখানে ১ শতাংশের কিছু বেশি পড়েছে, সেখানে রুপো ধসেছে অনেক বেশি। এর কারণ রুপোর দ্বিমুখী চরিত্র। রুপোয় শুধু বিনিয়োগ করে না মানুষ, রুপো খুবই গুরুত্বপূর্ণ শিল্প কাজে ব্যবহৃত ধাতু (Industrial Metal)। সৌর প্যানেল, বৈদ্যুতিন গাড়ি ও চিপ তৈরিতে প্রচুর রুপো লাগে। বৈশ্বিক সুদের হার বেশি থাকলে এবং জ্বালানির দাম বাড়লে শিল্প উৎপাদন ও অর্থনৈতিক বৃদ্ধি মন্থর (Economic Slowdown) হওয়ার আশঙ্কা তৈরি হয়, যার সরাসরি নেতিবাচক প্রভাব পড়ে রুপোর চাহিদায়।
এখন কি পুরনো ধাতু বিক্রি করে দেওয়ার সময়?
বিশেষজ্ঞ ও বাজার বিশ্লেষকদের মতে, এই পতন দীর্ঘমেয়াদি বুল রান (Bull Run)-এর মাঝে একটি স্বাভাবিক কারেকশন (Market Correction)
স্বল্পমেয়াদি ট্রেডার (Short-Term Traders)
তেলের দামের অস্থিরতা না কমা পর্যন্ত বাজারে অতিরিক্ত চাপানউতোর (Volatility) থাকবে। তাই নতুন করে কেনাবেচা না করাই বুদ্ধিমানের কাজ।
দীর্ঘমেয়াদি বিনিয়োগকারী (Long-Term Investors)
ভূ-রাজনৈতিক অস্থিরতা এবং বিশ্বজুড়ে কেন্দ্রীয় ব্যাংকগুলোর সোনা মজুত রাখার প্রবণতা এখনও বজায় রয়েছে। ফলে এই জাতীয় বড় পতন আসলে ধাপে ধাপে সোনা বা গোল্ড ইটিএফ (Gold ETF/Sovereign Gold Bonds)-এ নতুন করে কেনার সুযোগ (Buy on Dips)। আতঙ্কিত হয়ে বিক্রি (Panic Selling) করার প্রয়োজন নেই।
(দেশ, দুনিয়া, রাজ্য, কলকাতা, বিনোদন, খেলা, লাইফস্টাইল স্বাস্থ্য, প্রযুক্তির টাটকা খবর, আপডেট এবং ভিডিয়ো পেতে ডাউনলোড-লাইক-ফলো-সাবস্ক্রাইব করুন আমাদের App, Facebook, Whatsapp Channel, X (Twitter), Youtube, Instagram পেজ-চ্যানেল)