জি ২৪ ঘণ্টা ডিজিটাল ব্যুরো: ভারতের কোটি কোটি অ্যান্ড্রয়েড স্মার্টফোন ব্যবহারকারীর জন্য বড় সতর্কবার্তা জারি করেছে কেন্দ্রীয় সরকার। কেন্দ্রীয় ইলেকট্রনিক্স ও তথ্যপ্রযুক্তি মন্ত্রকের সাইবার নিরাপত্তা সংস্থা ‘সার্ট-ইন’ (CERT-In বা Indian Computer Emergency Response Team) অ্যান্ড্রয়েড অপারেটিং সিস্টেমে একাধিক মারাত্মক নিরাপত্তার ঘাটতি রয়েছে। কেন্দ্রীয় সংস্থার পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, এই ত্রুটিগুলোর সুযোগ নিয়ে হ্যাকাররা ব্যবহারকারীর অজান্তেই ডিভাইসের সব তথ্য জেনে যাচ্ছে আর অ্যাকাউন্ট থেকে শুরু করে গুগল ক্লাউড স্টোরেজ সবকিছুর গোপন তথ্যের পূর্ণ নিয়ন্ত্রণ নিজেরা নিয়ে সাধারণ মানুষের জীবন অতিষ্ঠ করে দিচ্ছে।
কী এই নিরাপত্তার অভাব এবং এর প্রভাব?
সার্ট-ইন-এর রিপোর্ট অনুযায়ী, অ্যান্ড্রয়েড অপারেটিং সিস্টেমের ফ্রেমওয়ার্ক, সিস্টেম কোর, গুগল প্লে সিস্টেম এবং বিভিন্ন থার্ড-পার্টি প্রসেসর কম্পোনেন্টের (যেমন আর্ম, কোয়ালকম ও ইমেজিনেশন টেকনোলজিস) মধ্যে এই ফাঁকফোকর দেখা দিয়েছে।
সাইবার বিশেষজ্ঞরা জানাচ্ছেন, কোনও সাইবার আক্রমণকারী বা হ্যাকার যদি এই ত্রুটিগুলো কাজে লাগায়, তবে তারা কী কী ক্ষতি করতে পারে?
ডিভাইসের পূর্ণ নিয়ন্ত্রণ (Privilege Escalation): হ্যাকাররা স্বাভাবিক সুরক্ষা বলয় ভেঙে ডিভাইসের অ্যাডমিনিস্ট্রেটিভ বা রুট অ্যাক্সেস হাতিয়ে নিতে পারে।
দূরের নিয়ন্ত্রণ ও ক্ষতিকারক কোড চালানো (Remote Code Execution): ব্যবহারকারী কোনও অজানা লিংকে ক্লিক করলেই ফোনে গোপনে ম্যালওয়্যার বা স্পাইওয়্যার ইনস্টল করা সম্ভব।
ব্যক্তিগত তথ্য ও আর্থিক চুরি: ফোনের গ্যালারি, ব্যক্তিগত চ্যাট, কন্টাক্ট নম্বর ছাড়াও ব্যাংকিং ও ইউপিআই অ্যাপের স্পর্শকাতর তথ্য চুরি হতে পারে।
ডিভাইস অকেজো করা: রিমোট কমান্ডের মাধ্যমে ফোন বন্ধ করে দেওয়া বা পুরোপুরি 'ডিনায়েল অব সার্ভিস' (DoS) সৃষ্টি করা।
কোন কোন অ্যান্ড্রয়েড সংস্করণে বেশি ঝুঁকিতে?
বিজ্ঞপ্তি অনুযায়ী, অ্যান্ড্রয়েডের একাধিক জনপ্রিয় সংস্করণ এই ত্রুটির শিকার। বিশেষ করে অ্যান্ড্রয়েড ১৪, ১৫, ১৬ এবং ১৭ সংস্করণে চলা ডিভাইসগুলো এই মারাত্মক নিরাপত্তার অভাবে রয়েছে।
স্যামসাং, শাওমি, রিয়েলমি, ওপ্পো, ভিভো, ওয়ানপ্লাস এবং গুগল পিক্সেল-সহ দেশের সিংহভাগ ব্র্যান্ডের স্মার্টফোন ও অ্যান্ড্রয়েড চালিত স্মার্ট টিভি বা ট্যাবলেটে এই ঝুঁকি কার্যকর হতে পারে।
আপনি নিরাপদ তো? কী ভাবে সুরক্ষিত থাকবেন?
বিশেষজ্ঞরা সতর্ক করে জানিয়েছেন, যে সমস্ত ফোনে সর্বশেষ সিকিউরিটি প্যাচ ইনস্টল করা নেই, সেগুলিই হ্যাকারদের প্রধান নিশানা। এই পরিস্থিতিতে ব্যবহারকারীদের অবিলম্বে কয়েকটি সুরক্ষামূলক পদক্ষেপ গ্রহণ করার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে:
১. তাৎক্ষণিক সিস্টেম আপডেট: ফোনের 'Settings' > 'System' > 'Software Update' বা 'Security Update'-এ গিয়ে দেখে নিন কোনও নতুন আপডেট এসেছে কি না। আপডেট পাওয়া মাত্রই ফোনটি আপডেট করে নিন।
২. অজানা সোর্স থেকে অ্যাপ ইনস্টল নয়: গুগল প্লে স্টোরের বাইরে কোনও থার্ড-পার্টি ওয়েবসাইট বা 'এপিকে' (APK) ফাইল ডাউনলোড করে অ্যাপ ইনস্টল করা থেকে বিরত থাকুন।
৩. সন্দেহজনক লিংকে ক্লিক এড়িয়ে চলুন: হোয়াটসঅ্যাপ, এসএমএস বা ইমেলে আসা কোনও অচেনা বা প্রলোভনমূলক লিংকে ক্লিক করবেন না।
৪. প্লে প্রটেক্ট সক্রিয় রাখুন: গুগল প্লে স্টোরের সেটিংসে গিয়ে 'Play Protect' চালু রয়েছে কি না তা নিশ্চিত করুন। এটি ক্ষতিকারক অ্যাপ স্ক্যান করতে সাহায্য করে।
৫. অ্যাপের অনুমতি (App Permissions) খতিয়ে দেখুন: অপ্রয়োজনীয় কোনও অ্যাপ ক্যামেরা, মাইক্রোফোন বা স্টোরেজের পারমিশন চাইছে কি না তা নজর রাখুন।
স্মার্টফোন এখন মানুষের দৈনন্দিন জীবন ও আর্থিক লেনদেনের অবিচ্ছেদ্য অংশ। তাই সরকারের এই সতর্কবার্তা উপেক্ষা না করে অবিলম্বেই নিজের হাতের ফোন আপডেট ও সুরক্ষিত রাখার পরামর্শ দিচ্ছেন সাইবার বিশেষজ্ঞরা।
(দেশ, দুনিয়া, রাজ্য, কলকাতা, বিনোদন, খেলা, লাইফস্টাইল স্বাস্থ্য, প্রযুক্তির টাটকা খবর, আপডেট এবং ভিডিয়ো পেতে ডাউনলোড-লাইক-ফলো-সাবস্ক্রাইব করুন আমাদের App, Facebook, Whatsapp Channel, X (Twitter), Youtube, Instagram পেজ-চ্যানেল)