জি ২৪ ঘণ্টা ডিজিটাল ব্যুরো: প্রধান নির্বাচন কমিশনার (Chief Election Commissioner বা CEC) জ্ঞানেশ কুমারের বিরুদ্ধে ‘পাবলিক ইমপিচমেন্ট’ (Public Impeachment) বা প্রতীকী সংসদ (Mock Parliament) কর্মসূচি শেষ মুহূর্তে পিছিয়ে দিল বিরোধী ‘ইন্ডিয়া’ জোট (INDIA Bloc)। শুক্রবার সকাল ১০টায় কংগ্রেস সভাপতি মল্লিকার্জুন খাড়্গের দিল্লির বাসভবনে এই অধিবেশন হওয়ার কথা থাকলেও, দিল্লিতে প্রবল বৃষ্টির জেরে দিনক্ষণ পালটে দেওয়া হয়। জোটের নেতাদের পাশে নিয়ে লোকসভার বিরোধী দলনেতা রাহুল গান্ধী জানিয়েছেন, শুক্রবারের বদলে এই কর্মসূচি আগামিকাল, অর্থাৎ শনিবার হবে।
কেন এই প্রতীকী ইমপিচমেন্টের ডাক?
বিরোধীদের মূল ক্ষোভ জাতীয় নির্বাচন কমিশনের সাম্প্রতিক ভূমিকা নিয়ে। বিশেষ করে ভোটার তালিকার এসআইআর (Special Intensive Revision বা SIR) প্রক্রিয়ায় বহু বৈধ ভোটারের নাম বাদ পড়ার গুরুতর অভিযোগ তুলেছে বিরোধীরা। কংগ্রেস ও ইন্ডিয়া জোটের দাবি-- নির্বাচনী প্রক্রিয়ায় স্বচ্ছতা তলানিতে ঠেকেছে এবং শাসক শিবিরের মদতে কার্যত ‘ভোট চুরি’ হচ্ছে। প্রধান নির্বাচন কমিশনার এই উদ্বেগের প্রতিকার করতে ব্যর্থ হয়েছেন অভিযোগ তুলে তাঁর প্রতীকী অপসারণের দাবি তুলেছেন বিরোধী নেতারা।
আইনি জটিলতা এড়াতে কাঠামোগত রদবদল
সংসদ অবমাননা (Contempt of Parliament) বা কোনও আইনি বিতর্কে যাতে শাসক দল সুযোগ না পায়, তার জন্য শুরুতেই কৌশলী পদক্ষেপ নিয়েছে ইন্ডিয়া ব্লক:
১. কর্মসূচির নাম বদলে রাখা হয়েছে ‘পিপলস ইমপিচমেন্ট’ (People's Impeachment)।
২. লোকসভার প্রাক্তন স্পিকার মীরা কুমার এই প্রতীকী অধিবেশনের স্পিকারের ভূমিকা পালন করবেন।
৩. তবে কোনও ‘ট্রেজারি বেঞ্চ’ (Treasury Bench) বা সরকারি পক্ষের কোনও প্রতীকী সদস্য রাখা হচ্ছে না।
বিতর্কের সূচনা করবেন রাজ্যসভার বিরোধী দলনেতা মল্লিকার্জুন খাড়গে এবং শেষ বক্তব্য রাখবেন রাহুল গান্ধী।
সামাজিক মাধ্যমে প্রচার
এই মক পার্লামেন্ট ঘিরে নাটক কম হয়নি। প্রথমে দিল্লির অশোকা হোটেল এবং পরে রামলীলা ময়দানে এই সমাবেশের অনুমতি না পেয়ে শেষমেশ ১০, রাজাজি মার্গে খাড়গের বাসভবনকেই বেছে নেওয়া হয়। কিন্তু সেখানেও জল ঢালে দিল্লির বৃষ্টি। তৃণমূল কংগ্রেসের রাজ্যসভার দলনেতা ডেরেক ও'ব্রায়েন জানান, জোট সম্পূর্ণ ঐক্যবদ্ধ রয়েছে। শনিবারের এই প্রতীকী অধিবেশনের পূর্ণাঙ্গ ভিডিয়ো পরবর্তীতে সামাজিক মাধ্যমে তুলে ধরা হবে যাতে দেশজুড়ে বার্তা দেওয়া যায়।
রামলীলা ময়দানে ‘দিল্লি চলো’
প্রতীকী সংসদ পর্ব মিটলেই থামছে না বিরোধীদের লড়াই। আগামী ১ নভেম্বর ঐতিহাসিক রামলীলা ময়দানে ‘দিল্লি চলো’ (Dilli Chalo Rally) ডাক দিয়েছে কংগ্রেস ও বিরোধী শিবির। সেখানে অন্তত ১০ লক্ষ নাগরিক, ছাত্রসমাজ ও সাধারণ মানুষকে সামিল করে জাতীয় স্তরে কমিশনের বিরুদ্ধে আন্দোলনের ঝাঁঝ বাড়ানোর পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে।
(দেশ, দুনিয়া, রাজ্য, কলকাতা, বিনোদন, খেলা, লাইফস্টাইল স্বাস্থ্য, প্রযুক্তির টাটকা খবর, আপডেট এবং ভিডিয়ো পেতে ডাউনলোড-লাইক-ফলো-সাবস্ক্রাইব করুন আমাদের App, Facebook, Whatsapp Channel, X (Twitter), Youtube, Instagram পেজ-চ্যানেল)