জি ২৪ ঘণ্টা ডিজিটাল ব্যুরো: ২ নভেম্বর ভীষণ স্পেশ্য়াল তাঁর সারা বিশ্বের ভক্তদের কাছে। কারণ ১৯৬৫ সালের এই তারিখেই নয়াদিল্লির রাজেন্দ্রনগরে জন্মেছিলেন শাহরুখ খান। আর আজ ৬১ বছরে পা দিলেন 'কিং'! আপনি কি শাহরুখের কট্টর ভক্ত? মানে ওই 'জাবরা ফ্যান' যাকে বলে! তাহলে আপনি পরোক্ষ ভাবে হলেও তাঁর জীবনের একটি রোম্যান্টিক অধ্যায় অনুভব করার সুযোগ পেতে পারেন! চাইলেই সম্ভব। অনেকেই হয়তো জানেন না যে, শাহরুখ কিন্তু হানিমুনে গৌরী খানকে নিয়ে বিদেশের কোনও এক্সটিক লোকেশনে যাননি। এসেছিলেন এই বাংলায়! হ্যাঁ, ঠিকই পড়লেন। ১৯৯১ সালের ২৫ অক্টোবর বিয়ে করেছিলেন শাহরুখ-গৌরী। আর তার এক মাসের মধ্যে তাঁরা গিয়েছিলেন মধুচন্দ্রিমায়। বেছে নিয়েছিলেন পাহাড়ের রানি দার্জিলিং। আর শাহরুখ-গৌরী যে হোটেলে উঠেছিলেন, সেই হোটেলে কিন্তু আপনিও চাইলে থাকতে পারেন দার্জিলিং ঘুরতে গিয়ে। কি যাবেন? কোথায় রয়েছে সেই হোটলে? এক রাতের খরচই বা কত? রইল সুলুকসন্ধান।
অর্থাভাবে প্যারিসের বদলে দার্জিলিং
২০১৯ সালের এক অ্যাওয়ার্ড শোয়ে শাহরুখ কথা বলেছিলেন হানিমুন নিয়ে। গৌরীকে প্যারিসে ঘোরানোর প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলেন শাহরুখ। কিন্তু অর্থাভাবে বিমান টিকিটের খরচ জোগানোর সামর্থ্য তাঁর ছিল না। ‘রাজু বন গয়া জেন্টলম্যান’ সিনেমার একটি গানের শুটিংয়ের জন্য যখন তিনি দার্জিলিং যান, তখন গৌরীকেও সঙ্গে নিয়ে গিয়েছিলেন এবং মজা করে তাঁকে বলেছিলেন যে, তাঁরা প্যারিসেই আছেন। তিন দশকেরও বেশি সময় পেরিয়ে গেলেও, এই ঘটনাটি আজও তাঁদের অসাধারণ প্রেমের গল্পের পাতা হয়েই আছে। আর যাঁরা হানিমুনে দার্জিলিংয়ে যাওয়ার প্ল্যান করেছেন তাঁরা থাকতেই পারেন শাহরুখ-গৌরীর থেকে যাওয়া সেই হেরিটেজ হোটেলে।
আরও পড়ুন: ঘুমের মধ্যেই খিঁচুনি, আর ওঠা হল না! মাত্র ৩৩ বছর বয়সেই মৃত্যু জনপ্রিয় অভিনেতার, আকস্মিকতায় শোকস্তব্ধ ইন্ডাস্ট্রি
কোন হোটেলে ছিলেন শাহরুখ-গৌরী?
এসআরকে হানিমুনের জন্য বেছে নিয়েছিলেন 'দ্য এলগিন, দার্জিলিং - হেরিটেজ রিসোর্ট অ্যান্ড স্পা'। এই ফাইফস্টার হোটেলের ঠিকানা- ১৮ এইচডি লামা রোড। ১৮৮৭ সালে তৈরি হওয়ার এই হোটেল আসলে ছিল কোচবিহারের মহারাজার এক প্রাসাদ। বর্তমানে যা দার্জিলিংয়ের প্রাণকেন্দ্রের এক হেরিটেজ হোটেল হিসেবে। যেখানে ঔপনিবেশিক যুগের ইতিহাসের আমেজে সময় কাটানো যায়। হোটেলে এখনও পুরোনো দিনের অনেক বৈশিষ্ট্য রয়েছে—যেমন পালিশ করা কাঠের মেঝে, প্রাচীন আসবাবপত্র, ঐতিহ্যবাহী অন্দরসজ্জা এবং ফায়ারপ্লেস। হোটেলের লোকেশন ও স্থাপত্যশৈলী সমসাময়িক হোটেলগুলির তুলনায় সম্পূর্ণ ভিন্ন এক অভিজ্ঞতা দেয়। যারা ঐতিহ্যবাহী পরিবেশে থাকতে ভালোবাসেন, তাঁদের কাছে এই হোটেলের আকর্ষণ কেবলই থাকার জায়গাতে সীমাবদ্ধ নয়, বরং এর সামগ্রিক পরিবেশেও নিহিত। দ্য এলগিনে পুরোনো পাহাড়ি এলাকার বাসভবনের বৈশিষ্ট্য এবং আধুনিক হোটেলের সুযোগ-সুবিধার এক চমৎকার সমন্বয় ঘটেছে। শুধু শাহরুখ খানই নন, ফরাসি লেখক ডমিনিক লাপিয়ের, সাংবাদিক ও লেখক মার্ক টালি এবং মডেল-অভিনেতা মিলিন্দ সোমানও এখানে থেকেছেন।
দ্য এলগিনে থাকার খরচ কত?
আপনি যদি দার্জিলিং যাওয়ার প্ল্যান করে থাকেন, তবে দ্য এলগিনের ভাড়া রুমের ধরন, ভ্রমণের তারিখ এবং মিল প্ল্যানের উপর ভিত্তি করে ভিন্ন হতে পারে। অনলাইনে বিভিন্ন হোটেল বুকিং ওয়েবসাটইের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, নভেম্বর-ডিসেম্বর মাসে এখানে থাকার খরচ ১২০০০ থেকে ১৫০০০ টাকার মধ্যে। বুকিং করার আগে অবশ্যই হোটেলের অফিসিয়াল ওয়েবসাইট থেকে সর্বশেষ ভাড়া যাচাই করে নেওয়া উচিত। এই হোটেলে ডিলাক্স রুম, অ্যাটিক রুম এবং স্যুট-সহ বিভিন্ন ধরনের রুম রয়েছে। চূড়ান্ত খরচ নির্ভর করবে আপনি কোন ধরনের রুম নির্বাচন করছেন এবং বুকিংয়ের সঙ্গে কী কী সুবিধা অন্তর্ভুক্ত রয়েছে তার উপর।
(দেশ, দুনিয়া, রাজ্য, কলকাতা, বিনোদন, খেলা, বিজনেস, লাইফস্টাইল, কেরিয়ার, ইউটিলিটির টাটকা খবর, আপডেট এবং ভিডিয়ো পেতে ডাউনলোড-লাইক-ফলো-সাবস্ক্রাইব করুন আমাদের Facebook, Whatsapp Channel, X, Youtube, Instagram পেজ-চ্যানেল)