দীপাবলির উপহার! রাজ্যে চাকরির জোয়ার; মহিলাদের নিয়োগ নিয়ে শিল্পনীতিতে বিরাট ঘোষণা মুখ্যমন্ত্রীর
West Bengal Industrial Policy 2026: ১ এপ্রিল থেকে রাজ্য়ে কার্যকর হতে চলেছে নয়া শিল্পনীতি।
কমলাক্ষ ভট্টাচার্য: বদলের বাংলায় এবার শিল্পনীতি। লক্ষ্মীবারে 'লক্ষ্য' স্থির। চাকরিতে জোর, মহিলা নিয়োগে বাড়তি সুবিধা। রাজ্যের শিল্পনীতি ঘোষণা করলেন মুখ্য়মন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। ১ এপ্রিল থেকে কার্যকর হতে চলেছে এই নীতি।
পশ্চিমবঙ্গের নতুন শিল্প নীতি ২০২৬
সবার আগে কর্মসংস্থান
--
যোগ্যকর্মীদের জন্য নিয়োগকর্তা দেওয়া EPF-র একাংশ ফেরত দেবে রাজ্য। মহিলাদের কর্মসংস্থানের জন্য সুবিধা দেবে সবচেয়ে বেশি।
এমএসএমই-তে মহিলা ও রূপান্তরকামী কর্মীদের জন্য ১০০ শতাংশ, ১০ বছর যাবৎ (পুরুষদের জন্য ৫০ শতাংশ)
২০০-র বেশি কর্মী আছে এমন পরিষেবা ইউনিটে মহিলাদের জন্য ৭৫ শতাংশ, ৫ বছর যাবৎ (পুরুষদের জন্য ৫০ শতাংশ)
অগ্রাধিকার এলাকায় অন্তত ২০০ জন বা অন্যত্র ৪০০ জন কর্মী আছে এমন বৃহৎ ইউনিট ও মেগা প্রকল্পে ৫০ শতাংশ, ৫ বছর যাবৎ
সংস্থাগুলিকে নতুন কর্মসংস্থান যোগ করতে হবে, এবং কর্মরত মহিলাদের হোস্টেলের জন্য রাজ্য অনুদান দিতে পারে।
কারা আওতাভুক্ত?
ক্ষুদ্র, ছোট ও মাঝারি উদ্যোগ (এমএসএমই), বৃহৎ ইউনিট, কৌশলগত ও মেগা প্রকল্প, পরিষেবা ইউনিট - আইটি, স্বাস্থ্যসেবা, পর্যটন, আর্থিক পরিষেবা, শিক্ষা ইত্যাদি, বর্তমান ইউনিট যারা সম্প্রসারণ বা বৈচিত্র্যকরণ করতে চায়, অলাভজনক প্রতিষ্ঠান এবং রুগ্ন বা বন্ধ ইউনিট - সবাই এই নীতির আওতায় আসবে।
কত টাকা সহায়তা পাওয়া যাবে?
কোনও ইউনিট মোট কত সহায়তা পাবে, তার ঊর্ধ্বসীমা স্থির হবে প্ল্যান্ট ও যন্ত্রপাতিতে তার বিনিয়োগের অনুপাতে।
--
সাধারণ ইউনিট: ১০০ শতাংশ
থ্রাস্ট সেক্টর ইউনিট অথবা অগ্রাধিকার এলাকার সাধারণ ইউনিট: ১১০ শতাংশ
অগ্রাধিকার এলাকার থ্রাস্ট সেক্টর ইউনিট: ১২০ শতাংশ
সহায়তা ঊর্ধ্বসীমায় পৌঁছালে, অথবা উৎপাদন শুরুর ১০ বছর পরে, যেটি আগে হোক, সহায়তা বন্ধ হবে। পরিষেবা ইউনিট সহায়তা পাবে ৫ বছর। কৌশলগত ও মেগা প্রকল্পের জন্য বেশি সহায়তা অনুমোদন করা যেতে পারে।
উৎপাদন ও পরিষেবা ইউনিটের জন্য আলাদা সুবিধা
উৎপাদনকারী ইউনিট পাবে SGST-এর ক্ষেত্রে আর্থিক সহায়তা, ৫ বছর পর্যন্ত বিদ্যুৎ শুল্ক প্রতিপূরণ, জমির ক্ষেত্রে স্ট্যাম্প ডিউটি প্রতিপূরণ, গবেষণা ও উন্নয়নে সহায়তা। MSME-র জন্য থাকছে ঋণের সুদ ও নতুন প্রযুক্তিতে সহায়তা।
পরিষেবা ইউনিট পাবে ৫ বছরের জন্য SGST সহায়তা, EPF সহায়তা, বিদ্যুৎ শুল্ক প্রতিপূরণ এবং লিজ নেওয়া জায়গার জন্য ভাড়ার সহায়তা। তবে কোনও ইউনিট এই দুই ধরনের সুবিধার মধ্যে যেকোনও একটাই নিতে পারবে।
অগ্রাধিকার এলাকা ও থ্রাস্ট সেক্টর
রাজ্যের কম শিল্পায়িত মহকুমাগুলিই অগ্রাধিকার এলাকা। এখানে বেশি ঊর্ধ্বসীমা, EPF-এ বেশি সহায়তা, কৌশলগত পার্ক এবং পরিষেবা ইউনিটগুলির জন্য অতিরিক্ত সুবিধা দেওয়া হবে। তালিকাটি প্রতি তিন বছরে পর্যালোচনা করা হবে।
থ্রাস্ট সেক্টরে রয়েছে সেমিকন্ডাক্টর ও ইলেকট্রনিক্স, গ্রিন হাইড্রোজেন ও বর্জ্য থেকে বিদ্যুৎ, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা প্রযুক্তি, বৈদ্যুতিক যান ও ব্যাটারি, প্রতিরক্ষা, খাদ্য ও সামুদ্রিক পণ্য প্রক্রিয়াকরণ, বায়োটেক, ফার্মা ও চিকিৎসা সরঞ্জাম, তথ্যপ্রযুক্তি, অটোমোবাইল উৎপাদন, গবেষণা ও উন্নয়ন, স্পেশালিটি স্টিল, পেট্রোকেমিক্যালস, বিমান শিল্প, জাহাজ নির্মাণ ও মেরিটাইম প্রশিক্ষণ।
মেগা প্রকল্প ও অলাভজনক প্রতিষ্ঠান
কৌশলগত ও মেগা প্রকল্পগুলি প্রকল্পভিত্তিক বিশেষ সুবিধার জন্য আবেদন করতে পারে। বিনিয়োগের পরিমাণ, কৌশলগত ক্ষেত্র এবং একর প্রতি অন্তত ২০টি কর্মসংস্থান - এই তিনটি শর্তের দুটি পূরণ করলেই প্রকল্পটি যোগ্য হবে। অত্যন্ত বড় প্রকল্পগুলি রাস্তা, জল ও বিদ্যুৎ সংযোগের জন্যও সহায়তা পেতে পারে।
অলাভজনক প্রতিষ্ঠান যেমন হাসপাতাল, মেডিক্যাল কলেজ, বিশ্ববিদ্যালয় - তাদের রাজ্যে অন্তত ১০০ কোটি টাকা বিনিয়োগ করতে হবে। বিনিময়ে তারা ১০০ শতাংশ পর্যন্ত স্ট্যাম্প ডিউটি ছাড়, জমির চরিত্র বদল ফি মকুব এবং নেট মিটারিং-এর মতো অধিক সুবিধা পাবে।
আরও পড়ুন: 'নতুন কাজ করতে এসে...' অগ্নিমিত্রার সরোবরে ছট প্রস্তাবে স্পষ্ট কথা দিলীপ ঘোষের
অন্যান্য বড় সুবিধা
সবুজ বিদ্যুতের ক্ষেত্রে পুনর্নবীকরণযোগ্য বিদ্যুতের ওপেন অ্যাক্সেসে মার্চ ২০৩০ পর্যন্ত সারচার্জ মকুব থাকবে। রুগ্ন ও বন্ধ ইউনিটের পুনরুজ্জীবনের জন্য থাকছে বিশেষ সহায়তা, বিশেষ বিদ্যুৎ সহায়তা, জমির ঊর্ধ্বসীমা ছাড় এবং নির্দিষ্ট পুনরুজ্জীবন সেল।
কীভাবে কাজ হবে?
পুরো প্রক্রিয়াই হবে অনলাইনে, সিঙ্গেল উইন্ডো পোর্টালে একটাই আবেদন। ৩০ দিনের মধ্যে সার্টিফিকেট অফ ইনটেন্ট, ৪৫ দিনের মধ্যে সার্টিফিকেট অফ এলিজিবিলিটি, এবং ৯০ দিনের মধ্যে টাকা সরাসরি ইউনিটের অ্যাকাউন্টে চলে যাবে। বড় প্রকল্পের জন্য থাকবে নির্দিষ্ট আধিকারিক এবং মুখ্যসচিবের মাসিক পর্যালোচনা। রাজ্যের আশ্বাস, সহায়তা দেওয়া হবে একটি নির্দিষ্ট তহবিল থেকে। নীতির পরবর্তী কোনও সংশোধনে ইতিমধ্যে স্থির হওয়া সুবিধা কমানো হবে না। আবেদন, অনুমোদন ও অর্থপ্রদান হবে ফেসলেস পদ্ধতিতে।
(দেশ, দুনিয়া, রাজ্য, কলকাতা, বিনোদন, খেলা, লাইফস্টাইল স্বাস্থ্য, প্রযুক্তির টাটকা খবর, আপডেট এবং ভিডিয়ো পেতে ডাউনলোড-লাইক-ফলো-সাবস্ক্রাইব করুন আমাদের App, Facebook, Whatsapp Channel, X (Twitter), Youtube, Instagram পেজ-চ্যানেল)