অয়ন শর্মা: পশ্চিমবঙ্গের কোটি কোটি কৃষকের জন্য সুখবর। হুগলির আরামবাগ থেকে আনুষ্ঠানিকভাবে ‘মুখ্যমন্ত্রী কৃষক সম্মান নিধি’র প্রথম ও দ্বিতীয় কিস্তির টাকা সরাসরি কৃষকদের ব্যাংক অ্যাকাউন্টে স্থানান্তর করার কথা জানালেন মুখ্যমন্ত্রী। এই বিশেষ প্রকল্পের আওতায় রাজ্যের প্রায় ৪৬ লক্ষ কৃষকের ব্যাংক অ্যাকাউন্টে মোট ৯৩০ কোটি টাকা পাঠানো হয়েছে। প্রত্যেক যোগ্য কৃষক এই যোজনার প্রথম ও দ্বিতীয় কিস্তি মিলিয়ে এককালীন ২,০০০ টাকা হাতে পেলেন।
মুখ্যমন্ত্রী কৃষক সম্মান নিধি কী?
কেন্দ্রীয় সরকারের 'প্রধানমন্ত্রী কিষাণ সম্মান নিধি' প্রকল্পে বার্ষিক ৬,০০০ টাকার পাশাপাশি রাজ্য সরকারের পক্ষ থেকে অতিরিক্ত ৩,০০০ টাকা প্রদানের ঘোষণা করা হয়েছিল ‘মুখ্যমন্ত্রী কৃষক সম্মান নিধি’ প্রকল্পে। এর ফলে রাজ্যের কৃষকরা প্রতি বছর মোট ৯,০০০ টাকা আর্থিক সাহায্য পাবেন। যা 'ডবল ইঞ্জিন' সরকারের সুফল বলে ঘোষণা করেছেন মুখ্যমন্ত্রী। ‘মুখ্যমন্ত্রী কৃষক সম্মান নিধি’ যোজনার ৩০০০ টাকা ১,০০০ টাকা করে তিনটি পৃথক কিস্তিতে দেওয়া হবে। এদিন দুটি কিস্তির টাকা একসঙ্গে দেওয়া হল। এরফলে কৃষকরা সার, বীজ ও অন্যান্য কৃষি সরঞ্জাম কেনার ক্ষেত্রে উপকৃত হবেন বলে আশাপ্রকাশ করেছে প্রশাসন।
আলু চাষীদের আর্থিক প্যাকেজ
শুধু কৃষকদের আর্থিক সম্মান নিধিই নয়, পাশাপাশি আলু চাষে ক্ষতিগ্রস্ত কৃষকদের জন্য বিশেষ ভর্তুকি এবং আর্থিক সহায়তার প্যাকেজও ঘোষণা করা হয়েছে। বিগত মরসুমে আলুর দাম কম পাওয়া বা অন্যান্য প্রতিকূলতার কারণে যেসব চাষী লোকসানের মুখে পড়েছিলেন, তাঁদের জন্য সরকার প্রায় ৯৩৮ কোটি টাকারও বেশি বিশেষ সাহায্য ঘোষণা করেছে। এর মধ্যে প্রতি কেজি আলু উৎপাদনে ২ টাকা করে ভর্তুকির সুবিধাও অন্তর্ভুক্ত রয়েছে। মুখ্যমন্ত্রী বলেন, "আলু চাষীদের সুযোগ দেওয়া হচ্ছে। কৃষকবন্ধুর ক্ষেত্রে ১ শতক জমি থাকলে বছরে ৪০০০ টাকা দেব। ৪০ শতকের উপরে জমি থাকলে বছরে ৬ হাজার টাকা করে ২ বার দেব। মিনি কোল্ড স্টোরেজ নির্মাণ করা হবে। আলু চাষীদের জন্য কুইন্টাল প্রতি ৫০ টাকা করে ভর্তুকি দেওয়া হবে।" সব মিলিয়ে এই দফায় রাজ্য সরকারের পক্ষ থেকে কৃষকদের অ্যাকাউন্টে ১,৮৬০ কোটি টাকার বেশি অর্থ সরাসরি পৌঁছে দেওয়া হয়েছে।
এগ্রিস্ট্যাক ও ফার্মার আইডি
কৃষি ব্যবস্থার আধুনিকীকরণ এবং সরকারি সমস্ত সুযোগ-সুবিধা সরাসরি প্রকৃত উপভোক্তাদের কাছে পৌঁছে দেওয়ার জন্য রাজ্যজুড়ে 'এগ্রিস্ট্যাক' প্রকল্পের কাজও দ্রুত গতিতে এগিয়ে চলেছে। এই প্রজেক্টের অধীনে ইতিমধ্যে রাজ্যের ২৪ লক্ষেরও বেশি কৃষকের সরকারি 'ফার্মার আইডি' তৈরি হয়েছে। এই ডিজিটাল আইডিগুলোর সাথে পিএম-কিষাণ এবং মুখ্যমন্ত্রী কৃষক সম্মান নিধির মতো গুরুত্বপূর্ণ প্রকল্পগুলোর তথ্য যুক্ত করা হচ্ছে। যাতে ভবিষ্যতে কোনও রকম দুর্নীতি বা মধ্যস্বত্বভোগীদের হস্তক্ষেপ ছাড়াই সরাসরি কৃষকদের ব্যাংকে সরকারি সহায়তা পৌঁছে দেওয়া যায়।
বিদ্যুতে ভর্তুকি
এদিন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী বলেন, প্রধানমন্ত্রীর দেওয়া লক্ষ্যকে মাথায় রেখে এই ‘মুখ্যমন্ত্রী কৃষক সম্মান নিধি’র কর্মসূচি নেওয়া হয়েছে। ৪৬ লাখ কৃষক উপকৃত হবেন। বন্যা কবলিত পূর্ব ও পশ্চিম মেদিনীপুর ছাড়াও একাধিক জায়গায় কৃষকরা শস্য বিমার সুযোগ পাবেন। মুখ্যমন্ত্রী জানান, "ইতিমধ্যে বর্ধমানে ধান্য ভাণ্ডার করছি। ৪ লাখ কৃষক যারা এগ্রিকালচার বিদ্যুৎ কানেকশন নিয়েছেন, ইউনিট প্রতি ২ টাকা ভর্তুকি দেওয়া হবে তাঁদের।" ধাপে ধাপে ধানের সহায়ক মূল্য ৩১০০ টাকা করার কথাও ঘোষণা করেন মুখ্যমন্ত্রী। অতি বর্ষণে ক্ষতিগ্রস্ত কৃষকদের ক্ষতিপূরণ দেওয়ার কথাও জানান মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। পূর্ব মেদিনীপুরে ২৩০ জন কৃষক পাচ্ছেন ক্ষতিপূরণ। এসডিআরএফ থেকে টাকা ৫৭২৭০০ টাকা ক্ষতিপূরণ দেওয়া হচ্ছে।
(দেশ, দুনিয়া, রাজ্য, কলকাতা, বিনোদন, খেলা, লাইফস্টাইল স্বাস্থ্য, প্রযুক্তির টাটকা খবর, আপডেট এবং ভিডিয়ো পেতে ডাউনলোড-লাইক-ফলো-সাবস্ক্রাইব করুন আমাদের App, Facebook, Whatsapp Channel, X (Twitter), Youtube, Instagram পেজ-চ্যানেল)