মৌমিতা চক্রবর্তী: রাজ্যের নতুন শিল্পনীতি ঘোষণার পর আবার বাম আমলের শিল্পায়ন ও জমি অধিগ্রহণ নিয়ে বিতর্ক শুরু হয়েছে। মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী বামফ্রন্ট সরকারের জমি অধিগ্রহণ নীতি নিয়ে সমালোচনা করেন। তিনি বিশেষ করে বুদ্ধদেব ভট্টাচার্যের সময় নন্দীগ্রামে জমি অধিগ্রহণ নিয়ে তৈরি হওয়া পরিস্থিতির কথা উল্লেখ করেন। এবার তার জবাব দিতে গিয়ে বামফ্রন্ট চেয়ারম্যান বিমান বসু শিল্পনীতির দায়িত্বের প্রসঙ্গে প্রয়াত প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী জ্যোতি বসুর নাম সামনে আনেন। তিনি বলেন, বাম আমলে শিল্পনীতি তৈরির সময় মুখ্যমন্ত্রী ছিলেন জ্যোতি বসু। বুদ্ধদেব ভট্টাচার্য মূলত সেই নীতি কার্যকর করার দায়িত্বে ছিলেন।
কী বললেন বিমান বসু?
বাম আমলের শিল্পনীতি নিয়ে প্রশ্ন করলে বিমান বসু বলেন, কমরেড জ্যোতি বসুর নেতৃত্বে বামফ্রন্ট সরকার শিল্পনীতি নিয়েছিল ও ঘোষণা করেছিল। তিনি বলেন, 'সেই শিল্পনীতিতে কোনও সমস্যা থাকলে, সেটা জ্যোতি বসুর সময়েই হয়েছিল।' বিমান বসু আরও বলেন, 'বুদ্ধদেব ভট্টাচার্য সেই শিল্পনীতি চালু করার দায়িত্বে ছিলেন। নীতি নির্ধারণে জ্যোতি বসুর সময়ের সিদ্ধান্তই পরে বুদ্ধদেব ভট্টাচার্য এগিয়ে নিতে চেষ্টা করেন'।
শিল্পনীতির সূত্রপাত কার আমলে?
১৯৯৪ সালে বামফ্রন্ট সরকারের শিল্পনীতির ইতিহাসে বড় পরিবর্তন আসে। তখন জ্যোতি বসু রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী ছিলেন। তাঁর সরকারের সময়েই নতুন শিল্পনীতি ঘোষণা হয়। পরে বুদ্ধদেব ভট্টাচার্য মুখ্যমন্ত্রী হয়ে রাজ্যে শিল্পায়ন ও বিনিয়োগ বাড়ানোর চেষ্টা আরও বাড়ান। তাই বাম আমলে শিল্পনীতির শুরু এবং তার বাস্তবায়নে এই দুই মুখ্যমন্ত্রীর ভূমিকা নিয়ে অনেকদিন ধরে আলোচনা চলছে।
কেন নতুন করে বিতর্ক?
বৃহস্পতিবার রাজ্যের নতুন শিল্পনীতি ঘোষণার অনুষ্ঠানে শুভেন্দু অধিকারী বাম আমলের জমি অধিগ্রহণ নিয়ে কথা বলেন। তিনি ২০০৭ সালের নন্দীগ্রামের ঘটনার প্রসঙ্গে তৎকালীন মুখ্যমন্ত্রী বুদ্ধদেব ভট্টাচার্যের ভূমিকা নিয়ে সমালোচনা করেন।
শুভেন্দু বলেন, ২০০৭ সালের ৭ জানুয়ারি রাইটার্স বিল্ডিংয়ের সামনে সংবাদমাধ্যমকে বুদ্ধদেব ভট্টাচার্য স্বীকার করেছিলেন, হলদিয়া উন্নয়ন পর্ষদের জমি অধিগ্রহণের বিজ্ঞপ্তি জারির আইনি এক্তিয়ার নিয়ে সমস্যা আছে। তাঁর দাবি, সেই পরিস্থিতির ফলেই ১৪ মার্চ নন্দীগ্রামে ভয়াবহ ঘটনা ঘটে।
বাম আমলের শিল্পনীতি নিয়ে বিমান বসু মন্তব্য করেছেন। শুভেন্দু অধিকারীর কথাও রাজনীতিতে গুরুত্ব রাখে। নতুন শিল্পনীতি ঘোষণার মঞ্চে তিনি বলেন, রাজ্যে শিল্পায়নের জন্য জমি দেওয়া হবে। তবে জমি অধিগ্রহণের সময় নন্দীগ্রামের মতো ঘটনা আর ঘটতে দেবে না সরকার।
প্রসঙ্গত, অনিল বিশ্বাসের মৃত্যুর পর অর্থাত্ জ্যোতি বসুর সরকারের সময়েই ২০০৬ সালে বামফ্রন্টের দায়িত্ব এসেছিল বিমান বসুর কাছে। তাহলে কি সুকৌশলে নিজেকে এই চর্চা থেকে দূরে রাখলেন বামফ্রন্ট চেয়ারম্যান?
(দেশ, দুনিয়া, রাজ্য, কলকাতা, বিনোদন, খেলা, বিজনেস, লাইফস্টাইল, কেরিয়ার, ইউটিলিটির টাটকা খবর, আপডেট এবং ভিডিয়ো পেতে ডাউনলোড-লাইক-ফলো-সাবস্ক্রাইব করুন আমাদের Facebook, Whatsapp Channel, X, Youtube, Instagram পেজ-চ্যানেল)