অয়ন ঘোষাল: শহরের চারটি বাজি বাজারে কড়াকড়ি। কিন্তু বাজি মহল্লায় কী অবস্থা? দূষণমুক্ত গ্রিন বাজিই কি বিকোচ্ছে? নাকি নেপথ্যে লুকিয়ে আছে অন্য গল্প? খতিয়ে দেখল জি ২৪ ঘণ্টা। শহরের মোট ৪টি পুলিস অনুমোদিত বাজিবাজারের মধ্যে এটাই বৃহত্তম। ১০০ শতাংশ গ্রিন বাজির বাজার। অন্তত বাজির গায়ে লাগানো হলোগ্রাম তো তাইই বলছে। অকাট্য প্রমাণ হিসেবে নিরি সার্টিফিকেট হাতে রেখেছেন সমস্ত বিক্রেতা। লক্ষ্য করলে দেখা যাবে, প্রায় ৯০ শতাংশ বাজি আমদানি করা হয়েছে তামিলনাড়ুর শিবকাশী থেকে। বৈধ বাজির বিক্রিবাট্টার প্রায় সমান্তরাল ভাবে চম্পাহাটি, নুঙ্গি, জনাই-সহ গ্রামবাংলার একাধিক বাজি হাবে চলছে বাজি নির্মাণ এবং কেনাবেচা।
এককালীন প্রায় ২৮ হাজার
এর মধ্যে আকারে সবথেকে বড় বাজির মহল্লা দক্ষিণ ২৪ পরগনার মহেশতলা থানার নুঙ্গি। এখানে বাজি নির্মাণ কুটির শিল্প। খাতায়কলমে নথিকৃত বাজি নির্মাতার সংখ্যা ২৫১। এর মধ্যে নিরি লাইসেন্স প্রাপ্ত ২৪৩ জন। তবে এলাকায় ঘোরাঘুরি করলে বেশ বোঝা যায়, এই মহল্লায় অন্তত হাজারদেড়েক মানুষ বাজি বানান। তবে খোলাখুলি বানাতে বা বিক্রি করতে পারেন না। কারণ তাঁদের নিরি লাইসেন্স নেই। কারণটা মূলত অর্থনীতিক। নিরি লাইসেন্স পেতে গেলে ট্রেনিং ফি ৫০০০ টাকা। রেজিস্ট্রেশন ফি ১১ হাজার ৮০০ টাকা। স্যাম্পল টেস্টিং ফি ১০ হাজার ৫০০ টাকা। সঙ্গে কাঁচামাল এবং শ্রমিকদের মজুরি তো আছেই। একজন প্রান্তিক বাজি নির্মাতার কাছে শুধু একটা ট্রেনিং ও সার্টিফিকেটের জন্য এককালীন প্রায় ২৮ হাজার টাকা জোগাড় করাই অলীক স্বপ্ন। তাই সবাই খোলাখুলি বাজির করবার করতে চান। কিন্তু উপায় থাকে না। আবার ৩ দিনের ট্রেনিংয়ে অন্ততঃ ৪০ জন ক্যান্ডিডেট না হলে নিরি প্রশিক্ষক পাঠায় না। ফলে বৈধ বাজির আড়ালে সমান্তরাল অবৈধ কারবার চলতেই থাকে। মরার উপর খাড়ার ঘা,বাজিতে QR কোড ব্যবস্থা উঠে গিয়েছে। ২০২৩ সাল পর্যন্ত QR কোড স্ক্যান করে বোঝা যেত ওই বাজি নিরি তালিকাভুক্ত কিনা। ২০২৪ সাল থেকে গোটা সিস্টেম উধাও।
পূর্বতন সরকারের অনিচ্ছা?
নিরি লাইসেন্স প্রাপ্ত বাজি নির্মাতা শুকদেব নস্কর জানান, ২০২২ সালে কালীপুজোর আগে সারা বাংলা আতশবাজি বাঁচাও সমিতি নুঙ্গিতে ১০ কোটির টাকার একটি পাইলট প্রজেক্ট শুরুর উদ্যোগ নেয়। ১০ বিঘা জমিতে একটি বাজি হাব বা ক্লাস্টার তৈরির প্রস্তাব যায় রাজ্য সরকারের MSME দফতরের কাছে। প্রস্তাব পাস হয়। সরকার ২ বিঘা জমি দেয়। বাকি জমির ব্যবস্থা হয়। ১০ কোটির মধ্যে প্রথম কিস্তির আড়াই কোটি টাকাও আসে। দুঃস্থ অথচ করিৎকর্মা বাজি নির্মাতারা এই ক্লাস্টার থেকে নিখরচায় নিরি ট্রেনিং এবং সার্টিফিকেট পাবেন বলেও জানানো হয়। প্রকল্পটি পূর্বতন সরকারের অনিচ্ছার জেরে ২০২৪ সালে মুখ থুবড়ে পড়ে।
বদলের বাংলা
বদলের বাংলা। বারবার প্রতিবার টেক্কা মেরে বেরিয়ে যাবে সংগঠিত বাজিশহর শিবকাশী? প্রতিবার বাংলার বাজি হাবগুলির হাতে পড়ে থাকবে শুধু পেনসিল? না। জোর দিয়ে বলছেন ভারতীয় মজদুর সঙ্ঘের ঠাকুরপুকুর-মহেশতলা মণ্ডলের ভাইস প্রেসিডেন্ট এবং সারা বাংলা আতশবাজি সমিতির অন্যতম বড় নেতা বিজেপির মিঠুন মিত্র। হনুমানের গদা থেকে পদ্মফুল। বদলের বাজি বাজারে এবারেও বাজি মেরে গিয়েছে তামিলনাড়ু। ২০২৭ থেকে বাজিতে সারা ভারতে বাজিমাত করবে বাংলা। বলছেন মিঠুন।
(দেশ, দুনিয়া, রাজ্য, কলকাতা, বিনোদন, খেলা, বিজনেস, লাইফস্টাইল, কেরিয়ার, ইউটিলিটির টাটকা খবর, আপডেট এবং ভিডিয়ো পেতে ডাউনলোড-লাইক-ফলো-সাবস্ক্রাইব করুন আমাদের Facebook, Whatsapp Channel, X, Youtube, Instagram পেজ-চ্যানেল)