অয়ন শর্মা: খেলতে খেলতে ছয় বছরের শিশু চুম্বক গিলে ফেলে। চুম্বকটি শ্বাসনালি পার হয়ে ফুসফুসে চলে যায়। ধীরে ধীরে তার শ্বাসকষ্ট বাড়ছিল, আর বিপদের আশঙ্কাও ছিল বেশি। প্রচলিত চিকিৎসা পদ্ধতিতে বারবার চেষ্টা করেও চুম্বকটি বের করা যাচ্ছিল না। শেষ পর্যন্ত ডাক্তাররা আরেকটি চুম্বকের সাহায্যে ফুসফুসে আটকে থাকা চুম্বকটি বের করে শিশুটিকে বাঁচান। এ কাজে মানিকতলার এক লেদ কারখানার কর্মীও সাহায্য করেন।
খেলতে গিয়ে চুম্বক গিলে বিপত্তি
উত্তর ২৪ পরগনার বাদুড়িয়ার মহেশপুরে ছ’বছরের আরাফাত আলি থাকেন। গত ৩ নভেম্বর, মঙ্গলবার পরিবারের লোকেরা তাকে কলকাতা মেডিক্যাল কলেজের ইএনটি বিভাগে নিয়ে যান। শিশুটি কাশি ও শ্বাসকষ্টে ভুগছিল। চিকিৎসকেরা পরীক্ষা করে দেখেন, সে খেলতে গিয়ে একটি চুম্বক গিলে ফেলেছে।
সিটি স্ক্যান ও এক্স-রে করলে ধরা পড়ে, চুম্বকটি শ্বাসনালি পার হয়ে ডান ফুসফুসের ব্রঙ্কাসে আটকে আছে। চুম্বকটির দৈর্ঘ্য প্রায় ২.৫ সেন্টিমিটার ও ব্যাস ৪ মিলিমিটার। এটি শিশুটির শ্বাস নিতে সমস্যা করছিল। এসব দেখে শিশুটিকে হাসপাতালে ভর্তি করে চিকিৎসা দেওয়া হয়।
বারবার চেষ্টা করেও ব্যর্থ চিকিৎসকরা
প্রথমে চিকিৎসকরা ব্রঙ্কোস্কোপি করে বিশেষ যন্ত্র বা ফোর্সেপ দিয়ে চুম্বকটি বের করতে চেষ্টা করেন। কিন্তু চুম্বকটি এমনভাবে আটকে ছিল যে বারবার ফসকে যাচ্ছিল। অনেকবার চেষ্টা করেও বের করা যায়নি। শিশুর শ্বাস স্বাভাবিক রাখতে চিকিৎসকরা ট্র্যাকিওস্টমি করেন। এতে গলায় অস্ত্রোপচার করে শ্বাস নেওয়ার জন্য বিকল্প পথ তৈরি করা হয়। পরিস্থিতি এতটাই খারাপ হয় যে বুক কেটে অস্ত্রোপচার করতেও ভাবতে হয়। তবে তার আগে চিকিৎসকরা অন্য উপায়ে সমস্যার সমাধান করার চেষ্টা করেন।
মানিকতলার কারিগর তৈরি করলেন বিশেষ চুম্বক
এই সময় চিকিৎসক দীপ্তাংশু মুখোপাধ্যায় ভাবেন, শক্তিশালী চুম্বক দিয়ে ফুসফুসে আটকে থাকা চুম্বকটিকে টেনে বের করা সম্ভব কি না। এই পরিকল্পনা কাজে লাগাতে তিনি মানিকতলার এক লেদ কারখানায় যান। সেখানে কারিগর প্রভাকর কাঁড়ারকে শিশুটির এক্স-রে দেখিয়ে সমস্যার কথা জানান। চিকিৎসকদের চাহিদা অনুযায়ী, প্রভাকর ফোর্সেপের মাথায় লাগানোর জন্য ছোট ও শক্ত চুম্বক বানান। এই চুম্বকটি বিশেষভাবে বানানো হয় এবং এর ব্যাস ছিল ৩ মিলিমিটারের কম, যাতে সেটি শ্বাসনালির ভিতর দিয়ে নেওয়া যায়।
চুম্বকের টানেই বেরিয়ে এল বিপজ্জনক বস্তু
বৃহস্পতিবার, ৫ নভেম্বর, চিকিৎসকদের এক দল নতুন চুম্বক দিয়ে আবার অস্ত্রোপচার শুরু করে। ইএনটি বিভাগের প্রধান সৌমেন্দ্রনাথ বন্দ্যোপাধ্যায়ের নেতৃত্বে ওই দলে ছিলেন চিকিৎসক দীপ্তাংশু মুখোপাধ্যায় এবং আরও কয়েকজন চিকিৎসক ও অ্যানাস্থেশিয়া বিশেষজ্ঞ। ট্র্যাকিওস্টমির জন্য তৈরি পথ দিয়ে বিশেষ চুম্বক দিয়ে ফুসফুসে আটকে যাওয়া চুম্বকটি বের করা হয়।এখন তাকে পেডিয়াট্রিক ইনটেনসিভ কেয়ার ইউনিটে রাখা হয়েছে। চিকিৎসকরা বলেছেন, শিশুটি একটু একটু করে সুস্থ হচ্ছে।
(দেশ, দুনিয়া, রাজ্য, কলকাতা, বিনোদন, খেলা, বিজনেস, লাইফস্টাইল, কেরিয়ার, ইউটিলিটির টাটকা খবর, আপডেট এবং ভিডিয়ো পেতে ডাউনলোড-লাইক-ফলো-সাবস্ক্রাইব করুন আমাদের Facebook, Whatsapp Channel, X, Youtube, Instagram পেজ-চ্যানেল)