অর্ণবাংশু নিয়োগী: মোটেই সময়টা ভাল যাচ্ছে না ভাইপো মানে, অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের। ৪মে ভোটে হারার পর থেকেই এককথায় একঘরে হয়ে গিয়েছেন তৃণমূল সাংসদ। মমতার নয়নের বলি এখন রাজ্য রাজনীতিতে অপ্রাসঙ্গিক হয়ে জাতীয় রাজনীতিতে ভেসে থাকার চেষ্টা করছেন। যদিও সেখানেও বিশেষ সুবিধা করে উঠতে পারছেন না। ইতোমধ্যেই অভিষেকের নামে একাধিক FIR ও অভিযোগ জমা পড়েছে। নিজেকে বাঁচাতে কখনও বিদেশ যাত্রা, কখনও আপ্ত সহায়ককে বলি দিয়েছেন পুলিসের হাতে তুলে দিয়ে। আর এবার অতি সাম্প্রতিক তাঁর রাজ্য পুলিস ও আধিকারিকদের নিয়ে বিতর্কিত মন্তব্যকে ঘিরে আবারও নিউটাউন থানায় FIR দায়ের হল। আবেদন করেছেন বাগুইআটির বাসিন্দা রাজীব সরকার।
শনিবার বিধাননগর সাইবার ক্রাইম থানার IC-কে মেইল মারফত অভিযোগ জমা দিলেন রাজীব সরকার। ২৯ ও ৩০ অক্টোবর অভিষেকের সাংবাদিক বৈঠকে দেওয়া বক্তব্যকে কেন্দ্র করেই এই নতুন করে অভিযোগ। তৃণমূল কংগ্রেসের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক (TMC National General Secretary) তথা ডায়মন্ড হারবারের সাংসদ অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের সাম্প্রতিক মন্তব্য ঘিরে ফের রাজনৈতিক ও আইনি চাপানউতোর শুরু হয়েছে। সরকারি কর্মী ও পুলিশ আধিকারিকদের প্রকাশ্যে ‘ভয় দেখানো’, ‘হুমকি দেওয়া’ এবং ‘জনশান্তি বিঘ্নিত’ করার অভিযোগে তাঁর বিরুদ্ধে এফআইআর (FIR - First Information Report) দায়ের করার আবেদন জমা পড়েছে। বিধাননগর সাইবার ক্রাইম থানার (Bidhannagar Cyber Crime Police Station) ভারপ্রাপ্ত আধিকারিক বা আইসি-র কাছে ইমেল মারফত এই অভিযোগ জমা দিয়েছেন।
অভিযোগের মূল ভিত্তি কী?
অভিযোগকারীর দাবি, গত ২৯ ও ৩০ অক্টোবর সাংবাদিক বৈঠকে (Press Conference) অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের রাখা একাধিক মন্তব্য সরাসরি আইনের পরিপন্থী।
অভিযোগপত্রের মূল বিষয়
পুলিস আধিকারিকদের নাম চিহ্নিতকরণ:
সাংবাদিক বৈঠকে কিছু নির্দিষ্ট পুলিস আধিকারিকের নাম লাল কালিতে দাগিয়ে বা চিহ্নিত করে রাখার কথা বলা হয়েছে। অভিযোগকারীর মতে, এটি স্পষ্ট ‘অপরাধমূলক হুমকি’ (Criminal Intimidation)।
সরকারি কর্মীদের মানসিক চাপ
কর্তব্যরত সরকারি কর্মী ও পুলিস প্রশাসনকে টার্গেট করে দেওয়া এই ধরনের বক্তব্য প্রশাসনের নিরপেক্ষতা নষ্ট করতে পারে এবং কর্মীদের মধ্যে ভয় ও নিরাপত্তাহীনতা তৈরি করতে পারে।
শান্তিশৃঙ্খলা ভঙ্গের আশঙ্কা
প্রকাশ্য প্ল্যাটফর্মে এমন বিবৃতি সাধারণ মানুষের মধ্যে ভুল বার্তা ছড়াতে পারে এবং জনশান্তি বিঘ্নিত (Breach of Public Peace) হওয়ার সম্ভাবনা থাকে।
ডিজিটাল প্ল্যাটফর্ম ও সাইবার ক্রাইম যোগ
যেহেতু অভিষেকের বক্তব্য সাংবাদিক বৈঠক থেকে সম্প্রচারিত হওয়ার পর সামাজিক মাধ্যম (Social Media) ও ইন্টারনেটে দ্রুত ছড়িয়ে পড়ে, তাই একে ডিজিটাল মাধ্যমে প্ররোচনা হিসেবে দেখে বিধাননগর সাইবার ক্রাইম সেলে অভিযোগ জানানো হয়েছে। ডিজিটাল কনটেন্টের মাধ্যমে উসকানি ছড়ানোর বিষয়টিকে এখানে বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে।
রাজনৈতিক ও আইনি তাৎপর্য
গণতান্ত্রিক রাজনীতিতে প্রশাসনের ভূমিকা নিয়ে রাজনৈতিক নেতৃত্ব প্রায়শই ক্ষোভ প্রকাশ করে থাকে। তবে আইনের চোখে সেই ক্ষোভপ্রকাশ যখন ব্যক্তি-আধিকারিকদের নিশানা করা বা পরিণতির হুঁশিয়ারি দেওয়ার স্তরে পৌঁছয়, তখনই তা ‘অপরাধমূলক ভীতি প্রদর্শন’ বা হুমকির ধারায় পড়ে কি না--তা নিয়ে প্রশ্ন ওঠে। পুলিস এখন খতিয়ে দেখছে এই অভিযোগের ভিত্তিতে এফআইআর দায়ের করার মতো উপযুক্ত উপাদান (Cognizable Offence) রয়েছে কি না। অভিযোগের গ্রহণযোগ্যতা নিয়ে পুলিশি পর্যালোচনার পরেই স্পষ্ট হবে পরবর্তী আইনি পদক্ষেপ।
(দেশ, দুনিয়া, রাজ্য, কলকাতা, বিনোদন, খেলা, বিজনেস, লাইফস্টাইল, কেরিয়ার, ইউটিলিটির টাটকা খবর, আপডেট এবং ভিডিয়ো পেতে ডাউনলোড-লাইক-ফলো-সাবস্ক্রাইব করুন আমাদের Facebook, Whatsapp Channel, X, Youtube, Instagram পেজ-চ্যানেল)