জি ২৪ ঘণ্টা ডিজিটাল ব্যুরো: আর জি কর মামলায় ফের নতুন মোড়। সিবিআইয়ের আবেদনে সাড়া দিয়ে পানিহাটি পৌরসভার প্রাক্তন পুরপ্রধান (চেয়ারম্যান) সোমনাথ দে-কে দু’দিনের জন্য কেন্দ্রীয় তদন্তকারী সংস্থার হেফাজতে রাখার অনুমতি দিয়েছে নিম্ন আদালত। এই সময়ের মধ্যে তাঁকে জিজ্ঞাসাবাদ করতে পারবে সিবিআই। আগামী ৩০ অক্টোবর সোমনাথ দে-কে আদালতে পেশ করার কথা তদন্তকারী সংস্থার। এই সোমনাথ দে-ই অত্যন্ত তড়িঘড়ি করে আরজি করের নির্যাতিতা মৃত তরুণী চিকিত্সকের দেহ সত্কার করেছিলেন। আর তখন থেকেই প্রশ্ন উঠেছে কেন এত তাড়া ছিল মৃতদেহ সত্কারের? কী লোকানোর চেষ্টা করেছিলেন তিনি? কার নির্দেশে, কাকে বাঁচাতে এই পদক্ষেপ? তবে কি আরজিকর মামলার তদন্তে আসতে চলেছে নতুন কোনও বাঁক?
এই হেফাজতের ফলে আর জি কর মামলার তদন্তে নতুন করে নজর পড়েছে সিবিআইয়ের পরবর্তী পদক্ষেপের দিকে। তবে সোমনাথ দে-কে জিজ্ঞাসাবাদ করে তদন্তকারীরা ঠিক কোন তথ্যের সন্ধান করছেন, সে বিষয়ে নির্দিষ্ট তথ্য সামনে না আসা পর্যন্ত কোনও সিদ্ধান্তে পৌঁছনো ঠিক হবে না। বুধবার দুপুর ৩টের পর শিয়ালদা আদালতে শুরু হয় আরজি কর হাসপাতালে তরুণী চিকিৎসক ধর্ষণ-খুনের শুনানি।
কেন গুরুত্বপূর্ণ সিবিআইয়ের হেফাজত?
কোনও মামলায় তদন্তের প্রয়োজনে অভিযুক্ত বা সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য নিজেদের হেফাজতে নেওয়ার আবেদন করতে পারে তদন্তকারী সংস্থা। আদালত সেই আবেদনের যুক্তি ও প্রাসঙ্গিক বিষয় খতিয়ে দেখে সিদ্ধান্ত নেয়।
সোমনাথ দে-র ক্ষেত্রেও সিবিআইয়ের আবেদনে আদালতের সম্মতি মিলেছে বলে প্রাথমিক তথ্য থেকে জানা যাচ্ছে। আগামী দু’দিনের জিজ্ঞাসাবাদে তদন্তকারীরা মামলার কোন দিকগুলির উপর জোর দেন, তা এখন গুরুত্বপূর্ণ।
তবে হেফাজতে নেওয়া মানেই কোনও ব্যক্তি অপরাধে দোষী প্রমাণিত হয়েছেন, এমন নয়। তদন্তের প্রয়োজনে জিজ্ঞাসাবাদ এবং আদালতে অপরাধ প্রমাণ-- দুটি সম্পূর্ণ আলাদা বিষয়। আইনের চোখে দোষ প্রমাণিত না হওয়া পর্যন্ত প্রত্যেকেরই নির্দোষ বলে বিবেচিত হওয়ার অধিকার রয়েছে।
৩০ অক্টোবরের দিকে নজর
সিবিআইয়ের হাতে দু’দিনের হেফাজতের সময় থাকায় আগামী ৩০ অক্টোবরের আদালত-পর্ব বিশেষ গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠতে পারে। নির্ধারিত দিনে সোমনাথ দে-কে আদালতে পেশ করার কথা রয়েছে। সেই সময় তদন্তের অগ্রগতি সম্পর্কে কী তথ্য সামনে আসে, তা নজরে থাকবে।
তবে আদালতে পেশের সময় সিবিআই নতুন করে হেফাজতের আবেদন করবে কি না, কিংবা তদন্তের পরবর্তী পদক্ষেপ কী হবে, তা এখনই নিশ্চিত করে বলা যাচ্ছে না।
আর জি কর মামলার তদন্তে পরবর্তী পদক্ষেপ কী?
আর জি করের ঘটনা নিয়ে তদন্তের প্রতিটি পদক্ষেপই জনস্বার্থে গুরুত্বপূর্ণ। সেই কারণে তদন্তের অগ্রগতি, আদালতের নির্দেশ এবং তদন্তকারী সংস্থার বক্তব্যের মধ্যে স্পষ্ট পার্থক্য রাখা জরুরি। অনুমান বা অসমর্থিত তথ্যের ভিত্তিতে কাউকে দোষী সাব্যস্ত করা উচিত নয়।
এখন নজর সোমনাথ দে-কে জিজ্ঞাসাবাদে সিবিআই কী তথ্য পায় এবং ৩০ অক্টোবর আদালতে কী পরিস্থিতি তৈরি হয়, তার দিকে। তদন্তের পরবর্তী অগ্রগতি এবং আদালতের নির্দেশই এই পর্যায়ে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠবে।
(দেশ, দুনিয়া, রাজ্য, কলকাতা, বিনোদন, খেলা, লাইফস্টাইল স্বাস্থ্য, প্রযুক্তির টাটকা খবর, আপডেট এবং ভিডিয়ো পেতে ডাউনলোড-লাইক-ফলো-সাবস্ক্রাইব করুন আমাদের App, Facebook, Whatsapp Channel, X (Twitter), Youtube, Instagram পেজ-চ্যানেল)