জি ২৪ ঘণ্টা ডিজিটাল ব্যুরো: ২০২৭ সালের আইপিএল সম্ভবত আগামী বছর মার্চের শেষের দিকে শুরু হতে পারে বলেই মনে করা হচ্ছে। ভারতীয় ক্রিকেট বোর্ডের প্রাথমিক পরিকল্পনা অনুযায়ী ১৪ মার্চ থেকে ৩০ মে বা মার্চের মাঝামাঝি সময়ে শুরু হতে পারে বলেই খবর। তবে প্লেয়ার রিটেনশনের ডেডলাইন কিন্তু দ্রুত ঘনিয়ে আসছে। আগামী ১৬ ডিসেম্বর গোয়াতে আইপিএলের মিনি নিলাম হবে। তবে তার আগে ১৫ নভেম্বরের মধ্যে আইপিএল ২০২৭ রিটেনশন ডে রয়েছে। টুর্নামেন্টে অংশ নেওয়া ১০ ফ্র্যাঞ্চাইজিকে তাদের ধরে রাখা খেলোয়াড়দের তালিকা চূড়ান্ত করে ফেলতে হবে। খেলোয়াড় অদলবদল বা ট্রেডিং উইন্ডোতে যে ভারতীয় মহারথীকে নিয়ে সবচেয়ে বেশি আলোচনা হচ্ছে, তিনি মুম্বই ইন্ডিয়ান্সের অধিনায়ক ও অলরাউন্ডার হার্দিক পান্ডিয়া। বরোদার বিশ্বজয়ী মুম্বইয়ে কামব্যাকের অভিজ্ঞতা একেবারেই সুখকর হয়নি। গুজরাট টাইটান্সের হয়ে দুই মরসুমে হার্দিক দারুণ পারফর্ম করেছেন। আইপিএল অভিষেকেই দলকে চ্যাম্পিয়ন করেছেন এবং তার পরের মরসুমে রানার্স করেছেন। কিন্তু মুম্বই ইন্ডিয়ান্সের অধিনায়ক হিসেবে ৩৩ ম্যাচে তাঁর জয়-পরাজয়ের হার মাত্র ৪২.৪ শতাংশ। যেখানে তিনি ১৪ ম্যাচে জিতেছেন এবং ১৯ ম্যাচে হেরেছেন। দেশের কিংবদন্তি ক্রিকেটার রবিচন্দ্রন অশ্বিন মনে করছেন যে, আম্বানির মুম্বই ছেড়ে শাহরুখের কলকাতায় আসতে পারেন হার্দিক। হতে পারেন কেকেআরেরে নতুন ক্যাপ্টেন!
হার্দিককে নিয়ে অশ্বিনের ভবিষ্য়দ্বাণী
হার্দিকের নেতৃত্বে চলতি বছর আইপিএলে মুম্বাই প্লে-অফ উঠতে ব্যর্থ হয়েছে। পুরো মরসুমে মাত্র ৪ জয় নিয়ে তারা পয়েন্ট টেবলের ৯ নম্বরে শেষ করেছে। নীতা আম্বানির মুম্বই ১৬.৩৫ কোটি টাকায় হার্দিককে দলে ধরে রাখলেও, ২০২৭ মরসুমের আগেই তিনি দল ছাড়তে পারেন বলে শোনা যাচ্ছে। আইপিএলের দলবদলের যা গুঞ্জন, তাতে মনে করা হচ্ছে চেন্নাই সুপার কিংস হার্দিককে ট্রেড করতে পারে। তবে অশ্বিনের মতে, হার্দিক যদি কলকাতা নাইট রাইডার্স বা রাজস্থান রয়্যালসে আসেন তবে সেখানে তিনি অধিনায়কত্বের দায়িত্বও পেতে পারেন। নিজের ইউটিউব চ্যানেলে অশ্বিন বলেন, 'কেকেআরে হার্দিকের দারুণ সম্ভাবনা রয়েছে। কারণ হার্দিক সেখানে অধিনায়ক হতে পারেন। হার্দিককে নিয়ে তারা বরুণ চক্রবর্তীকে দিতে পারে। তবে অভিষেক নায়ার যতক্ষণ সেখানে আছেন, আমার মনে হয় না বরুণকে কেকেআর ছাড়বে। সেক্ষেত্রে হর্ষিত রানা বা রিঙ্কু সিং বিকল্প হতে পারেন। রাজস্থান রয়্যালসের ক্ষেত্রে যশস্বী জয়সওয়াল ও স্যাম কারান, অথবা ব্রিজেশ শর্মা কিংবা তুষার দেশপাণ্ডের নাম উঠে আসতে পারে। এছাড়া জয়সওয়ালের সঙ্গে যশ রাজ পাঞ্জা বা বিষ্ণোইও থাকতে পারেন।'
আরও পড়ুন: অপ্রত্যাশিত ধাক্কায় তছনছ ভারতীয় দল! আচমকাই মাথায় ভেঙে পড়ল আকাশ, ODI সিরিজ থেকে ছিটকে গেলেন এই নক্ষত্র!
ট্রেডিংয়ে মুম্বই কী করতে পারে
হার্দিক কেকেআরে আসলে কোন কোন ক্রিকেটারকে পেতে চাইবে মুম্বই, সেই বিষয়ে অশ্বিন তাঁর মত দিয়েছেন। পাঁচবারের চ্যাম্পিয়ন দলের একজন ভারতীয় উইকেটরক্ষক-ব্যাটার প্রয়োজন বলেই মনে করেন অশ্বিন। তিনি বলেন, 'মুম্বই ইন্ডিয়ান্সে একজন ভারতীয় উইকেটরক্ষক খুব জরুরি। পাশাপাশি তারা তাদের বোলিং বিভাগকেও শক্তিশালী করতে চাইবে, যা গত কয়েক বছরে খুবই হতাশ করেছে। পঞ্জাব কিংসের সঙ্গে ওমারজাইকে যুক্ত করে মুম্বই ইন্ডিয়ান্স হয়তো কোনও সমঝোতায় আসতে পারে। গুজরাট টাইটান্সের কথা কিন্তু কেউ বলছে না। তবে তারাও এই প্রক্রিয়ায় জড়িয়ে পড়তে পারে! হার্দিকের বিনিময়ে তারা হয়তো রশিদ খানকে ছেড়ে দিতে পারে।' চেন্নাই সুপার কিংসের প্রাক্তন অলরাউন্ডার আরও মনে করেন, উল্লিখিত ফ্র্যাঞ্চাইজিগুলি ছাড়াও আরও কিছু দল হার্দিককে পাওয়ার দৌড়ে। অশ্বিনের সংযোজন, 'আমি শুনেছি হার্দিককে পেতে ছ'টি দল লড়ছে। তবে আমার মনে হয় না বিষয়টি পুরোপুরি তা-ই, কারণ লখনউ সুপার জায়ান্টস এই দৌড়ে নেই। মূলত চেন্নাই সুপার কিংস, কলকাতা নাইট রাইডার্স, রাজস্থান রয়্যালস , গুজরাট টাইটান্স এবং পঞ্জাব কিংসই এই প্রতিযোগিতায়। আমার আরও মনে হয়, নতুন কোনও দলে যাওয়ার ক্ষেত্রে হার্দিকের জন্য অধিনায়কত্ব পাওয়াটা এখন আর বাধ্যতামূলক নয়। যেহেতু ও মুম্বই ইন্ডিয়ান্স থেকে বেরিয়ে আসতে চাইছে, তাই তিনি শুধুই একটি ফ্র্যাঞ্চাইজি খুঁজবে, যা ওর জন্য সবচেয়ে উপযুক্ত।'
৩৩ বছর বয়সী হার্দিক তাঁর আইপিএল কেরিয়ারে ১৬২ ম্যাচে ১৪৬.২৮ স্ট্রাইক রেটে ২৯৫৫ রান করেছেন এবং ৮২ উইকেট নিয়েছেন। তবে ২০২৬ সালের আইপিএলে হার্দিক ১০ ম্যাচে ২২.৮৮-র গড়ে মাত্র ২০৬ রান করতে পেরেছেন এবং মাত্র ৪ উইকেট নিয়েছেন।
(দেশ, দুনিয়া, রাজ্য, কলকাতা, বিনোদন, খেলা, বিজনেস, লাইফস্টাইল, কেরিয়ার, ইউটিলিটির টাটকা খবর, আপডেট এবং ভিডিয়ো পেতে ডাউনলোড-লাইক-ফলো-সাবস্ক্রাইব করুন আমাদের Facebook, Whatsapp Channel, X, Youtube, Instagram পেজ-চ্যানেল)