বিশ্বজিত্ মিত্র: এত বছর পেরিয়েও বদলায়নি ঐতিহ্য! শুধু বদলেছে বলির প্রথা, আজও মায়ের ভোগে পান্তা ভাত ও মাছ। সময়ের সঙ্গে বদলেছে অনেক কিছু, বদলেছে সমাজের রীতিনীতি। কিন্তু প্রায় সাড়ে চারশো বছরের ঐতিহ্য আজও ধরে রেখেছে শান্তিপুরের মহিষখাগী মাতা পুজো। প্রাচীন রীতি মেনেই আজও মাকে নিবেদন করা হয় খয়রা মাছ, কাতলা মাছ, রুই মাছ এবং পান্তা ভাতের ভোগ।
তবে সময়ের সঙ্গে বদল এসেছে বলির প্রথায়। শান্তিপুর পৌরসভার ১২ নম্বর ওয়ার্ডের মহিষখাগীতলায় এই ঐতিহ্যবাহী পুজোকে ঘিরে রয়েছে নানা ইতিহাস ও জনশ্রুতি। উদ্যোক্তাদের কথায়, একসময় এই পুজোয় ১০৮টি মহিষ বলি দেওয়ার প্রচলন ছিল। সেই থেকেই দেবীর নাম হয় মহিষখাগী মাতা। কথিত রয়েছে, ১০৮টি মহিষ বলি দিতে দিতে রাত পেরিয়ে যেত। সেই কারণে পরের দিন আবারও মায়ের পুজো করা হতো।
এভাবেই একই পুজোয় তিনবার পুজোর রীতি প্রচলিত হয় বলে জানান উদ্যোক্তারা। পরবর্তীকালে মহিষ বলির পরিবর্তে ছাগল বলির প্রচলন শুরু হয়। তবে বর্তমানে সম্পূর্ণ বন্ধ হয়েছে বলির প্রথা। কিন্তু বদলায়নি মায়ের পুজোর প্রাচীন রীতিনীতি। এই পুজোর অন্যতম বিশেষ আকর্ষণ দধিমঙ্গল। পরিবারের মেয়েদের বিয়ের আগে যে রীতিতে দধিমঙ্গল পালন করা হয়, সেই একই নিয়ম ও আচার মেনে পুজোর আগে মহিষখাগী মাতারও দধিমঙ্গল করা হয়।
পুজোর পরের দিন মাকে নিবেদন করা হয় খয়রা, রুই, কাতলা মাছ এবং পান্তা ভাতের বিশেষ ভোগ। ভোগ নিবেদনের পর শুরু হয় মায়ের নিরঞ্জনের পালা। আর সেই নিরঞ্জনকে ঘিরেই তৈরি হয় এক আবেগঘন পরিবেশ। হাজার হাজার ভক্তের সমাগমে মুখরিত হয়ে ওঠে গোটা এলাকা। ভক্তদের কাঁধে চেপেই নিরঞ্জনের পথে পাড়ি দেন মহিষখাগী মাতা। প্রায় সাড়ে চারশো বছরের ইতিহাস বুকে নিয়ে আজও একইভাবে বহমান এই পুজো। সময় বদলেছে, বদলেছে বলির প্রথা, কিন্তু প্রজন্মের পর প্রজন্ম ধরে ভক্তি, বিশ্বাস আর ঐতিহ্যের বন্ধনে অটুট রয়েছে শান্তিপুরের মহিষখাগী মাতার পুজো।
(দেশ, দুনিয়া, রাজ্য, কলকাতা, বিনোদন, খেলা, বিজনেস, লাইফস্টাইল, কেরিয়ার, ইউটিলিটির টাটকা খবর, আপডেট এবং ভিডিয়ো পেতে ডাউনলোড-লাইক-ফলো-সাবস্ক্রাইব করুন আমাদের Facebook, Whatsapp Channel, X (Twitter), Youtube, Instagram পেজ-চ্যানেল)