জি ২৪ ঘণ্টা ডিজিটাল ব্যুরো: বর্ষীয়ান লেখক ও চলচ্চিত্র নির্মাতা বেদ রাহি প্রয়াত। যিনি দূরদর্শনের অত্যন্ত জনপ্রিয় ধারাবাহিক ‘গুল গুলশান গুলফাম’ পরিচালনার জন্য বিশেষ ভাবে পরিচিত। ৯৩ বছর বয়সে শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেছেন। গত ১ নভেম্বর রবিবার সকালে মহারাষ্ট্রের থানেতে নিজের বাসভবনেই মৃত্যু হয়। বেদ রাহি রেখে গেলেন তাঁর দুই মেয়ে গীতাঞ্জলি ও পুনম-সহ তাঁদের পরিবারক। মৃত্যুর দিন বিকেলেই থানের কোপারি শ্মশানে তাঁর শেষকৃত্য সম্পন্ন হয়েছে। তাঁর মৃত্যুতে এমন এক সৃজনশীল ব্যক্তিত্বকে ইন্ডাস্ট্রি হারাল, যাঁর কাজের মাধ্যমে ভারতীয় সিনেমা, টেলিভিশন এবং সাহিত্য একে অপরের সঙ্গে যুক্ত হয়েছিল। কয়েক দশক ধরে চিত্রনাট্যকার, পরিচালক ও লেখক হিসেবে বেদ রাহি যে কর্মভাণ্ডার গড়ে তুলেছেন, তা বিভিন্ন ধরনের গল্প বলার মাধ্যমে এক অনন্য অবদান রেখে গেছে।
বেদ রাহির প্রয়াণে সাহিত্য অ্যাকাডেমির শ্রদ্ধাঞ্জলি
বেদ রাহির প্রয়াণে সাহিত্য অ্যাকাডেমি গভীর শোক প্রকাশ করেছে এবং আধুনিক ডোগরি সাহিত্যে তাঁর অবদানের কথা স্মরণ করেছে। সোশ্যাল মিডিয়ায় প্রকাশিত এক শ্রদ্ধাবার্তায় সাহিত্য অ্যাকাডেমি তাঁকে বিশিষ্ট লেখক, চিন্তাবিদ ও চলচ্চিত্র নির্মাতা হিসেবেই অভিহিত করা হয়েছে, যাঁর কাজ প্রজন্মের পর প্রজন্ম ধরে স্মরণীয় হয়ে থাকবে। বেদ রাহির সাহিত্যিক কৃতিত্বের কথাও তুলে ধরা হয়েছে। এর মধ্যে রয়েছে ১৯৮৩ সালে তাঁর গল্প সংকলন ‘আলে’র জন্য প্রাপ্ত সাহিত্য অ্যাকাডেমি পুরস্কার। এছাড়া তিনি অ্যাকাডেমির ফেলোশিপ সম্মানেও ভূষিত হন। অ্যাকাডেমি লিখেছে, 'আধুনিক ডোগরি সাহিত্যের অন্যতম বিশিষ্ট ব্যক্তিত্ব, প্রখ্যাত ডোগরি লেখক, চিন্তাবিদ ও চলচ্চিত্র নির্মাতা বেদ রাহিজি-র প্রয়াণে সাহিত্য অ্যাকাডেমি শোকস্তব্ধ।” বেদ রাহি-র কর্মজীবনের এক গুরুত্বপূর্ণ দিককেও তুলে ধরে। যদিও টেলিভিশন দর্শকরা তাঁকে ক্যামেরার নেপথ্যে থাকা একজন মানুষ হিসেবেই মনে রেখেছেন, তবুও সাহিত্যে তাঁর অবদান তাঁর সৃজনশীল সত্তার এক অবিচ্ছেদ্য অংশ হয়ে রয়েছে।
লেখক ও পরিচালক হিসেবে বেদ রাহি-র চলচ্চিত্র জীবন
পরিচালক হিসেবে পরিচিতি পাওয়ার আগে, বেদ রাহি ২৫টিরও বেশি চলচ্চিত্রে চিত্রনাট্যকার হিসেবে কাজ করেছেন। তাঁর চিত্রনাট্য লেখা উল্লেখযোগ্য চলচ্চিত্রগুলিরর মধ্যে রয়েছে ‘ইয়ে রাত ফির না আয়েগি’, ‘বেইমান’, ‘আপ আয়ে বাহার আয়ি’, ‘মোমে কি গুড়িয়া’ এবং ‘বেজুবান’। পরবর্তীকালে তিনি সিনেমা পরিচালনার দিকে ঝুঁকে পড়েন এবং ‘প্রেম পর্বত’, ‘কালি ঘাটা’ ও ‘বীর সাভারকর’-এর মতো সিনেমা তৈরি করেছেন। তাঁর লেখালেখি এবং টেলিভিশন কাজের পাশাপাশি, এই সিনেমাগুলি ভারতীয় সিনেমায় তাঁর অবদানের এক গুরুত্বপূর্ণ অংশ হয়ে রয়েছে। তাঁর কিছু সিনেমা, বিশেষ করে ‘প্রেম পর্বত’ ও ‘কালি ঘাটা’, বর্তমানে সহজে দেখার সুযোগ নেই। এগুলির সহজলভ্যতা কম হওয়ায়, যাঁরা তাঁর কাজ সম্পর্কে আরও জানতে আগ্রহী, তাঁদের পক্ষে তাঁর সিনেমার বিভিন্ন অংশ পুনরায় দেখা বেশ কঠিন হয়ে পড়েছে।
‘গুল গুলশান গুলফাম’- টেলিভিশন ইতিহাসের এক অবিস্মরণীয় সৃষ্টি
অনেক দর্শকের কাছেই বেদ রাহির নাম ‘গুল গুলশান গুলফাম’-এর সঙ্গে অবিচ্ছেদ্য ভাবে জড়িয়ে আছে। দূরদর্শনের এই ধারাবাহিক তাঁর সবচেয়ে পরিচিত টেলিভিশন কাজ হয়ে উঠেছিল এবং আজও তা দূরদর্শনের অনুষ্ঠানসূচির ইতিহাসে এক স্মরণীয় অধ্যায় হিসেবে রয়ে গিয়েছে। আশির দশকের শেষভাগ ও নব্বইয়ের দশকে বেদ রাহি টেলিভিশনের বেশ সক্রিয় ছিলেন এবং দূরদর্শনের বেশ কয়েকটি অনুষ্ঠানে কাজ করেছিলেন। ‘গুল গুলশান গুলফাম’-এর পাশাপাশি তিনি ‘মীরা’ ও ‘রিশতে’-র মতো ধারাবাহিকও পরিচালনা করেছেন। চলচ্চিত্র ও টেলিভিশন—উভয় মাধ্যমেই তাঁর কাজ প্রমাণ করে যে, তিনি বিভিন্ন ধরনের গল্প বলার শৈলীর সঙ্গে যুক্ত ছিলেন। চলচ্চিত্রে তিনি চিত্রনাট্যকার ও পরিচালক হিসেবে নিজের স্বাক্ষর রেখেছেন, আর টেলিভিশনের মাধ্যমে তাঁর সেই গল্প বলার শিল্প পৌঁছে গেছে দর্শকদের ঘরে ঘরে।
ভারতীয় আখ্যান ও ডোগরি সাহিত্যে এক দীর্ঘস্থায়ী অবদান
বেদ রাহির কর্মজীবনে সিনেমা, টেলিভিশন ও সাহিত্যের এক অপূর্ব মেলবন্ধন। চিত্রনাট্যকার হিসেবে তাঁর কাজ, পরিচালনার বিভিন্ন প্রকল্প এবং ডোগরি সাহিত্যে তাঁর গুরুত্বপূর্ণ অবদান তাঁকে এমন এক সৃজনশীল ব্যক্তিত্বে পরিণত করেছে, যা কোনো একটি নির্দিষ্ট মাধ্যমের গণ্ডিতে সীমাবদ্ধ থাকেনি। সাহিত্য অ্যাকাডেমির শ্রদ্ধাঞ্জলি তাঁর সাহিত্যিক উত্তরাধিকারকেও স্মরণ করিয়ে দেয়—বিশেষ করে তাঁর পুরস্কারজয়ী সংকলন ‘আলে’ (এবং আধুনিক ডোগরি সাহিত্যে তাঁর বিশেষ অবস্থানকে। দর্শকরা যখন ‘গুল গুলশান গুলফাম’-এর কথা স্মরণ করেন কিংবা তাঁর চলচ্চিত্র ও সাহিত্যকর্ম নতুন করে দেখেন, তখন বোঝা যায় যে, বেদ রাহি এমন এক সৃজনশীল ভাণ্ডার রেখে গেছেন, যা প্রজন্মের পর প্রজন্ম ধরে দর্শক ও পাঠকদের সমৃদ্ধ করে চলেছে।
(দেশ, দুনিয়া, রাজ্য, কলকাতা, বিনোদন, খেলা, বিজনেস, লাইফস্টাইল, কেরিয়ার, ইউটিলিটির টাটকা খবর, আপডেট এবং ভিডিয়ো পেতে ডাউনলোড-লাইক-ফলো-সাবস্ক্রাইব করুন আমাদের Facebook, Whatsapp Channel, X, Youtube, Instagram পেজ-চ্যানেল)