অয়ন ঘোষাল: প্রতিমা বিসর্জন নির্বিঘ্নে সম্পন্ন করতে কলকাতার গঙ্গার ঘাট থেকে শুরু করে বিভিন্ন জলাশয় ও সরোবরে নজিরবিহীন নিরাপত্তার ব্যবস্থা লালবাজারের। শহরের ২৮টি গঙ্গার ঘাট, আদিগঙ্গার পাঁচটি ঘাট এবং ৩৪টি জলাশয় ও সরোবরে পুলিস মোতায়েন করা হয়েছে।
বিসর্জনকে কেন্দ্র করে শহরের প্রায় ২০০টি গুরুত্বপূর্ণ সংযোগস্থল ও এলাকায় বিসর্জন পর্ব চলাকালীন থাকছে পুলিস পিকেট। গোটা পরিস্থিতির উপর কড়া নজর রাখা হচ্ছে।
'লাইফ সেভিং' নৌকা
গঙ্গায় দুর্ঘটনা এড়াতে থাকছে ২৫টি 'লাইফ সেভিং' নৌকা। তাতে পুলিসকর্মীদের পাশাপাশি দক্ষ মাঝি ও উদ্ধারকর্মীরা রয়েছেন। নিমতলা, বাজাকদমতলা, গোয়ালিয়র ঘাট ও গার্ডেনরিচে চারটি যন্ত্রচালিত নৌকা টহল দিচ্ছে। উদ্ধারকাজের জন্য নৌকাগুলিতে দড়ি ও হুক করে রাখা হচ্ছে। ওই চারটি ঘাটে সাঁতারে দক্ষ ডিজাস্টার ম্যানেজমেন্ট গ্রুপের (ডিএমজি) কর্মীদেরও মোতায়েন করা হয়েছে। অন্তত ৩০টি গঙ্গার ঘাট ও জলাশয়ে থাকবে ডিএমজি।
ঘাটের পরিচ্ছন্নতা
নিরাপত্তার পাশাপাশি ঘাটের পরিচ্ছন্নতা বজায় রাখতেও বিশেষ নির্দেশ দিয়েছে লালবাজার এবং পুরসভা। প্রতিটি ঘাটে কাঠামো পড়ার সঙ্গে সঙ্গে সেগুলো সরিয়ে নেওয়ার জন্য থাকছে ক্রেন। তৈরি আছে পুরসভার কঠিন বর্জ্য নিকাশি ব্যবস্থাপনার গাড়ি।
ক্রেন ব্যবহার নিষিদ্ধ
মুখ্যমন্ত্রীর নির্দেশে এবার প্রতিমা নিরঞ্জনের সময় ক্রেন ব্যবহার নিষিদ্ধ। তবে প্রতিমা জলে পড়ার পর জল থেকে কাঠামো অত্যন্ত দ্রুত তুলে নেওয়ার জন্য ক্রেন ব্যবহৃত হচ্ছে। প্রতিমার মাটি এবং রঙ যাতে জলে বেশিক্ষণ না থাকে এবং সেগুলো যাতে গলে জলের দূষণ না বাড়ায় সেই বিষয়টি অগ্রাধিকার দিয়েছে পুরসভা।
বিসর্জনের অনুমতি
বুধবার ২১ অক্টোবর থেকে শনিবার ২৪ অক্টোবর মধ্যরাত পর্যন্ত বিসর্জনের অনুমতি আছে। শহরের ২৮ টি ঘাটে দিনরাত বিসর্জনের ব্যবস্থা করা হয়েছে। এই কাজে পুরসভার বিভিন্ন বিভাগ থেকে মোট ৬১১ জন কর্মীকে মোতায়েন করা হয়েছে।
বাড়তি সতর্কতা
চোরবাগান সর্বজনীনে বিপর্যয়ের পর পুলিস বিসর্জনের সময় বাড়তি সতর্কতা অবলম্বন করেছে। রাতের দিকে জোয়ার আসার অনেক আগে থেকেই ঘোষণা করে সতর্কবার্তা দেওয়া হচ্ছে পুলিসের তরফে। পাশাপাশি, প্রতিমা নিরঞ্জনকারীদের ছাড়া কাউকে ঘাটের কাছে দেওয়া হচ্ছে না। বিসর্জন করতেও গঙ্গার ঘাটে কাউকে বেশি দূর নামতে দেওয়া হচ্ছে না। কলকাতা বন্দরের নৌকা দিয়েও নজরদারি চলছে।
মেডিক্যাল টিম
ঘাটে ঘাটে তাৎক্ষণিক চিকিৎসার জন্য ৪৩টি মেডিক্যাল টিম এবং সাতটি অ্যাম্বুল্যান্স প্রস্তুত রাখা হয়েছে। রতনবাবুর ঘাট থেকে বিচালিঘাট পর্যন্ত জলপথে এনডিআরএফের আটটি দল মোতায়েন রয়েছে। প্রতিটি দলে ৩৫ জন কর্মী রয়েছেন। সিভিল ডিফেন্সের ৫৬ জন স্বেচ্ছাসেবকও সাতটি মোটরচালিত নৌকা, লাইফ জ্যাকেট, লাইফ বয়া এবং ডুবুরি নিয়ে প্রস্তুত রয়েছেন। এ ছাড়া, ১২টি বায়ো-টয়লেট, ২৮টি পানীয় জলের ট্যাঙ্কার, পর্যাপ্ত আলোর ব্যবস্থা এবং নির্দেশিকা-সহ মাইক প্রচারের ব্যবস্থা রাখা হয়েছে।
(দেশ, দুনিয়া, রাজ্য, কলকাতা, বিনোদন, খেলা, বিজনেস, লাইফস্টাইল, কেরিয়ার, ইউটিলিটির টাটকা খবর, আপডেট এবং ভিডিয়ো পেতে ডাউনলোড-লাইক-ফলো-সাবস্ক্রাইব করুন আমাদের Facebook, Whatsapp Channel, X (Twitter), Youtube, Instagram পেজ-চ্যানেল)