জি ২৪ ঘন্টা ডিজিটাল ব্যুরো: ১৪৪ না ২০৯? ডিলিমিটেশন বিতর্কে এবার কলকাতা পুরসভার নির্ঘণ্ট প্রকাশে স্থগিতাদেশ জারি করল বিচারপতি সব্যসাচী ভট্টাচার্য এবং বিচারপতি অর্জুন রায় মুখোপাধ্যায়ের ডিভিশন বেঞ্চ। মামলাটি এখন হাইকোর্টের সিঙ্গল বেঞ্চে। সেই মামলার নিষ্পত্তি না হওয়া পর্যন্ত পুরভোটের নির্ঘণ্ট জারি করা যাবে না।
কলকাতা পুরসভায় ডিলিমিটেশন। ১৪৪ থেকে বেড়ে ওয়ার্ড সংখ্যা ২০৯! এই ডিলিমিটেশন নিয়ে আপত্তি তুলেছে বিরোধীরা। মামলা গড়িয়েছে কলকাতা হাইকোর্টে। হাইকোর্টের সিঙ্গল বেঞ্চে মামলা করেছেন কসবার সিপিএম নেতা, ছাব্বিশে প্রার্থী দীপু দাস। তাঁর অভিযোগ, আইন মেনে পুরসভায় ডিলিমিটেশন হয়নি। অন্তর্বর্তী স্থগিতাদেশ নয়, দু'পক্ষের কাছে হলফনামা চেয়েছিল আদালত। রাজ্য সরকারকে সময় দেওয়া হয়েছিল চার সপ্তাহ। তারপরের দুই সপ্তাহে হলফনামা দিতে বলা হয়েছিল মামলাকারীকে।
হাইকোর্টের সিঙ্গল বেঞ্চে এই নির্দেশ চ্য়ালেঞ্জ করে ডিভিশন বেঞ্চে যান মামলাকারী। তাঁর বক্তব্য, ৬ সপ্তাহ অপেক্ষা করলে ততদিনে পুরভোট হয়ে যাবে। ফলে এই মামলার আর কোনও প্রাসঙ্গিকতা থাকবে না। মামলাকারী বক্তব্যকে মান্যতা দিয়েই মামলার নিষ্পত্তি না হওয়া পর্যন্ত পুরভোটের নির্ঘন্ট প্রকাশে স্থগিতাদেশ জারি করে দিল হাইকোর্টের ডিভিশন বেঞ্চ।
সিপিএম নেতা, আইনজীবী বিকাশরঞ্জন ভট্টাচার্য বলেন, 'কাজটা সম্পূর্ণ বেআইনি, অসাংবিধানিক। পুরসভা যেখানে নেই, পুরসভা ভেঙে দিয়েছ। তুমি তোমার পছন্দমতো একজন প্রশাসক করলে, যে পুরসভার কর্মী। তার কাছ থেকে সুপারিশ নিয়ে ওয়ার্ড ভাগ করে দিল! খরচ কে বহন করবে! পুরসভা তো ধুঁকছে'! তাঁর দাবি, 'প্রকৃতপক্ষে জনগণের উপরে করবৃদ্ধি পরিকল্পনা ঘুরপথে। শুধু হাওয়ায় হাওয়ায় তো প্রশাসন চলে না। শাসকদল সুবিধামতো ভোটে জেতার জন্য ওয়ার্ডগুলিতে ভাগ করেছে। কোথায় পাঁচশো ভোটার, কোথায় ছাব্বিশ হাজার ভোটার! কোর্ট ঠিক কাজই করেছে। বিচার হলে পুরোটাই বাতিল হয়ে যাবে, চিন্তার কোনও কারণ নেই'।
মমতাপন্থী তৃণমূল নেতা বৈশ্বানর চট্টোপাধ্যায়ের প্রতিক্রিয়া, 'আমরা বলেছিলাম ডিমিলিটেশনটা অবৈজ্ঞানিকভাবে হয়েছে। আমি ২০০৫ থেকে কলকাতা পুরসভার কাউন্সিলর। ২০২৬ এসে দেখছি, ১৪৪টা ২০৯ হচ্ছে, অথচ ডিমিলিটেশনটা পাবলিক হেয়ারিং করা হল না, মানুষ জানতেই পারল না। কী পরিকাঠামো, কী তার পরিস্থিতি, আপনি লিখলেন জনসংখ্য়া ভিত্তিতে, কিন্তু করলেন ভোটার সংখ্যার নিরিখে। ভোটার আর জনসংখ্যা, দুটো কথার আলাদা হয়'!
কলকাতায় পুরভোটে বিজেপি তরফে ইনচার্জ কেন্দ্রীয় সুকান্ত মজুমদার। তাঁর স্পষ্ট কথা, 'আইন মেনে কাজ হবে। আমাদের সরকার নিশ্চয়ই আদালতে যাবে, এই মামলার সমাধানের চেষ্টা করবে। যাতে খুব তাড়াতাড়ি জনপ্রতিনিধি পেতে পারি'। বলেন, জনপ্রতিনিধিদের সমরোহে স্থানীয় প্রশাসন বা যেকোনও প্রশাসন থাকে। স্বাভাবিকভাবেই সাধারণ মানুষের অসুবিধা বাড়ে, আমার কাজটা না হলে কাকে বলব, রাস্তা করার জন্য কাকে বলব, জঞ্জাল পরিষ্কার করার জন্য কাকে বলব! সরকারি আধিকারিকরা তো থাকতে বা আসতে পারেন না, সম্ভবও নয়'।
(দেশ, দুনিয়া, রাজ্য, কলকাতা, বিনোদন, খেলা, বিজনেস, লাইফস্টাইল, কেরিয়ার, ইউটিলিটির টাটকা খবর, আপডেট এবং ভিডিয়ো পেতে ডাউনলোড-লাইক-ফলো-সাবস্ক্রাইব করুন আমাদের Facebook, Whatsapp Channel, X, Youtube, Instagram পেজ-চ্যানেল)