অয়ন ঘোষাল: শরতের মেঘমুক্ত আকাশ আর শিউলি ফুলের গন্ধে চারপাশ মুখরিত। বাঙালির অন্যতম শ্রেষ্ঠ উৎসব শারদীয়া উৎসব সমাপনে এবার কোজাগরী লক্ষ্মীপুজোর আবাহন। ঘরে ঘরে মা লক্ষ্মীর আরাধনার প্রস্তুতি তুঙ্গে। কিন্তু উৎসবের আনন্দের মাঝেই লাগামছাড়া বাজারদরে নাভিশ্বাস উঠছে মধ্যবিত্ত বাঙালির। সবজির দাম থেকে শুরু করে মাছের দাম— এ বছর পুজোর বাজারে সবকিছুর দামই সাধারণ মানুষের নাগালের বাইরে চলে গিয়েছে যেন! নিত্যপ্রয়োজনীয় জিনিসপত্রের অগ্নিমূল্য বাজার মধ্যবিত্ত ও নিম্নবিত্ত পরিবারের কপালে চিন্তার ভাঁজ ফেলেছে।
পুজোর বাজারে অগ্নিমূল্য মাছ
পুজোর বাজারের ফর্দ হাতে নিয়ে বাজারে বাজারে ক্রেতাদের দীর্ঘশ্বাস। কোজাগরী লক্ষ্মীপুজোয় মাছ বাঙালির ঐতিহ্য ও রীতিনীতির এক অপরিহার্য অঙ্গ। কিন্তু বর্তমান বাজারে সাধারণ রুই-কাতলা মাছও অগ্নিমূল্য। মাছে যেন হাত দেওয়ার জো নেই! পাতে মাছ তোলা তো অনেক পরের কথা! রুই-কাতলার মধ্যে কাতলা মাছ বিক্রি হচ্ছে প্রতি কেজি ৩২০ টাকায়। অন্যদিকে ছোট থেকে মাঝারি পারশে এবং পাবদার দাম একলাফে পৌঁছে গিয়েছে ৬০০ টাকা প্রতি কেজিতে। ইলিশ মাছের ক্ষেত্রে সাইজ অনুযায়ী দামের তারতম্য রয়েছে। দাম আকাশছোঁয়া। এক কেজির ইলিশ ১৪০০ টাকা থেকে শুরু করে ২৫০০ টাকা পর্যন্ত দামেও বিক্রি হচ্ছে। খাস কলকাতা থেকে শহরতলির বাজারেও চিংড়ির চড়া দাম। গলদা চিংড়ি বিক্রি হচ্ছে ৯০০ টাকা এবং বাগদা চিংড়ি ৭০০ টাকা প্রতি কেজি দরে।
সবজি-ফলের চড়া দাম
মাছের পাশাপাশি সবজি বাজারের অবস্থাও অত্যন্ত শোচনীয়। সবজির চড়া দাম ক্রেতার পকেট ফাঁকা করে দিচ্ছে। বাজারে ঢ্যাঁড়শ, শসা, বেগুন, ঝিঙে— সব সবজির দামই পৌঁছে গিয়েছে ৮০ টাকা প্রতি কেজিতে। টমেটো বিক্রি হচ্ছে কেজি প্রতি ৬০ টাকায়। অন্যদিকে, স্যালাড ও চাইনিজ খাবার তৈরিতে প্রয়োজনীয় ক্যাপসিকাম কিনতে হচ্ছে ১২০ টাকা প্রতি কেজিতে।
উৎসবের দিনে ফলমূল এবং পূজার উপকরণের চাহিদা থাকে তুঙ্গে, আর সেই সুযোগেই বিক্রেতারা দাম বাড়িয়ে দিয়েছেন বহুগুণ। পুজোর নারকেল বিক্রি হচ্ছে প্রতি পিস ৫০ টাকায়। ফলের বাজারও আগুন। পেয়ারা ১০০ টাকা, আতা ৮০ টাকা এবং বেদানা ২০০ টাকা প্রতি কেজি দরে বিক্রি হচ্ছে। পানিফল বিক্রি হচ্ছে ৪০ টাকা প্রতি কেজিতে। কাঁঠালি কলা ৭ টাকা প্রতি পিস।
কেন দাম বৃদ্ধি
অর্থনীতিবিদদের মতে, উৎসবের মরশুমে যোগান ও চাহিদার মধ্যে ফারাকের কারণেই এই মূল্যবৃদ্ধি। কিন্তু যেভাবে প্রতিটি জিনিসের দাম বেড়েছে, তাতে কীভাবে পুজো করা হবে আর কীভাবেই বা সংসার চলবে, সেই প্রশ্নটাই বড় হয়ে দাঁড়িয়েছে। নিত্যপ্রয়োজনীয় জিনিসের মূল্যবৃদ্ধি সামলে পুজোর জোগাড় করা ও সংসার সামলানো-ই এখন মধ্যবিত্ত মানুষের কাছে সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছে। প্রশাসনের পক্ষ থেকে বাজারদর নিয়ন্ত্রণের কঠোর পদক্ষেপ না নিলে, উৎসবের মরশুমে সাধারণ মানুষের দুর্ভোগ আরও বাড়বে বলেই আশঙ্কা করছেন বাজার বিশেষজ্ঞরা। সরকারের তরফে টাস্ক ফোর্স নামিয়ে বাজারদর নিয়ন্ত্রণের দাবি জানিয়েছেন সাধারণ মানুষও।
কোজাগরী লক্ষ্মীপুজোর বাজারদর একনজরে
কাতলা ৩২০
পার্শে ৬০০
পাবদা ৬০০
ইলিশ ১৪০০ থেকে ২৫০০ (সাইজ অনুযায়ী)
গলদা চিংড়ি ৯০০
বাগদা চিংড়ি ৭০০
ভেন্ডি ৮০ টাকা
টম্যাটো ৬০ টাকা
শসা ৮০ টাকা
ক্যাপসিকাম ১২০
বেগুন ৮০
ঝিঙে ৮০ টাকা
পেয়ারা ১০০
নারকেল ৫০ টাকা পিস
পানিফল ৪০ টাকা
বেদানা ২০০ টাকা
আতা ৮০ টাকা
কাঁঠালি কলা ৭ টাকা পিস
(দেশ, দুনিয়া, রাজ্য, কলকাতা, বিনোদন, খেলা, বিজনেস, লাইফস্টাইল, কেরিয়ার, ইউটিলিটির টাটকা খবর, আপডেট এবং ভিডিয়ো পেতে ডাউনলোড-লাইক-ফলো-সাবস্ক্রাইব করুন আমাদের Facebook, Whatsapp Channel, X, Youtube, Instagram পেজ-চ্যানেল)