অয়ন ঘোষাল: চোরবাগানের প্রতিমা নিরঞ্জন নিয়ে জটিলতা কাটল। শুক্রবার ওই পুজো চত্বরে প্রতিমা নিরঞ্জনের প্রস্তুতি শুরু হয়েছে। মণ্ডপের একটি অংশ খুলে প্রতিমা বার করার প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে। গত বৃহস্পতিবার রাতেই তদন্ত কমিটির প্রধান হিসেবে কলকাতা হাই কোর্টের প্রাক্তন বিচারপতি ঘটনাস্থলে পৌঁছে জানিয়েছিলেন, তদন্তের প্রয়োজনে প্রতিমা রেখে দেওয়ার ব্যাপার নেই। এর পরেই শুক্রবার বিকেলে নিরঞ্জনের প্রস্তুতি শুরু হয়। মণ্ডপের মূল প্রবেশ পথের একটা অংশ লোহা কাটার ড্রিল মেশিন দিয়ে কাটার কাজ শুরু হয়।
প্রতিমা প্রবেশ করানো হয়েছিল মণ্ডপের পিছনের অংশ দিয়ে। এরপর মণ্ডপ গঠন সম্পূর্ণ করতে শুরু করেন শিল্পী সুশান্ত শিবানী পাল। প্রতিমাও সম্পূর্ণ হতে থাকে। প্রায় ২৫ ফুট উঁচু প্রতিমা শুধুমাত্র সামনের মুল প্রবেশপথের একটা অংশ কেটে আদৌ বের করা সম্ভব কিনা সেটা এখনও পর্যন্ত স্পষ্ট নয়। কাজটা বড় সহজ নয়। তাই কাল বিকেল থেকে কাজ শুরু হলেও আজ নিরঞ্জনের গাইডলাইনের শেষ দিনে ঠিক কখন কীভাবে প্রতিমা বের করে বিসর্জনে নিয়ে যাওয়া হবে তা নিয়ে পুজো কর্তাদের তরফে কোনও স্পষ্ট ধারণা মিলছে না। ইতিমধ্যেই পুজোর অন্যতম কর্মকর্তা-সহ ৯ জন গ্রেফতার। বাকিরা এই বিষয়টি নিয়ে স্পষ্ট করে কিছু বলতে চাননি।
তদন্তের স্বার্থে এবং আরও ফরেনসিক নমুনা সংগ্রহের পথ খোলা রাখতে মণ্ডপ থেকে বেরোনোর দুটি পথ বন্ধ রাখা হয়েছে। সামনের দিকের পথ দিয়েই প্রতিমা বার করা হতে পারে বলে খবর। সে জন্য মণ্ডপের সামনের অংশ ভেঙে বার করা হতে পারে প্রতিমা। সেই কারণে গতকাল এই পুজোর শিল্পী সুশান্ত শিবানী পালকে মণ্ডপে ডাকা হয়েছিল পুলিশের তরফে। তাঁর কাছ থেকে গিরিশ পার্ক থানার পুলিস মণ্ডপের সামনের দিকের অংশ কী করে ভেঙে প্রতিমা বার করা যায়, সে ব্যাপারে ধারণা চাওয়া চেয়েছে। প্রয়োজনে প্রতিমা বের করার সময় তাঁকে সেখানে সশরীরে উপস্থিত থাকতে বলা হয়েছে।
প্রসঙ্গত, কলকাতা পুলিসের বিসর্জন গাইডলাইন অনুযায়ী আজ ২৪ অক্টোবর শনিবার বিসর্জনের শেষ দিন। চোরবাগানের প্রতিমা পুজো কমিটির তরফে আজকেই বিসর্জন দেওয়া হবে। তবে ঠিক কীভাবে এখন কখন, তানিয়ে রয়েছে বিস্তর প্রশ্ন এবং ধোঁয়াশা।
(দেশ, দুনিয়া, রাজ্য, কলকাতা, বিনোদন, খেলা, বিজনেস, লাইফস্টাইল, কেরিয়ার, ইউটিলিটির টাটকা খবর, আপডেট এবং ভিডিয়ো পেতে ডাউনলোড-লাইক-ফলো-সাবস্ক্রাইব করুন আমাদের Facebook, Whatsapp Channel, X, Youtube, Instagram পেজ-চ্যানেল)