SOCIAL MEDIA

Newsletter

PARTNER SITES
Select Language Select State

ইন্দ্রনীল সেনের অ্যাকাউন্টে ১.২৮ কোটি টাকা! স্ত্রী-মেয়ের অ্যাকাউন্টেও লেনদেনের অভিযোগ

দুটি ইভেন্ট ম্যানেজমেন্ট সংস্থার মাধ্যমে তাঁর অ্যাকাউন্টে ১ কোটি ২৮ লক্ষ টাকা ঢোকার অভিযোগ রয়েছে। তাঁর স্ত্রী মধুছন্দা সেন এবং মেয়ের অ্যাকাউন্টেও বিপুল অঙ্কের টাকা জমা পড়েছে বলে অভিযোগ।

Written By Debasmita Das
Published: Oct 29, 2026, 02:35 PM IST | Updated: Oct 29, 2026, 03:19 PM IST
Join

বিক্রম দাস: পাস বিক্রি কাণ্ডে প্রাক্তন মন্ত্রী ইন্দ্রনীল সেনের সঙ্গে জড়িত থাকা অভিযোগ তদন্তে আসছে। দুটি ইভেন্ট ম্যানেজমেন্ট সংস্থা থেকে তাঁর ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্টে ১ কোটি ২৮ লক্ষ টাকা আসে বলে অভিযোগ। সেই টাকা তাঁর স্ত্রী ও মেয়ের অ্যাকাউন্টে গিয়েছিল বলে দাবি করেছে তদন্তকারীরা। এই টাকার উৎস কী, কেন এবং কোন খাতে এই লেনদেন হয়েছিল তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে।

অভিযোগ, মন্ত্রী থাকাকালীন তিনি নিজের পদের প্রভাব খাটিয়ে সংস্থাগুলিকে টেন্ডার দেয়ার সুবিধা দিয়েছিলেন। এই কারণে সংস্থাগুলির সঙ্গে তাঁর আর্থিক লেনদেন তদন্তকারীদের নজরে আসে। তবে এই অভিযোগগুলির সত্যতা এখনও প্রমাণিত হয়নি। এই বিষয়ে বিতর্ক ২০২২ সালে তৈরি হওয়া ‘মহানির্বাণ রোড মাস আর্ট সোসাইটি’ সংস্থার কাছ থেকে শুরু হয়। এই সংস্থা ইউনেস্কোর সঙ্গে যুক্ত থাকার দাবি করে পাস বিক্রি করে। সংস্থার প্রেসিডেন্ট ছিলেন ইন্দ্রনীল সেনের স্ত্রী মধুছন্দা সেন।

আরও পড়ুন, দিল্লি গিয়েই কাটাতে হবে কেন্দ্রীয় প্রকল্পের জট, উন্নয়নে গতি আনতে সচিবদের কড়া নির্দেশ 

অভিযোগ, কলকাতার ২৪টি দুর্গাপুজোকে বেছে নিয়ে প্রথম চার দিনের টিকিট তৈরি করা হয়েছিল। এতে ইউনেস্কোর নাম ও লোগো ব্যবহার করা হয়েছিল। কিন্তু ইউনেস্কোর সঙ্গে কোনও আনুষ্ঠানিক চুক্তি ছিল না বলে অভিযোগ। পাস বিক্রি করে ৬০ কোটি টাকারও বেশি তোলা হয়েছিল বলে অভিযোগ। তবে তদন্তের পর্যায়ে আর্থিক অনিয়মের অঙ্ক সম্পর্কে বিভিন্ন তথ্য সামনে এসেছে। কলকাতা পুলিস ও ইডি টাকার উৎস ও গতিপথ খতিয়ে দেখছে।

সরকারি টেন্ডার ও আর্থিক লেনদেনের যোগ রয়েছে কি না, তা নিয়ে তদন্ত চলছে। ইডি বলেছে যে, ইন্দ্রনীল সেন মন্ত্রী ছিলেন সময়ে তাঁর ঘনিষ্ঠ সংস্থাগুলি সরকারি টেন্ডার পেয়েছিল এবং ওই টেন্ডারের মূল্য ছিল ৮৫ কোটি টাকার বেশি। পরে ওই সংস্থাগুলির কাছ থেকে ইন্দ্রনীলের আত্মীয়দের অ্যাকাউন্টে টাকা গিয়েছিল কি না, সেই লেনদেন খতিয়ে দেখা হচ্ছে। তদন্তের গুরুত্বপূর্ণ দিক হল সরকারি কাজের বরাত পাওয়া সংস্থাগুলির সঙ্গে ইন্দ্রনীল সেন ও তাঁর পরিবারের সদস্যদের অ্যাকাউন্টে টাকা জমা পড়ার মধ্যে কোনও যোগ রয়েছে কি না। কোনও কাজের বিনিময়ে টাকা দেওয়া হয়েছিল কি না, সেই বৈধ নথি আছে কি না, সরকারি টেন্ডার পাওয়ার ক্ষেত্রে কোনও অনিয়ম হয়েছিল কি না, সেই সব প্রশ্নের উত্তর খোঁজা হচ্ছে।

তদন্তে ইন্দ্রনীল সেন ও তাঁর পরিবারের অ্যাকাউন্ট, সম্পত্তি ও আর্থিক নথি খতিয়ে দেখা হচ্ছে। ইডি এর আগে এই মামলায় কলকাতার একাধিক জায়গায় তল্লাশি চালিয়েছিল। তদন্তকারী নথি ও ডিজিটাল তথ্য খতিয়ে দেখছেন। ইন্দ্রনীল সেনের মালিকানাধীন ‘অকটেভ রেকর্ডস’ সংস্থার অ্যাকাউন্ট থেকে প্রায় ৩০ লক্ষ টাকা মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের অ্যাকাউন্টে গিয়েছিল বলে ইডি দাবি করেছিল। ওই অর্থ রয়্যালটি হিসেবে দেওয়া হয়েছিল বলে ইন্দ্রনীল সেনের বক্তব্য। এই লেনদেনের কথা উল্লেখ করা হয়েছে, কিন্তু শুধু টাকা স্থানান্তরের তথ্য থেকে কোনও অপরাধ প্রমাণিত হয় না।

আরও পড়ুন, ইন্দ্রনীলের গ্রেফতারিতে চন্দননগরে উত্‍সব! 'মমতার সঙ্গে গান গাইতেন', কটাক্ষ মুখ্য়মন্ত্রীর

এখন তদন্তের নজরে কী কী বিষয় রয়েছে তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে, ইউনেস্কোর নাম ও লোগো ব্যবহার করে পাস বিক্রি, সেই বিক্রি থেকে সংগৃহীত টাকার গতিপথ এবং সরকারি টেন্ডার পাওয়ার ক্ষেত্রে কোনও প্রভাব খাটানো হয়েছিল কি না। দুটি ইভেন্ট ম্যানেজমেন্ট সংস্থার মাধ্যমে ইন্দ্রনীল সেনের অ্যাকাউন্টে ১ কোটি ২৮ লক্ষ টাকা জমা পড়ার অভিযোগ এবং তাঁর স্ত্রী-মেয়ের অ্যাকাউন্টে টাকা যাওয়ার দাবি এই তদন্তে নতুন প্রশ্ন তুলেছে। তবে সংশ্লিষ্ট লেনদেনের সম্পূর্ণ বিবরণ, টাকার নির্দিষ্ট উৎস এবং প্রতিটি অভিযোগের চূড়ান্ত সত্যতা তদন্ত ও আদালতের প্রক্রিয়াতেই স্পষ্ট হবে।

(দেশ, দুনিয়া, রাজ্য, কলকাতা, বিনোদন, খেলা, বিজনেস, লাইফস্টাইল, কেরিয়ার, ইউটিলিটির টাটকা খবর, আপডেট এবং ভিডিয়ো পেতে ডাউনলোড-লাইক-ফলো-সাবস্ক্রাইব করুন আমাদের Facebook, Whatsapp Channel, X, Youtube, Instagram পেজ-চ্যানেল)

Add Zee News as a Preferred Source

About the Author

৮ বছর আগে বৈদ্যুতিন মাধ্যমে হাতেখড়ি। ক্যামেরার সামনে অথবা ডেস্ক-- সমান সাবলীল। বিনোদন দুনিয়ায় সাংবাদিকতার শুরু। ক্রমে নিজের আগ্রহের তালিকায় যুক্ত হয়েছে রাজনীতি, ক্রাইম, প্রযুক্তি, অর্থনীতি, আন্তর্জাতিক সম্পর্ক। বিশ্বাস, ডিজিটাল সাংবাদিকতা এখন মার্কেটিং ও প্যাকেজিং। 

ZEENEWS TRENDING STORIES