অয়ন ঘোষাল: পুজো শেষ। পুরসভা ভোটের প্রস্তুতি শুরু। এর মধ্যেই রাজ্যে পঞ্চায়েত ও গ্রামোন্নয়ন মন্ত্রী দিলীপ ঘোষের রাজনৈতিক প্রতিক্রিয়া সামনে এল। তবে পুজো কেমন কাটল দিলীপ ঘোষের? মন্ত্রীর দাবি, পুজো খুব ভালো কেটেছে। পুজোর আয়োজন থেকে ব্যবস্থাপনা, সবকিছুই ভাল ছিল। ওই ঘটনা ঘটত না যদি আয়োজকরা প্রথম থেকে সতর্ক থাকত।ঋ
ঋতব্রত শিবিরের বৈঠক, মমতা তৃণমূল কংগ্রেস অপেক্ষা করছে কংগ্রেসের জোট নিয়ে। প্রার্থী তালিকা নিয়ে তাদেরও আলোচনা শুরু হয়েছে। এসবের মধ্য়েই দিলীপ ঘোষের বক্তব্য, রাজনীতি সারা বছর চলতে থাকে। দুর্গাপুজোর জন্য ১০- ১২ দিন মানুষ আনন্দে ছিলেন। কিন্তু এরা তার মধ্যেও রাজনীতি করে গিয়েছে। সম্প্রতি সাধারণ নির্বাচন হয়ে গিয়েছে রাজ্যে। মানুষ তার রায় দিয়েছে। পুরসভা ভোটের রায় সেদিকেই যাবে। বিরোধীরা নিজেদের মধ্যে জোট নিয়ে আলোচনা চালিয়ে যাক। বিজেপি মানুষের সঙ্গে রয়েছে।
ঋতব্রত শিবির তাও নিজেদের মধ্যে বৈঠকে বসছে। মমতা তৃণমূল কংগ্রেস একদমই ছন্নছাড়া! এর উত্তরে মন্ত্রী বলেন, বিরোধীরা প্রত্যেকেই ছন্নছাড়া। গত ৫০ বছর ধরে যারা রাজত্ব করেছে, তাদেরকে মানুষ দেখেছে। গ্রহণযোগ্য তাই নষ্ট হয়ে গিয়েছে। তাই মানুষের এখন তাদেরকে নিয়ে কোন চিন্তা নেই।
তৃণমূল বোর্ডের অনেক কাউন্সিলর ইতিমধ্যে বিজেপির সঙ্গে যোগাযোগ করছেন। তারা পদ্ম শিবিরে যুক্ত হতে চান। তৃণমূল বোর্ডের কাউন্সিলরদের জন্য বিজেপি দরজা খুলবে? দিলীপ বাবুর কথায়, আমার দলের শীর্ষ নেতৃত্ব এ ব্যাপারে বৈঠক করছে। তারাই এ ব্যাপারে যাবতীয় সিদ্ধান্ত নেবে। তবে বাংলার রাজনীতিতে কোন কিছুই অসম্ভব নয়। তমোঘ্ন ঘোষ, অনুপম ভট্টাচার্যের মতো হেভিওয়েটরা এবার বিজেপি প্রার্থী তালিকায় স্থান পেতে চলেছেন। স্বদেশ সজল ঘোষ কি এবার প্রজেক্টেড মেয়র ? দিলীপ ঘোষের কাছে খবর কি? তাঁর সাফ কথা, আমাদের দল এভাবে কাউকে মেয়র প্রজেক্ট করে না। দল টিকিট দেবে। যাদের জেতার সম্ভাবনা আছে, তাদেরকে বাছাই করে নেবে। সেখান থেকে নেতা নির্বাচিত হবে।
ঝাড়গ্রামের প্রত্যন্ত কালাঝরিয়ার মানিক পাড়ায় শবর গ্রামে যাচ্ছেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। পিছিয়ে পড়া শবর গ্রাম পরিদর্শনে আসছেন প্রশাসনিক নেতৃত্ব। এলাকার আদিবাসী শবর জনগোষ্ঠীর জীবনযাত্রার কি এবার মানোন্নয়ন হবে? দিলীপ ঘোষ বলেন, আমাদের পশ্চিমবাংলায় কিছু প্রিমিটেড ট্রাইব রয়েছেন, উত্তর তো অল্প পরিমাণ থাকলেও পশ্চিমবঙ্গে জঙ্গলমহল বা আদিবাসী এলাকায় তাদের গুরুত্ব অপরিসীম। যেমন টোটো। টোটো এলাকায় মুখ্যমন্ত্রী গিয়েছেন। মুখ্যমন্ত্রী বলেছিলেন, এখানকার মানুষের জন্য ঘর বানিয়ে দেবেন। পঞ্চায়েত দফতরের তরফে সেই মতো তালিকা তৈরি হয় এবং তালিকায় ইতিমধ্যে পাঠিয়ে দেওয়া হয়েছে। যেমন শবর এবং লোধারা রয়েছে। এরা প্রত্যন্ত জঙ্গলমহলে থাকেন। এখনো এরা আধুনিক সুবিধা পাননি। ধীরে ধীরে এই মানুষগুলিকে উন্নয়নের আলো নিয়ে আসা হচ্ছে। শিক্ষার ব্যবস্থা করা হচ্ছে। তাদের আলোর মধ্যে নিয়ে এসে শিক্ষিত করতে হবে। বাসস্থানের ব্যবস্থা করতে হবে। সমাজে প্রত্যেকের মত যাতে তারা চলাফেরা করতে পারেন, সেই ব্যবস্থা করা হবে। তাদের খাওয়া- দাওয়া এবং যাবতীয় পরিষেবার ব্যবস্থা করতে হবে রাজ্য সরকারকে। সেই বিষয়টি মুখ্যমন্ত্রী দেখতে যাচ্ছেন।
আর বেশি সময় নয় NCPIকে। স্পিকারের থেকে এবার চূড়ান্ত সময়সীমা পেতে চলেছে এনসিপিআই। শুক্রবার সুদীপ- কাকুলীদের চূড়ান্ত সময় জানিয়ে দেবেন স্পিকার। মন্ত্রী জানান, এনসিপিআই কি করছে তাতে রাজ্যের মানুষের কোনও মাথাব্যাথা নেই। দিল্লিতে করছে, করতে দিন। আমাদের এই বিষয়ে মাথা খারাপ করার কোন প্রয়োজনীয়তা।
পুরুলিয়া হাসপাতালের জের, শুক্রবার দুপুর ১২টায় স্বাস্থ্য ভবনে জরুরী বৈঠক। স্বাস্থ্য ভবনের অনুমিত ছাড়া কোন ছুটি নেওয়া যাবে না। এই সম্পর্কিত সতর্ক করতেই এই বৈঠক। আক্ষেপ করে বিজেপি নেতা বলেন, হাসপাতালের ভিতরের অবস্থা প্রথম থেকেই গোলমেলে রয়েছে। আমাদের মুখ্যমন্ত্রী এবং স্বাস্থ্যমন্ত্রী পরিস্থিতি বদল করার চেষ্টা করছেন। কর্মচারীর অভাব রয়েছে। তৃণমূল নেতা থেকে মন্ত্রীরা টাকা নিয়ে জিতের লোকজনকে ঢুকিয়ে দিয়েছে। যারা কোন কাজ করে না। যারা কলকাতা বিভিন্ন জায়গায় ঘুরে বেড়ায়। আবর্জনা তোলার জন্য এজেন্সির মাধ্যমে চুক্তি স্বাক্ষরিত হয়েছে। খড়গপুর হাসপাতাল মাঝেমধ্যে গিয়ে দেখি পরিষেবা নেই, নোংরা ছড়িয়ে ছিটিয়ে পড়ে রয়েছে। সব জায়গায় কাটমানি খেয়ে এই ধরনের কাজ করেছে বলে আজ এই দুর্দশা। সরকার পরিস্থিতি বদলানোর কাজ করছে।
হাওড়ার বাঁকড়াতে ডেঙ্গুর থাবা। বাড়ছে আক্রান্তের সংখ্যা। এখনও পর্যন্ত আক্রান্ত ৬২৩ জন। এ বিষয়ে কথা বলতে গিয়ে তিনি বলেন, ডেঙ্গু পশ্চিমবঙ্গে ব্যাপক আকারে হত। অজানা জ্বর দাবি করে বিগত সরকার চেপে রাখত। বৃষ্টির জল যেখানে জমে থাকছে সেখানে মশা লার্ভা থেকে ডেঙ্গু হচ্ছে।। আপনারা দেখেছেন, পঞ্চায়েত দফতর পুরসভার কর্মীরা পুজোর সময় ছুটি নেননি। তারা জমা জল পরিষ্কার থেকে জঞ্জাল পরিষ্কারের কাজে ন্যস্ত ছিলেন। সরকারি বিভিন্ন দফতর রয়েছে, সেখানকার আধিকারিকরা এই বিষয়ে সর্বদা সক্রিয় ভূমিকা পালন করছেন। তারপরেও ডেঙ্গু বাড়ছে। আমাদের কাছেও খবর রয়েছে। সরকার এব্যাপারে সতর্ক রয়েছে।
(দেশ, দুনিয়া, রাজ্য, কলকাতা, বিনোদন, খেলা, বিজনেস, লাইফস্টাইল, কেরিয়ার, ইউটিলিটির টাটকা খবর, আপডেট এবং ভিডিয়ো পেতে ডাউনলোড-লাইক-ফলো-সাবস্ক্রাইব করুন আমাদের Facebook, Whatsapp Channel, X, Youtube, Instagram পেজ-চ্যানেল)