বাসুদেব চট্টোপাধ্য়ায়: সরকারি লাইসেন্সপ্রাপ্ত মদের দোকানেই চলছিল জাল মদ তৈরির কারবার! আসল মদের বোতলের ছিপি খুলে তার ভিতরে জাল মদ ভরে গ্রাহকদের বিক্রি করা হচ্ছিল বলে অভিযোগ। গোপন সূত্রে খবর পেয়ে শনিবার সাতসকালে আসানসোলের হিরাপুর থানার অন্তর্গত নর্সিংবান্দ এলাকার ওই মদের দোকানে হানা দেয় আবগারি দফতর। শুরু হয় জাল মদের সন্ধানে তল্লাশি। পাশাপাশি দোকানের লাইসেন্স-সহ সমস্ত নথিপত্রও খতিয়ে দেখেন আধিকারিকেরা।
অভিযোগ, সরকারি লাইসেন্সের আড়ালে দীর্ঘদিন ধরেই দোকানের ভিতরে জাল মদ তৈরি করে বিক্রি করা হচ্ছিল। শুধু তাই নয়, সরকারি নিয়মকানুন অগ্রাহ্য করে ভোরবেলাতেই দোকান খুলে মদ বিক্রি এবং দোকানের সামনের রাস্তায় বসে মদ্যপানের আসর চালানোর অভিযোগও তুলেছেন স্থানীয় বাসিন্দারা।
আবগারি দফতরের সুপারিনটেনডেন্ট ভাস্কর কুমার জানান, অভিযোগ পাওয়ার পর ভোররাত থেকেই অভিযান চালানো হয়। তদন্তে উঠে এসেছে, আসল মদের বোতলের ছিপি খুলে তার ভিতরে অবৈধ মদ ভরে গ্রাহকদের হাতে তুলে দেওয়া হচ্ছিল। অভিযানে অভিযোগের সত্যতাও মিলেছে বলে জানান তিনি।
তবে তদন্তের পরিধি শুধু ওই একটি দোকানেই সীমাবদ্ধ রাখতে চাইছে না আবগারি দফতর। শিল্পাঞ্চলের অন্য কোথাও এই ধরনের জাল মদের কারবার চলছে কি না, কিংবা এই চক্রের শিকড় কত দূর বিস্তৃত, তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে। পশ্চিম বর্ধমান জেলার বিভিন্ন প্রান্ত থেকে পাওয়া আরও কিছু তথ্যও তদন্তের আওতায় রাখা হয়েছে বলে জানান ভাস্কর কুমার।
মুখ্যমন্ত্রীর জিরো টলারেন্স নীতিকে সামনে রেখেই বেআইনি মদের কারবারের বিরুদ্ধে অভিযান চালানো হচ্ছে বলে জানিয়েছে আবগারি দফতর। সরকারি লাইসেন্সপ্রাপ্ত দোকানকেই যদি জাল মদের কারবারের আড়াল হিসেবে ব্যবহার করা হয়, তবে শিল্পাঞ্চলে এই বেআইনি চক্রের বিস্তার কতটা, এখন সেই প্রশ্নই বড় হয়ে উঠেছে।
(দেশ, দুনিয়া, রাজ্য, কলকাতা, বিনোদন, খেলা, বিজনেস, লাইফস্টাইল, কেরিয়ার, ইউটিলিটির টাটকা খবর, আপডেট এবং ভিডিয়ো পেতে ডাউনলোড-লাইক-ফলো-সাবস্ক্রাইব করুন আমাদের Facebook, Whatsapp Channel, X, Youtube, Instagram পেজ-চ্যানেল)