"বাংলাতেই শিল্প গড়ুন, পাশে রয়েছে কেন্দ্র"! জামুড়িয়ার বস্ত্র কারখানায় দাঁড়িয়ে বিনিয়োগকারীদের বড় বার্তা কেন্দ্রীয় মন্ত্রীর
Asansol Industry: আসানসোলের জামুড়িয়ায় বস্ত্র কারখানা পরিদর্শনে এসে নতুন আশার আলো শোনালেন কেন্দ্রীয় বস্ত্রমন্ত্রী গিরিরাজ সিং। শিল্পপতিদের বাংলাতেই বিনিয়োগ ও কারখানা সম্প্রসারণের আশ্বাস কেন্দ্র ও প্রশাসনের।
বাসুদেব চট্টোপাধ্য়ায়: শিল্পের নতুন ভোরের আশায় আসানসোল! বস্ত্র কারখানায় দাঁড়িয়ে বিনিয়োগকারীদের আশ্বাস কেন্দ্রীয় মন্ত্রীর। “হারানো দিনের স্বপ্ন বুকে, নতুন করে জাগুক শিল্পের আলো”— আসানসোলে বস্ত্র শিল্পকে ঘিরে যেন সেই আশারই ছবি। বাংলার শিল্প মানচিত্রে কি ফিরতে চলেছে নতুন সম্ভাবনা? দীর্ঘদিনের শিল্প সংকট কাটিয়ে বস্ত্র শিল্পকে কেন্দ্র করে নতুন করে আশার আলো দেখছে আসানসোল-দুর্গাপুর শিল্পাঞ্চল। পশ্চিম বর্ধমানের আসানসোলের জামুড়িয়া শিল্পতালুকে একটি বস্ত্র কারখানা পরিদর্শনে এসে এমনই আশার কথা শোনালেন কেন্দ্রীয় বস্ত্রমন্ত্রী গিরিরাজ সিং। শুধু শিল্পের সম্ভাবনার কথা বলাই নয়, বিনিয়োগকারীদের পাশে থাকার আশ্বাস দিয়ে বাংলাতেই শিল্প সম্প্রসারণের বার্তা দিলেন তিনি।
কারখানা পরিদর্শনের পর বাংলার শিল্প পরিস্থিতি নিয়ে সরব হন কেন্দ্রীয় মন্ত্রী। তাঁর বক্তব্য, দীর্ঘ বাম আমলের ইউনিয়নবাজি এবং পরবর্তী তৃণমূল সরকারের আমলে বাংলার অর্থনীতি ও শিল্পক্ষেত্র ব্যাপক ক্ষতির মুখে পড়েছে। অথচ একসময় ব্রিটিশ শাসনেরও আগে বাংলা ছিল দেশের অন্যতম প্রধান অর্থনৈতিক ও সাংস্কৃতিক কেন্দ্র। সেই হারানো গৌরব ফিরিয়ে আনতে কেন্দ্র ও রাজ্যের নতুন শিল্পনীতি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা নিতে পারে বলে তাঁর আশা। গিরিরাজের মতে, কৃষির পরেই কর্মসংস্থানের অন্যতম বৃহৎ ক্ষেত্র বস্ত্র শিল্প। এই শিল্পে এক কোটি টাকা বিনিয়োগ হলে প্রায় ৫০ থেকে ৬০ জনের কর্মসংস্থানের সুযোগ তৈরি হতে পারে। আসানসোল-দুর্গাপুর শিল্পাঞ্চল-সহ গোটা বাংলায় বস্ত্র শিল্পের একটি শক্তিশালী পরিকাঠামো গড়ে তোলার উপর জোর দেন তিনি।
জামুড়িয়ার ওই কারখানার কর্তৃপক্ষের সঙ্গে কথা বলতে গিয়ে বিশেষভাবে তাঁদের বাংলায় থেকে যাওয়ার সিদ্ধান্তকে স্বাগত জানান কেন্দ্রীয় মন্ত্রী। কর্তৃপক্ষের দাবি, অতীতে শিল্পের প্রতিকূল পরিবেশ, কাটমানি ও তোলাবাজির অভিযোগ এবং নানা সমস্যার কারণে কারখানার ভবিষ্যৎ নিয়ে অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছিল। এমনকি অন্য রাজ্য কিংবা বিদেশে শিল্প সরিয়ে নিয়ে যাওয়ার কথাও ভাবছিলেন তাঁরা। কিন্তু এ দিনের পরিদর্শনে সেই ছবিতে বদলের ইঙ্গিত মিলেছে। কারখানার ভিতরে পশ্চিম বর্ধমানের জেলাশাসক এস পোন্নমবলমকে পাশে বসিয়েই শিল্পকর্তাদের আশ্বস্ত করেন গিরিরাজ সিং। তাঁর বার্তা, শিল্প গড়তে আর ভয় পাওয়ার প্রয়োজন নেই। বাংলায় কারখানা করুন, কেন্দ্রীয় সরকার সব রকম সহযোগিতা করবে। মন্ত্রীর এই আশ্বাসের পর বাংলাতেই থেকে শিল্প সম্প্রসারণের সিদ্ধান্তে এগোতে চাইছে কারখানা কর্তৃপক্ষ।
কেন্দ্রীয় মন্ত্রীর পরিদর্শনে খুশি কারখানার ডিরেক্টর অভিষেক শর্মাও। তাঁর বক্তব্য, কেন্দ্রীয় সরকারের নীতি ও সহযোগিতার আশ্বাস ব্যবসা সম্প্রসারণের জন্য অনুকূল পরিবেশ তৈরি করছে। পাশাপাশি মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীর ঘোষিত নতুন শিল্পনীতি থেকেও তাঁরা ইতিবাচক সমর্থন পাচ্ছেন বলে জানান তিনি। অভিষেকের কথায়, একসময় বাংলায় বস্ত্র শিল্পের ভবিষ্যৎ নিয়ে যথেষ্ট অনিশ্চয়তা ছিল। কিন্তু কেন্দ্রীয় মন্ত্রী সরাসরি কারখানায় এসে যে ভাবে উৎসাহ দিয়েছেন এবং গার্মেন্টস ইউনিট সম্প্রসারণে সব রকম সহযোগিতার আশ্বাস দিয়েছেন, তাতে তাঁদের আত্মবিশ্বাস অনেকটাই বেড়েছে। আর অন্য রাজ্য বা বিদেশে শিল্প সরিয়ে নিয়ে যাওয়ার কথা নয়, বরং বাংলাতেই বিনিয়োগ বাড়িয়ে উৎপাদন ও কর্মসংস্থান বৃদ্ধির পরিকল্পনা করছেন তাঁরা।
সব মিলিয়ে, আসানসোলের জামুড়িয়ার এই কারখানা পরিদর্শন শুধু একটি শিল্প পরিদর্শনেই সীমাবদ্ধ থাকল না। বরং বাংলায় বস্ত্র শিল্পের ভবিষ্যৎ, নতুন বিনিয়োগ এবং কর্মসংস্থান ঘিরে এক নতুন প্রত্যাশার আবহ তৈরি করল শিল্পাঞ্চলে।
আরও পড়ুন, মুখোশ পরে পরপর তিন ফ্ল্যাটে হানা! নিরাপত্তারক্ষী পৌঁছতেই দুঃসাহসিক চুরির পর্দাফাঁস
(দেশ, দুনিয়া, রাজ্য, কলকাতা, বিনোদন, খেলা, বিজনেস, লাইফস্টাইল, কেরিয়ার, ইউটিলিটির টাটকা খবর, আপডেট এবং ভিডিয়ো পেতে ডাউনলোড-লাইক-ফলো-সাবস্ক্রাইব করুন আমাদের Facebook, Whatsapp Channel, X, Youtube, Instagram পেজ-চ্যানেল)