বিধান সরকার: দীপান্বিতা আমাবস্যা শেওড়াফুলি নিস্তারিনী মায়ের জন্মতিথী হিসাবে ধরা হয়। এই আমাবস্যায় নিশিপুজো হয় নিস্তারিণী দক্ষিণা কালীর। শেওড়াফুলির নিস্তারিণী কালী খুবই জাগ্রত বলে বিশ্বাস ভক্তদের। সারা বছর পুজো দিতে ভীড় জমে মন্দিরে। তবে সব থেকে বেশি ভীড় হয় দীপান্বিতা আমাবস্যার পুজোয়।
ইতিহাস বলে, রাজা হরিশ চন্দ্র রায় নিস্তারিণী কালী প্রতিষ্ঠা করেন। জনশ্রুতি হরিশচন্দের ৩ স্ত্রী ছিলেন। নিত্যদিন সাংসারিক অশান্তি হত তাদের। প্রথম স্ত্রীর অপঘাতে মৃত্যু হয়। স্ত্রীর মৃত্যুর জন্য নিজেকে দায়ী করে অনুশোচনায় ভুগতে থাকেন রাজা হরিশচন্দ্র দত্ত রায়। তার মধ্যে পাপ বোধ জন্মায়। তা থেকে নিস্তার পেতে নিস্তারিণী কালী পুজো শুরু করেন ১৮২৮ সালে।
বর্ধমানের পাশাপাশি শ্রীরামপুর, শেওড়াফুলী, বৈদ্যবাটি অঞ্চলে অনেক সম্পত্তি ছিল রাজার। স্বপ্নাদৃষ্ট হয়ে গঙ্গা থেকে পাওয়া কষ্টি পাথর দিয়ে তৈরী হয় কালী মূর্তী। শেওড়াফুলিতে গঙ্গার পাড়ে মন্দির স্থাপন করে প্রতিষ্ঠা করেন দক্ষিণা কালীর।
দেবীর অধিষ্ঠান পঞ্চমুন্ডির আসনে। মন্দিরে কোনও ঘট নেই। দেবীর হাতে রয়েছে তরবারী, যা আজও সেই রাজ পরিবারের স্মারক বহন করে চলেছে। রাজা হরিশচন্দ্রের বড় রানীর নাম ছিল সর্বমঙ্গলা। মন্দিরে সেই বড় রানীকেই দেবীর রূপ দিয়েছিলেন রাজা।
আরও পড়ুন-বর্ধমানের বীরহাটার 'বড় মা' কালীর পুজো ঘিরে ভক্তদের উন্মাদনা তুঙ্গে, মায়ের ঝুলিতে থাকে স্মার্টফোন ও স্মার্টওয়াচও!
সারা বছর নিস্তারিণী মন্দিরে পুজো হয়। প্রত্যেক অমাবস্যায় বিশেষ পুজোপাঠ ও ছাগ বলি দেওয়া হয়। কৌশিকি আমাবস্যার রাতে বিশেষ পুজো হয় মন্দিরে। আর কালী পুজোর সময় সারাদিন ধরে চলে পুজো,হোম যজ্ঞ, চন্ডীপাঠ। সারারাত পুজো, পরদিন হয় ভোগ বিতরণ। এই পুজোয় জেলা তথা রাজ্যের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে বহু মানুষ আসেন মন্দিরে। নিস্তারিণী মায়ের কাছে মন থেকে কিছু চাইলে তা পূরণ হয় বলে বিশ্বাস ভক্তদের। আজও সেই বিশ্বাসের টানে দূর দূর থেকে নিস্তারিণী মন্দিরে ভীড় জমান ভক্তরা।
মন্দিরের সেবাইত ও পুরোহিতরা জানান,মায়ের কাছে অনেকেই মানসিক করেন। রাতে পুজো শুরু হয় শেষ হতে ভোর হয়ে যায়।মায়ের ভোগ দেওয়া হয় লুচি,সাত রকম ভাজা, ছানা, নানা রকম মিষ্টি ও পায়েস আর ছোলা।
স্থানীয় বাসিন্দা চঞ্চল চট্টোপাধ্যায় বলেন, মন্দিরের পুরোহিতকে একদিন এক মহিলা গাছের পেয়ারা দিয়ে যান। পরদিন এসে জিজ্ঞাসা করেন মাকে দিয়েছিলেন কিনা। পুরোহিত ভেবে পান না পেয়ারা কাকে দিলেন।
রাতে স্বপ্নে মা নিস্তারীনি দেখা দিয়ে বলেন, ওই পেয়ারা তিনি গোবিন্দ অর্থাৎ কৃষ্ণকে দিয়ে দিয়েছেন। গ্রাম থেকে বহু ভক্ত এখনও আসে পেয়ারা নিয়ে। মা পেয়ারায় সন্তুষ্ট হন। এমনটাই ভাবেন ভক্তরা।
(দেশ, দুনিয়া, রাজ্য, কলকাতা, বিনোদন, খেলা, বিজনেস, লাইফস্টাইল, কেরিয়ার, ইউটিলিটির টাটকা খবর, আপডেট এবং ভিডিয়ো পেতে ডাউনলোড-লাইক-ফলো-সাবস্ক্রাইব করুন আমাদের Facebook, Whatsapp Channel, X, Youtube, Instagram পেজ-চ্যানেল)