অলৌকিক বুড়া কালী! আত্রেয়ীতীরে পড়েছিল প্রস্তরনির্মিত দেবীমূর্তি, স্বপ্নাদেশের পরে প্রতিষ্ঠা পেলেন মা
Kali Puja 2026: প্রস্তরনির্মিত এই দেবীমূর্তি একসময় অবস্থান করতেন আত্রেয়ী নদীর তীরে। স্বপ্নাদেশ পেয়ে কয়েকজন বালুরঘাটবাসী সেই মূর্তি উদ্ধার করে প্রথমে কংগ্রেস ঘাটের পাশে একটি মন্দিরে প্রতিষ্ঠা করেন। পরবর্তীতে সেখান থেকে দেবীমূর্তি নিয়ে আসা হয় তহবাজারের বর্তমান মন্দিরে।
শ্রীকান্ত ঠাকুর: বালুরঘাটের আবেগ, ঐতিহ্য ও আধ্যাত্মিকতার সঙ্গে ওতপ্রোত ভাবে জড়িয়ে রয়েছে বুড়া কালী মায়ের নাম। শহরের তহবাজারে অবস্থিত বুড়া কালী মন্দির শুধু একটি ধর্মীয় উপাসনাস্থল নয়, বরং বালুরঘাটবাসীর বিশ্বাস, ভক্তি ও আত্মিক অনুভূতির এক অবিচ্ছেদ্য কেন্দ্র। সুখে-দুঃখে, জীবনের শুভ সূচনায় কিংবা বিশেষ কোনও সামাজিক অনুষ্ঠানের আগে বুড়া মায়ের আশীর্বাদ নেওয়া শহরবাসীর দীর্ঘদিনের রীতি। মুখেভাত থেকে বিবাহ, বিবাহবার্ষিকী কিংবা জীবনের অন্য কোনও শুভ অনুষ্ঠানে বুড়া মায়ের কাছে পুজো দিয়ে অনুমতি গ্রহণের পরেই মূল অনুষ্ঠান শুরু করেন বহু স্থানীয় মানুষ। মায়ের প্রতি এই গভীর বিশ্বাস ও আবেগের টান এতটাই নিবিড় যে, বালুরঘাটের বহু মানুষ প্রতিদিন অন্তত একবার মন্দির চত্বরে এসে মায়ের দর্শন করে যান। যেন প্রতিদিনের জীবনে মায়ের আশীর্বাদই তাঁদের ভরসা ও মানসিক শক্তির উৎস।
আরও পড়ুন: কালীপুজোয় কী রকম থাকবে ওয়েদার? আচমকা
আত্রেয়ী নদীর তীরে
কথিত রয়েছে, প্রস্তরনির্মিত এই দেবীমূর্তি একসময় অবস্থান করতেন আত্রেয়ী নদীর তীরে। স্বপ্নাদেশ পেয়ে কয়েকজন বালুরঘাটবাসী সেই মূর্তি উদ্ধার করে প্রথমে কংগ্রেস ঘাটের পাশে একটি মন্দিরে প্রতিষ্ঠা করেন। পরবর্তীতে সেখান থেকে দেবীমূর্তি নিয়ে আসা হয় তহবাজারের বর্তমান মন্দিরে। সেই থেকেই ভক্তদের কাছে বুড়া মা হিসেবে পূজিত হয়ে আসছেন এই দেবী। মায়ের মাহাত্ম্যের কথা শুধু বালুরঘাট শহরেই সীমাবদ্ধ নয়, তা ছড়িয়ে রয়েছে গোটা দক্ষিণ দিনাজপুর জেলা জুড়ে।
পুজো, আরতি, ভোগ
প্রতিদিন সকাল ও সন্ধ্যায় মন্দিরে চলে নিয়মিত পুজো, আরতি ও ভোগ নিবেদন। নিত্যদিনের এই আয়োজনের পাশাপাশি স্থায়ীভাবে ভোগের ব্যবস্থা রয়েছে মন্দিরে। প্রতিদিন অন্তত শতাধিক ভক্ত মায়ের প্রসাদ গ্রহণ করেন। দীপান্বিতা অমাবস্যা ও চৈত্র সংক্রান্তিতে বিশেষ পুজো এবং ভোগ নিবেদনের মাধ্যমে আরও জাঁকজমকপূর্ণ হয়ে ওঠে মন্দিরের পরিবেশ। এই দুই বিশেষ তিথিতে মায়ের আরাধনায় সামিল হন অসংখ্য ভক্ত। এবার হাতে আর মাত্র দু’দিন। আসন্ন দীপান্বিতা অমাবস্যার বিশেষ পুজোকে কেন্দ্র করে বুড়া কালী মন্দিরে প্রস্তুতি এখন তুঙ্গে। মন্দির চত্বরে চলছে রং করার কাজ, পাশাপাশি সাজিয়ে তোলা হচ্ছে দেবীর উপাসনাস্থল। ভক্তদের আগমন ও পুজোর আয়োজন নির্বিঘ্ন করতে চলছে শেষ মুহূর্তের প্রস্তুতি।
দীপান্বিতায় বুড়া মায়ের আরাধনা
আসন্ন দীপান্বিতা অমাবস্যার দিন সকাল থেকেই শুরু হবে বিশেষ পুজো ও আরাধনা। সেই পুজো চলবে পরের দিন পর্যন্ত। দু’দিন ধরেই থাকবে বিশেষ ভোগের ব্যবস্থা। মন্দির চত্বরেই ভক্তরা গ্রহণ করবেন মায়ের প্রসাদ। আলোর উৎসব দীপাবলির আবহে বুড়া কালী মন্দিরে দেবীর আরাধনা ঘিরে বালুরঘাটে তৈরি হয়েছে এক বিশেষ আধ্যাত্মিক পরিবেশ। বিশ্বাস, ভক্তি আর ঐতিহ্যের মেলবন্ধনে বুড়া মা যেন আজও শহরবাসীর জীবনের প্রতিটি শুভ মুহূর্তে আশীর্বাদের ছায়া হয়ে রয়েছেন।
(দেশ, দুনিয়া, রাজ্য, কলকাতা, বিনোদন, খেলা, বিজনেস, লাইফস্টাইল, কেরিয়ার, ইউটিলিটির টাটকা খবর, আপডেট এবং ভিডিয়ো পেতে ডাউনলোড-লাইক-ফলো-সাবস্ক্রাইব করুন আমাদের Facebook, Whatsapp Channel, X, Youtube, Instagram পেজ-চ্যানেল)