প্রদ্যুত্ দাস: দীপাবলির মুখে শহরে হানা কেপমার দলের। নিজেদের ক্রাইম ব্রাঞ্চের অফিসার দাবী করে ভুয়ো কার্ড দেখিয়ে এক ব্যাক্তির কাছ থেকে সোনার গহনা হাতিয়ে নিয়ে ব্যবসায়ীর হাতে পাথর ধরিয়ে দিয়ে চম্পট দিল কেপমারের দল। মুহূর্তে প্রায় ১০ লক্ষাধিক টাকার সোনার গহনা খুইয়ে মাথায় হাত হোটেল ব্যাবসায়ীর। ঘটনায় চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে জলপাইগুড়ি শহরে।
জানা গিয়েছে, জলপাইগুড়ি জেলাপরিষদ ক্যান্টিনের মালিক রথীন কুণ্ডু। প্রতিদিনের মতো আজও তিনি সকালে স্কুটিতে করে ক্যান্টিনে আসছিলেন। জলপাইগুড়ি শহরের বড় পোস্ট অফিস মোড় সংলগ্ন জেলাপরিষদ ঢোকার মুখে বাইকে চেপে এসে তার পথ আগলে দাঁড়ায় দুই অজ্ঞাতপরিচয় ব্যক্তি। দু'জনেরই মাথায় ছিল ফুল ফেস হেলমেট।নিজেদের ক্রাইম ব্রাঞ্চের অফিসার পরিচয় দিয়ে তাঁরা রথীনবাবুকে জানান, এভাবে প্রকাশ্যে সোনার গয়না পরে ঘোরাফেরা করা উচিত নয়।
এরপর নিরাপত্তার অজুহাতে তাঁর গলার সোনার চেন ও আঙুলের আংটি খুলিয়ে একটি কাগজে মুড়ে রুমাল পেঁচিয়ে তাঁর কাছেই আবার ফিরিয়ে দেওয়া হয়। সেইসময় একইভাবে অন্য এক যুবককেও আটক করে তাঁর কাছ থেকেও সোনার গয়না খুলিয়ে কাগজে মুড়ে ফেরত দেওয়ার অভিনয় করে ওই দুষ্কৃতীরা।
প্রথমে কোনও সন্দেহ না হলেও ক্যান্টিনে পৌঁছে বিপত্তি বুঝতে পারেন রথীনবাবু। পকেট থেকে কাগজের প্যাকেট খুলতেই দেখেন, সোনার গয়নার পরিবর্তে তার মধ্যে রয়েছে একটি পাথরের টুকরো। তখনই বুঝতে পারেন, অভিনব কায়দায় তাঁর সঙ্গে কেপমারি করা হয়েছে।
সবকটি গয়নাই তাঁর বিয়ের সময়ের স্মৃতিবিজড়িত। দীর্ঘদিনের স্মৃতি জড়িয়ে থাকা সাধের গয়না হারিয়ে কার্যত ভেঙে পড়েছেন তিনি। ঘটনার পর কোতোয়ালী থানায় লিখিত অভিযোগ দায়ের করেছেন রথীন কুণ্ডু।অভিযোগের ভিত্তিতে তদন্ত শুরু করেছে পুলিস।
তাঁর মেয়ে শ্রেয়া কুণ্ডু বলেন, মনে হচ্ছে পরিকল্পিতভাবেই দুষ্কৃতীরা এই কাজ করেছে। প্রশাসনের উপর আমাদের ভরসা রয়েছে। নিশ্চয়ই পুলিস বিষয়টি গুরুত্ব দিয়ে দেখবে। রথীন কুন্ডু বলেন ওগুলো আমার শখের জিনিস ছিল। এর মধ্যে কয়েকটি আমার বিয়ের সময় শাশুড়িমাও দিয়েছিলেন। জেলাপরিষদ কর্মী শ্যামল সরকার বলেন, শহরের প্রান কেন্দ্রে থানা থেকে অল্প দূরত্বে এমন অভিনব কায়দায় কেপমারির ঘটনায় তারা আতঙ্কিত।
(দেশ, দুনিয়া, রাজ্য, কলকাতা, বিনোদন, খেলা, বিজনেস, লাইফস্টাইল, কেরিয়ার, ইউটিলিটির টাটকা খবর, আপডেট এবং ভিডিয়ো পেতে ডাউনলোড-লাইক-ফলো-সাবস্ক্রাইব করুন আমাদের Facebook, Whatsapp Channel, X, Youtube, Instagram পেজ-চ্যানেল)