গঙ্গাসাগরের বুক চিরে ভয়াল টর্নেডো! পঞ্চমীতে হাড়হিম আতঙ্ক, কম্পিত পুণ্যার্থীদের প্রাণ হাতে ছুট
গঙ্গাসাগরের বুক চিরে এল ভয়াল টর্নেডো! পঞ্চমীর সকালেই হাড়হিম আতঙ্ক, কম্পিত পুণ্যার্থীদের প্রাণ হাতে ছুট! চলে এল বিরাট আপডেট
নকিব উদ্দিন গাজী: পঞ্চমীর সকালে বুক কাঁপানো খবর এল। তাও আবার কলকাতা থেকে মাত্র ১০০ কিলোমিটার দূরে। গঙ্গাসাগরের কপিলমুনির আশ্রম সংলগ্ন ২ নম্বর স্নানঘাটের কাছে সমুদ্রে সৃষ্টি হল এক শক্তিশালী জলের টর্নেডো (ওয়াটার স্পাউট বা জলঘূর্ণি)। বৃহস্পতিবার সকাল ৯টা নাগাদ আচমকাই গোটা এলাকা কালো মেঘে ঢেকে যায়। এরপর সকাল ৯:৩০টা নাগাদ সমুদ্রের বুক চিরে ওই টর্নেডো আছড়ে পড়ে। প্রায় ৩০ মিনিট ধরে চলা এই ভয়াবহ প্রাকৃতিক দৃশ্য দেখে স্তম্ভিত হয়ে পড়েন ঘাটে উপস্থিত পুণ্যার্থী, পর্যটক ও স্থানীয় ব্যবসায়ীরা। পঞ্চমীর সকালে বহু পুণ্যার্থীই গিয়েছিলেন গঙ্গাসাগরে। সাগরস্নান সেরে মন্দিরে পুজো দিয়ে ফিরবেন বলেই স্থির করেছিলেন তাঁরা। সৈকত জুড়ে মুহূর্তের মধ্যে তীব্র আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে। বেশ কিছুক্ষণ জল পাক খেতে থাকে। অনেকেই নিরাপদ আশ্রয়ের সন্ধানে ছোটাছুটি শুরু করেন। কেউ কেউ হোটেলের দিকেও ছুট লাগান। তবে আশার কথা, এই প্রাকৃতিক ঘটনায় বড় ধরনের কোনও হতাহত বা ভাঙচুরের খবর পাওয়া যায়নি। পরিস্থিতি সামলাতে পুলিস নজরদারি বাড়িয়েছে।
আরও পড়ুন: 'সারদার পয়সায় নয়,’ রাস্তায় রং বিতর্কে টাকার উৎস প্রশ্নে কুণাল ঘোষকে সপাটে জবাব অগ্নিমিত্রার
ওয়াটার স্পাউট কী?
জলভাগের উপর তৈরি হওয়া শক্তিশালী বাতাসের ঘূর্ণায়মান ফানেল মেঘকে ওয়াটার স্পাউট বা জলঘূর্ণি বলে
কীভাবে এই ফানেল হয়?
নাম জলঘূর্ণি হলেও এটি কিন্তু নীচ থেকে জল শুষে উপরে ওঠায় না, বরং আকাশের মেঘের আর্দ্রতা ঘনীভূত হয়ে এই ফানেল তৈরি হয়।
কেন ওয়াটার স্পাউট হয়?
মূলত সমুদ্র, হ্রদ বা বড় কোনও জলাশয়ের উপর বায়ুমণ্ডলের চরম অস্থিরতা, বায়ুর চাপের পরিবর্তন এবং তাপমাত্রার পার্থক্যের কারণেই জলঘূর্ণি হয়। জলঘূর্ণি সাধারণত শান্ত বা মনোরম আবহাওয়ার মধ্যে আচমকাই তৈরি হয়।
কী কী কারণে ওয়াটার স্পাউট হয়?
১) তাপমাত্রার বিপুল তারতম্য়: যখন কোনও বিস্তীর্ণ জলাশয়ের বা সমুদ্রপৃষ্ঠের জল খুব গরম হয়ে যায়, তখন তার ঠিক উপরের বায়ুস্তরও উত্তপ্ত ও হালকা হয়ে দ্রুত উপরের দিকে উঠতে থাকে।
২) মেঘের সৃষ্টি ও ঘূর্ণন: এই গরম ও আর্দ্র বাতাস উপরে উঠে আকাশ বা মেঘের সংস্পর্শে এসে ঘনীভূত হয় এবং কিউমুলাস মেঘের সারি তৈরি করে।
৩) নীচ থেকে উপরে বিস্তার: চারপাশের বাতাস যখন এই শূন্যস্থানে এসে অনুভূমিক ভাবে প্রবেশ করে, তখন সেখানে এক স্থানীয় ঘূর্ণির সৃষ্টি হয়। এই ঘূর্ণিটি জলের উপরিভাগ থেকে শুরু হয়ে আস্তে আস্তে উপরের দিকে মেঘের দিকে অগ্রসর হয়।
আরও পড়ুন: বদলের সরকারের আমলে রাজ্যে ১৩ হাজার নতুন পুজো, মুর্শিদাবাদে পুজো উদ্বোধন করে বললেন মুখ্যমন্ত্রী
(দেশ, দুনিয়া, রাজ্য, কলকাতা, বিনোদন, খেলা, বিজনেস, লাইফস্টাইল, কেরিয়ার, ইউটিলিটির টাটকা খবর, আপডেট এবং ভিডিয়ো পেতে ডাউনলোড-লাইক-ফলো-সাবস্ক্রাইব করুন আমাদের Facebook, Whatsapp Channel, X (Twitter), Youtube, Instagram পেজ-চ্যানেল)