ই. গোপী: মমতাকে কটাক্ষ করে দিলীপের ‘বিড়াল গাছে ওঠে’ মন্তব্য দিলীপ ঘোষের। দেশের ভিতরে অস্থিরতা তৈরির চেষ্টা হচ্ছে। সেই চেষ্টার নেপথ্যে বিরোধী শক্তির সঙ্গে বিদেশি শক্তির যোগসাজশ রয়েছে বলেও অভিযোগ বিজেপি নেতা দিলীপ ঘোষের। সাধারণ মানুষকে সচেতন করতে কলকাতা থেকে র্যালি শুরুর কথাও জানালেন তিনি। দিলীপের বক্তব্য, ভারতের মানুষ সহজে দেশবিরোধী কোনও প্ররোচনায় সাড়া দেন না। কিন্তু কিছু মানুষকে উত্তেজিত করে পরিস্থিতি অশান্ত করার চেষ্টা চলছে। সেই কারণেই জনগণকে সচেতন করা জরুরি বলে দাবি তাঁর। এর পর একে একে উঠে আসে মালদহের ধর্মান্তকরণ বিতর্ক, নন্দনের ফলক বদল, কলকাতা আন্তর্জাতিক চলচ্চিত্র উৎসব থেকে শুরু করে রাজ্যের পুরনো রাজনৈতিক হিংসার প্রসঙ্গ।
দিলীপ ঘোষের 'পরিবর্তন' বক্তব্য়
মালদহের ঘটনায় দিলীপের অভিযোগ, গ্রামগঞ্জ ও বস্তি এলাকায় টাকা-পয়সা এবং চাকরির প্রলোভন দেখিয়ে ধর্মান্তকরণের চেষ্টা চলছে। অতীতে সরকার এ ব্যাপারে যথেষ্ট পদক্ষেপ করেনি বলেও দাবি তাঁর। তাঁর আরও অভিযোগ, কিছু সংগঠন এ ধরনের ঘটনার বিরুদ্ধে পথে নামলে অনেক ক্ষেত্রে পুলিশ তাদের বিরুদ্ধেই দাঁড়িয়েছে। নন্দনে প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রীর নামাঙ্কিত ফলক ঢেকে দেওয়ার প্রসঙ্গে দিলীপের মন্তব্য, ‘‘পরিবর্তন যখন হয়েছে, কিছু তো হওয়া উচিত।’’ বাংলা চলচ্চিত্রের জগতে রাজনীতির প্রভাব নিয়েও প্রশ্ন তোলেন তিনি। আগামী ১৬ ডিসেম্বর থেকে শুরু হওয়া কলকাতা আন্তর্জাতিক চলচ্চিত্র উৎসবের প্রসঙ্গে তাঁর বক্তব্য, মানুষ ভালো সিনেমা দেখতে চান। সেই কারণে চলচ্চিত্র নিয়ে যাঁরা ভাবনাচিন্তা করেন, এমন যোগ্য মানুষদেরই উৎসব পরিচালনার সঙ্গে যুক্ত করা উচিত।
দিলীপ ঘোষের কটাক্ষ
মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের সাম্প্রতিক বক্তব্যকে ঘিরে বিতর্ক এবং সাইবার সেলে অভিযোগের প্রসঙ্গেও আক্রমণ শানান দিলীপ। তাঁর দাবি, বিজেপি যখন বিরোধী দল ছিল, সেই সময় প্রতিবাদ করলেই নেতা-কর্মীদের বিরুদ্ধে একের পর এক মামলা করা হত। সেইসঙ্গে ৬ ডিসেম্বরের সম্ভাব্য জমায়েত নিয়ে প্রশ্নে দিলীপ ঘোষের কটাক্ষ, রাস্তায় বসে পড়লেই কোনও কর্মসূচি প্রতিবাদ হয়ে যায় না। আইন মেনেই সব কর্মসূচি করা উচিত বলেও মত তাঁর। ভোটের আগে তৃণমূলের বিভিন্ন গোষ্ঠীর নেতাদের একই অনুষ্ঠানে দেখা যাওয়া নিয়ে অবশ্য বিশেষ গুরুত্ব দিতে চাননি বিজেপি নেতা। তাঁর কথায়, কে কার জন্মদিন বা সামাজিক অনুষ্ঠানে যাবেন, তা নিয়ে তাঁর মাথাব্যথা নেই। সামাজিক অনুষ্ঠানে ভেদাভেদও থাকা উচিত নয়।
গড়বেতার অতীতের রাজনৈতিক হিংসায় ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলির পুরনো মামলার ফাইল খোলার দাবি প্রসঙ্গেও মন্তব্য করেন দিলীপ। তাঁর বক্তব্য, প্রত্যেক নির্যাতিত ও ক্ষতিগ্রস্ত মানুষের ন্যায়বিচার পাওয়ার অধিকার রয়েছে। প্রয়োজনে তাঁরা আদালতের দ্বারস্থ হতে পারেন এবং পুরনো মামলায় ফের আবেদন করতে পারেন। রাহুল গান্ধী এবং মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের সাম্প্রতিক রাজনৈতিক ঘনিষ্ঠতার জল্পনাতেও কটাক্ষ করেন তিনি। সোনিয়া গান্ধীকে ‘নেত্রী’ বলে মমতার মন্তব্যের প্রসঙ্গ তুলে দিলীপের কটাক্ষ, ঠেলায় পড়লে বিড়াল গাছে ওঠে। মমতা ব্যানার্জি এতদিন কাউকে স্বীকার করতে না তিনিই নেত্রী ছিলেন। এখন ঠেলায় পড়েছেন। এখন যদি সোনিয়া গান্ধীর হাত ধরে কিছু করতে পারেন।
দিলীপ ঘোষের প্রশ্ন
‘ভোট চুরি’ নিয়ে মুখ্যমন্ত্রীর অভিযোগ এবং নির্বাচন কমিশনের পদাধিকারীকে গ্রেফতারের দাবি প্রসঙ্গেও পাল্টা প্রশ্ন তোলেন দিলীপ। তাঁর বক্তব্য, জনতার মধ্যেও বিভিন্ন রাজনৈতিক নেতার বিরুদ্ধে নানা দাবি ওঠে। তাই কার কথা শোনা হবে, সেই প্রশ্নও তোলেন তিনি। দেশজুড়ে অস্থিরতার অভিযোগ থেকে ধর্মান্তকরণ, সংস্কৃতির রাজনীতি থেকে ভোট বিতর্ক এক দিনের আলোচনায় একের পর এক ইস্যুতে আক্রমণ শানিয়ে রাজ্য রাজনীতিতে নতুন করে তরজার পারদ চড়ালেন বিজেপি নেতা দিলীপ ঘোষ।
(দেশ, দুনিয়া, রাজ্য, কলকাতা, বিনোদন, খেলা, লাইফস্টাইল স্বাস্থ্য, প্রযুক্তির টাটকা খবর, আপডেট এবং ভিডিয়ো পেতে ডাউনলোড-লাইক-ফলো-সাবস্ক্রাইব করুন আমাদের App, Facebook, Whatsapp Channel, X (Twitter), Youtube, Instagram পেজ-চ্যানেল)