জি ২৪ ঘণ্টা ডিজিটাল ব্যুরো: আমেরিকার মিডটার্ম নির্বাচনকে (US Midterm Election) ঘিরে বিশ্ব অর্থনৈতিক বাজারে চরম উৎকণ্ঠা। মার্কিন কংগ্রেসের রাশ কার দখলে যাবে? রিপাবলিকান (Republicans) নাকি ডেমোক্র্যাট (Democrats)? তার প্রভাব সরাসরি এসে পড়ছে সোনা ও রুপোর আন্তর্জাতিক বাজারে। ২০২৬ সালের সাম্প্রতিক সময়ে ভূ-রাজনৈতিক উত্তেজনা ও মুদ্রাস্ফীতি থাকা সত্ত্বেও সোনার দাম যেভাবে ওঠানামা করেছে, তাতে আমেরিকার নির্বাচন সোনার ভবিষ্যৎ গতি নির্ধারণে অনুঘটকের কাজ করতে পারে।
ঐতিহাসিক ট্রেন্ড কী বলছে? (Historical Precedent)
ঐতিহাসিকভাবে মার্কিন সাধারণ নির্বাচন বা মিডটার্মের ফলাফল সরাসরি সোনার দামে কোনও বাঁধাধরা নিয়ম মেনে চলেনি। ২০১৬ এবং ২০২৪ সালে ডোনাল্ড ট্রাম্পের জয়ের পর স্পট গোল্ডের (Spot Gold) দাম কিছুটা চাপের মুখে পড়েছিল এবং মার্কিন শেয়ার বাজার (Wall Street) দৌড়েছিল।
তবে মিডটার্মের ক্ষেত্রে কংগ্রেসের নিয়ন্ত্রণ যদি বিভক্ত (Split / Divided Congress) হয়ে পড়ে, তবে রাজনৈতিক অচলাবস্থা বা 'গ্রিডলক' (Gridlock)-এর ফলে তৈরি হওয়া অনিশ্চয়তা সবসময় সোনার মতো সুরক্ষিত সম্পদের দিকে মানুষের আকর্ষণ বাড়ায়।
ডেমোক্র্যাটদের প্রত্যাবর্তনের সম্ভাবনায় সোনার সমীকরণ কী হবে?
জনমত সমীক্ষায় জানা যাচ্ছে, কংগ্রেসে ডেমোক্র্যাটরা ভালো ফল করে ফিরে এলে বর্তমান প্রশাসনের একতরফা নীতিতে লাগাম টানা সম্ভব হবে। ওয়ার্ল্ড গোল্ড কাউন্সিলের (WGC - World Gold Council) বিশ্লেষণে তিনটি বিষয় সোনার দামকে প্রভাবিত করতে পারে:
রাজস্ব নীতি ও বাজেট ঘাটতি (Fiscal Policy & Budget Deficit): ডেমোক্র্যাটরা প্রতিনিধি সভা (House) বা সেনেট (Senate) দখল করলে প্রশাসনের যথেচ্ছ বাজেট ঘাটতি বাড়ানোর ক্ষমতা কমে যাবে। মার্কিন সরকারের ঋণ নেওয়ার চাপ কমলে বা ডলারে অস্থিরতা দেখা দিলে ট্রেজারি ইল্ড (Treasury Yield) কিছুটা নামতে পারে, যা দীর্ঘমেয়াদে সোনার দর বাড়াতে সহায়ক।
যুদ্ধ তহবিল ও ভূ-রাজনৈতিক অবস্থান (War Funding & De-escalation): ইরান বা মধ্যপ্রাচ্যের সংঘাতের ক্ষেত্রে নতুন আর্থিক বরাদ্দে কড়াকড়ি হতে পারে। যুদ্ধ পরিস্থিতি কিছুটা থিতু হলে জ্বালানি তেলের দাম কমতে পারে এবং মূল্যস্ফীতি থিতিয়ে আসতে পারে। এতে সাময়িকভাবে সোনার 'জিওপলিটিক্যাল প্রিমিয়াম' কমলেও ডলার ও বন্ড ইল্ড দুর্বল হলে সামগ্রিকভাবে সোনা বাড়তি সুবিধা পাবে।
প্রযুক্তি ও কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (AI Regulation & Wealth Effect): এআই সংস্থাগুলোর ওপর কড়া রেগুলেশনের সম্ভাবনা তৈরি হলে টেকনোলজি স্টক (Tech Stocks) ধাক্কা খেতে পারে। ইকুইটি বাজার বা ওয়াল স্ট্রিট দুর্বল হলে বড় প্রাতিষ্ঠানিক বিনিয়োগকারীরা মূলধন সুরক্ষায় বুলিয়ন মার্কেটের (Bullion Market) দিকে ঝুঁকবেন।
রিপাবলিকানরা সব দখল রাখলে কী ঘটবে?
যদি রিপাবলিকানরা দুই কক্ষের রাশই নিজেদের হাতে রাখতে সক্ষম হয়, তবে কর্পোরেট ট্যাক্স ছাড় এবং ব্যয় নীতিতে ধারাবাহিকতা বজায় থাকবে। এতে মার্কিন ডলার সূচক (DXY - US Dollar Index) আরও শক্তপোক্ত হতে পারে এবং ট্রেজারি ইল্ড ঊর্ধ্বমুখী হতে পারে। ডলারের তেজ বাড়লে আন্তর্জাতিক বাজারে সোনা ও ক্রিপ্টোকারেন্সির মতো সম্পদে বিক্রির চাপ (Selling Pressure) বজায় থাকতে পারে।
তবে ভোট নিয়ে কোনও টানাপোড়েন বা ফলাফল ঘোষণার ক্ষেত্রে দীর্ঘমেয়াদি সংশয় দেখা দিলে অস্থিরতার সুযোগে স্বল্পমেয়াদে সোনা ও রুপো উভয় ধাতুই বড় ধরনের লাফ(Short-Term Rally) দেখতে পারে।