জি ২৪ ঘণ্টা ডিজিটাল ব্যুরো: ২০২৭ সালের পঞ্জাব বিধানসভা নির্বাচন (Punjab Assembly Elections 2027) এখনও কিছুটা দূরে, কিন্তু সীমান্ত রাজ্যের রাজনৈতিক পারদ ইতোমধ্যেই চড়তে শুরু করেছে। ক্ষমতায় থাকা আম আদমি পার্টি (AAP) যখন নতুন করে নির্বাচনী জমি শক্ত করতে প্রার্থীদের নাম ঘোষণার প্রক্রিয়া শুরু করেছে, ঠিক তখনই বড় ধাক্কা খেল মুখ্যমন্ত্রী ভগবন্ত মানের দল। দিল্লিতে গিয়ে আনুষ্ঠানিকভাবে ভারতীয় জনতা পার্টিতে (BJP) যোগ দিলেন আপের তিন গুরুত্বপূর্ণ নেতা-- অমৃতসর উত্তরের প্রাক্তন বিধায়ক ও প্রাক্তন আইপিএস অফিসার কুনওয়ার বিজয় প্রতাপ সিং, সমানার বিধায়ক চেতন সিং জুরামাজরা এবং সানৌরের বিধায়ক হরমিত সিং পাঠানমাজরা।

কারা এই ৩ নেতা? কেন তাঁদের দলবদল অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ?
কুনওয়ার বিজয় প্রতাপ সিং (Kunwar Vijay Pratap Singh): পঞ্জাবের রাজনীতিতে তিনি অত্যন্ত সুপরিচিত মুখ। ২০১৫ সালের বহুল চর্চিত কোটকাপুরা ও বেহবল কালান ধর্মগ্রন্থ অবমাননা (Sacrilege Case) তদন্তের দায়িত্বে থাকা বিশেষ তদন্তকারী দলের (SIT) প্রধান ছিলেন এই প্রাক্তন আইপিএস অফিসার। পরে আইপিএস ছেড়ে আপে যোগ দিয়ে অমৃতসর উত্তর থেকে বিধায়ক নির্বাচিত হন। তবে দলের অভ্যন্তরীণ কাজকর্ম এবং তদন্তের গতিপ্রকৃতি নিয়ে প্রকাশ্যেই ক্ষোভ প্রকাশ করছিলেন তিনি। সম্প্রতি দল তাঁকে সাসপেন্ড করার পর তিনি বিধায়ক পদ থেকেও ইস্তফা দেন।
চেতন সিং জুরামাজরা (Chetan Singh Jouramajra): পাটিয়ালা জেলার সমানা কেন্দ্রের বিধায়ক। একটা সময়ে ভগবন্ত মান মন্ত্রিসভার স্বাস্থ্য ও অন্যান্য গুরুত্বপূর্ণ দফতরের মন্ত্রী ছিলেন তিনি। দলের শীর্ষ নেতৃত্বের সাথে মতবিরোধের জেরে রবিবারই তিনি দলত্যাগের ঘোষণা করেন।
হরমিত সিং পাঠানমাজরা (Harmeet Singh Pathanmajra): সানৌর বিধানসভা কেন্দ্রের এই প্রভাবশালী নেতা মালওয়া অঞ্চলের রাজনীতিতে যথেষ্ট সক্রিয়। তিনিও জুরামাজরার সাথে একযোগে পদত্যাগ করে বিজেপির হাত ধরলেন।
কেন এই দলবদল? নেপথ্যে অসন্তোষের সমীকরণ
রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকদের মতে, এই ভাঙন আকস্মিক দলবদল নয়, পঞ্জাব আপের অন্দরে দীর্ঘদিন ধরেই চলা সংঘাত চলছিল:
দিল্লি বনাম পঞ্জাবের নিয়ন্ত্রণ দ্বন্দ্ব (Central Leadership Friction): অভিযোগ উঠছিল, রাজ্য সরকারের নীতি ও দল পরিচালনায় দিল্লির শীর্ষ নেতৃত্বের নাক গলানো স্থানীয় নেতাদের অনেকেরই না-পসন্দ ছিল।
প্রতিশ্রুতি পূরণে বিলম্ব ও অভ্যন্তরীণ ক্ষোভ: ধর্মগ্রন্থ অবমাননার মতো স্পর্শকাতর বিষয়ে দ্রুত বিচারের যে প্রতিশ্রুতি দিয়ে আপ পঞ্জাবে মসনদে বসেছিল, তা বাস্তবায়িত না হওয়ায় ক্ষুব্ধ ছিলেন কুনওয়ার বিজয়ের মতো নেতারা।
আমলাতান্ত্রিক রাশ: সরকারের কাজে বিধায়কদের চেয়ে আমলাদের অতিরিক্ত গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে-- এমন অভিযোগে দলের ভেতরেই ক্ষোভ দানা বাঁধছিল।
পঞ্জাবের রাজনীতিতে বিজেপির নজর
ঐতিহাসিকভাবে পঞ্জাবে শিরোমণি অকালি দলের (SAD) সাথে জোটবদ্ধ হয়ে ছোট শরিক হিসেবে লড়ত বিজেপি। কিন্তু কৃষি আইনের পর সেই জোট ভাঙায় বিজেপি এখন রাজ্যে একক শক্তিতে পায়ের নিচে মাটি শক্ত করতে মরিয়া। আপের মতো ক্ষমতাসীন দলের প্রভাবশালী শিখ ও স্থানীয় নেতাদের দলে টেনে গেরুয়া শিবির একদিকে যেমন রাজ্যের গ্রামীণ ও শহরতলির ভোটারের কাছে পৌঁছানোর চেষ্টা করছে, অন্যদিকে তেমনই আপকে সাংগঠনিকভাবে চাপে ফেলার কৌশল নিয়েছে।
ভোটের মাসখানেক আগে এই তিন নেতার পদ্ম শিবিরে যোগদান আপের অভ্যন্তরীণ সংহতিকে (Political Cohesion) বড়সড় প্রশ্নের মুখে ফেলে দিল।
আরও পড়ুন:
আরও পড়ুন: