জি ২৪ ঘণ্টা ডিজিটাল ব্যুরো: স্প্যানিশ ফুটবলে আচমকাই শোকের ছায়া! দ্বিতীয় ডিভিশনের ম্যাচ চলাকালীন প্রয়াত হেসুস দে মিগুয়েল! এফসি আন্দোরার গোলকিপার জিসাস ওনোর সঙ্গে মাঠে ভয়াল সংঘর্ষের পর সিডি টেনেরিফের ফরোয়ার্ডের মৃত্যু হয়েছে। এস্তাদিও হেলিয়োদোরো রড্রিগেজ লোপেজ স্টেডিয়ামে হওয়া এই ম্য়াচের একদিন পর মঙ্গলবার ৩ নভেম্বর স্থানীয় সময়ে সকাল ৮টায় শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন মিগুয়েল। গত সোমবার টেনেরিফ ও আন্দোরার মধ্যকার ম্যাচ যখন ২-২ চলছিল ঠিক তখনই এই মর্মান্তিক ঘটনাটি ঘটে। মিগুয়েল একটি লম্বা বল ফলো করছিলেন, এমন সময়ে গোলরক্ষক ওনো বলটি ধরার জন্য বক্স ছেড়ে হাফ সার্কেলে চলে আসেন। বল দখলের লড়াইয়ের সময় গোলরক্ষকের হাঁটু সরাসরি টেনেরিফে ফরোয়ার্ডের বুকে আঘাত করে, যার ফলে তিনি মাঠেই অচেতন হয়ে পড়েন। চিকিৎসা কর্মীরা দ্রুত ছুটে আসেন এবং পাঁচ মিনিটেরও বেশি সময় ধরে তাঁকে জরুরি চিকিৎসা দেওয়া হয়। মিগুয়েলের কার্ডিওরেসপিরেটরি অ্যারেস্ট (হৃদযন্ত্র ও শ্বাসক্রিয়া বন্ধ হয়ে যাওয়া) হয়ে গিয়েছিল। তবে চিকিৎসাকর্মীরা তাঁকে পুনরুজ্জীবিত করতে সক্ষম হন এবং হাসপাতালে পাঠানোর আগে তাঁর নাড়ির স্পন্দন ফিরিয়ে আনেন। আহত খেলোয়াড়কে চিকিৎসা দেওয়ার সুবিধার্থে স্টপেজ টাইমের সাত মিনিট বাকি থাকতেই ম্যাচ পরিত্যক্ত ঘোষণা করা হয়। এই ঘটনার পর ওওনোকে সরাসরি লাল কার্ড দেখানো হয়।
কী বলছে দুই ক্লাব
মিগুয়েলকে সান্তা ক্রুজের ইউনিভার্সিটি হসপিটাল অফ নুয়েস্ত্রা সেনিয়োরা দে কান্দেলারিয়ার আইসিইউ-তে ভর্তি করা হয়। শুরুতে মিগুয়েলের ক্লাব তাঁর শারীরিক অবস্থাকে গুরুতর হলেও স্থিতিশীল বলেই জানিয়েছিল। তবে পরে ক্লাবের তরফে জানানো হয় যে, তার স্নায়বিক অবস্থার অবনতি ঘটেছে। অবশেষে এদিন সকালে তার মৃত্যুর বিষয়টি নিশ্চিত করা হয়েছে। ক্লাবের বিবৃতিতে বলা হয়েছে, 'গভীর যন্ত্রণায় কাতর হয়ে, কণ্ঠরুদ্ধ অবস্থায়—এমন ঘটনা বিশ্বাসই করতে পারছি না। সিডি টেনেরিফে অত্যন্ত দুঃখের সঙ্গে জানাচ্ছে যে, হেসুস দে মিগুয়েল আলামেদা আমাদের ছেড়ে চলে গিয়েছেন। স্বান্ত্বনা দেওয়ার মতো কোনও ভাষা নেই। এমন গভীর শোকের অনুভূতি লাঘব করার মতো কিছুই নেই। আমরা তার শোকার্ত পরিবার, প্রিয়জন এবং টেনেরিফের সেই পুরো ফুটবল পরিবারের পাশে আছি, যারা আজ এই নিষ্ঠুর পরিণতির জন্য কাঁদছে।' দে মিগুয়েল ২০১৫ সালে লেগানেস বি-র হয়ে তার সিনিয়র ফুটবল কেরিয়ার শুরু করেন এবং পরবর্তীতে আরও আটটি স্প্যানিশ ক্লাবের প্রতিনিধিত্ব করেন। গত বছর তিনি টেনেরিফেতে যোগ দেন এবং সেই দলের অংশ ছিলেন, যারা স্পেনের দ্বিতীয় বিভাগে ফিরে এসেছিল। ৩০ বছর বয়সী এই ফুটবলারের মৃত্যুতে ফুটবল অঙ্গন থেকে শোকের বন্যা বয়ে গিয়েছে। এফসি আন্দোরাও এই মর্মান্তিক ঘটনার পর দে মিগুয়েল, তাঁর পরিবার এবং টেনেরিফে ক্লাবের প্রতি সমবেদনা জানিয়েছে। টেনেরিফে জানিয়েছে, দে মিগুয়েলের পরিবার সমর্থক ও শুভাকাঙ্ক্ষীদের পাঠানো বার্তার জন্য সবাইকে ধন্যবাদ জানিয়েছে এবং এই শোকের সময়ে তাদের গোপনীয়তাকে সম্মান জানানোর অনুরোধ করেছে।
(দেশ, দুনিয়া, রাজ্য, কলকাতা, বিনোদন, খেলা, বিজনেস, লাইফস্টাইল, কেরিয়ার, ইউটিলিটির টাটকা খবর, আপডেট এবং ভিডিয়ো পেতে ডাউনলোড-লাইক-ফলো-সাবস্ক্রাইব করুন আমাদের Facebook, Whatsapp Channel, X, Youtube, Instagram পেজ-চ্যানেল)