বিধান সরকার: গত ২৫ বছরে রাজনৈতিক হিংসায় নিহতদের পরিবারের একজন সদস্যকে গ্রুপ ডি পদে স্থায়ী চাকরি দেওয়ার বিজ্ঞপ্তি জারি করেছে নবান্ন। এতে আশার আলো দেখছে কঙ্কা টুডুর পরিবার।
বিজেপি কর্মী কঙ্কা টুডু হুগলিতে প্রথম রাজনৈতিক হিংসার শিকার হয়েছিলেন। ১৯৯৩ সালের ১ জুন হুগলি গুড়াপের বেনাথলি গ্রামে বাড়িতে খুন হয়েছিলেন কঙ্কা টুডু।
সে বছর পঞ্চায়েত নির্বাচনে গুড়াপ গ্রাম পঞ্চায়েতে বিজেপি প্রার্থী হয়েছিলেন কঙ্কা। ভোটে পরাজিত হয়েছিলেন। পরদিন বিজয় মিছিল থেকে তার বাড়িতে হামলা চালানো হয়। বাড়ি ঘর ভাঙচুর করে শাবল দিয়ে নৃশংস ভাবে হত্যা করে রেল লাইনে ফেলা হয় দেহ। সেই মামলার বিচার পর্ব চলে চুঁচুড়া আদালতে। প্রমাণের অভাবে
২০০৪ সালে অভিযুক্তরা বেকসুর খালাস পেয়ে যান। তাদের মধ্যে এখনো কয়েকজন জীবিত।
কঙ্কার পরিবার বলতে তার দুই ছেলে, তাদের স্ত্রীরা ও তাদের চার ছেলে। মাঠে দিন মজুর খেটে কোনো ভাবে চলে পরিবার।
ঘটনার সময় কঙ্কার বড় ছেলে কালীপদ টুডুর বয়স ছিল নয় বছর। ভয়ে বাড়ি ছাড়া ছিল গোটা পরিবার। কালীপদ বলেন,বাবাকে নৃশংস ভাবে হত্যা করা হয়েছিল শুধু বিজেপি করত বলে। সে সময় ভয়ে কেউ সাহায্য করতে আসতে পারেনি। আমরা গ্রাম ছেড়ে পালিয়েছিলাম।
সংসারের জোয়াল টানতে গিয়ে ক্লাস ফাইভের পর পড়া হয়নি। ভাই নিরাপদ স্কুলই যায়নি কোনো দিন। কঙ্কা টুডুর যখন মৃত্যু হয় তার বয়স ছিলো ৫২ বছর। পরিবারের এক মাত্র উপার্জন করার মানুষ। সে মারা যেতে পরিবারটা প্রায় ভেসে যায়। পনেরো বছর তৃণমূল সরকার ছিল তারাও দেখেনি বলে দাবি করেন কঙ্কার ছেলে কালীপদ।
আরও পড়ুন-স্বাস্থ্যভবনে বসেই স্বাস্থ্যসাথীতে দুর্নীতি! স্বাস্থ্যমন্ত্রীর কাছে লিখিত অভিযোগ চিকিত্সকের বিরুদ্ধে
রাজ্যে এখন বিজেপি সরকার। বিজেপি তিন শতাধিক শহিদের তালিকায় নাম রয়েছে কঙ্কার। গ্রামেরই এক বিজেপি কর্মী শহীদ কঙ্কার যাবতীয় নথি বিজেপি রাজ্য দপ্তরে দিয়ে এসেছেন কালীপদকে নিয়ে গিয়ে।
গত ২৫ বছরে রাজ্যে রাজ্যনৈতিক হিংসায় নিহতদের পরিবারকে চাকরি দেবে সরকার। বিজেপি কর্মী কঙ্কার মৃত্যু হয়েছে তারও আট বছর আগে। তাই সরকারি নির্দেশিকা অনুযায়ী কঙ্কার পরিবারের কেউ এর দাবিদার নয়। তবে কালীপদ চাইছেন সরকার তাদের কথাটাও ভাবুক।
বিজেপি হুগলি সাংগঠনিক জেলা এসসি মোর্চার সহ সভাপতি স্বপন সাঁতরা বলেন,শুধু বিজেপি করার অপরাধে নির্মম ভাবে হত্যা করা হয়েছিল কঙ্কা টুডুকে।
বাম জমানায় ভয়ে কেউ কথা বলতে পারত না ধনিয়াখালিতে। এরপর তৃনমূল এসেছে। পরিস্থিতি বদল হয়নি। তবে আমাদের সরকার মুখ্যমন্ত্রী আশার আলো দেখাচ্ছেন। রাজনৈতিক হিংসার বলি পরিবারের চাকরির ব্যবস্থা করছেন। কঙ্কার পরিবারের একটা কিছু হলে ভালো। আমরা পরিবারের পাশে আছি।
(দেশ, দুনিয়া, রাজ্য, কলকাতা, বিনোদন, খেলা, বিজনেস, লাইফস্টাইল, কেরিয়ার, ইউটিলিটির টাটকা খবর, আপডেট এবং ভিডিয়ো পেতে ডাউনলোড-লাইক-ফলো-সাবস্ক্রাইব করুন আমাদের Facebook, Whatsapp Channel, X, Youtube, Instagram পেজ-চ্যানেল)