ধেয়ে আসছে স্রোত? গৃহপালিত পশু সঙ্গে নিয়েই খোলা আকাশের নীচে আতঙ্কের রাত কাটালেন কয়েকশো মানুষ!
Sintaphu Lake Outburst: আলিপুরদুয়ারে সংকোশ বাজার এলাকা কৃষি প্রধান এলাকা। কিছু মানুষ দৈনিক মজুরিতে বালি-পাথর তোলেন সংকোশ নদী থেকে। সংকোশ নদীর কিনারায় তাঁদের বাড়ি। প্রায় ২৫০ পরিবার থাকে এই এলাকায়।
তপন দেব, অরূপ বসাক: ভুটানে মেঘভাঙা বৃষ্টির ফলে জলের ট্যাংকে ফাটল ধরায় পশ্চিমবঙ্গে আলিপুরদুয়ারের নদীগুলিতে জলস্ফীতি ঘটতে পারে, সেই মর্মে নির্দেশ আসার পরেই আলিপুরদুয়ার জেলা প্রশাসনের তরফে জেলার বিভিন্ন নদীগুলির পাশে বসবাসকারী বাসিন্দাদের অন্যত্র চলে যাওয়ার জন্য বলে। ফলে গতকাল রাত থেকে জেলার নদীর পাশে বসবাসকারি বাসিন্দাদের মধ্যে আতঙ্ক ছড়ায়। অনেকেই বাড়ি ছেড়ে উঁচু জায়গায় আশ্রয় নিয়েছিল। ভুটান থেকে বয়ে আসা জলে বিশেষ করে কুমারগ্রামের সংকোশ, রায়ডাক নদীতে বিপত্তি বেশি ঘটার আশঙ্কা থাকায় এই অঞ্চলে বিশেষ করে সংকোশ বাগান, বনবস্তি, ভল্কা গ্রাম পঞ্চায়েতের বিস্তিন্ন এলাকা, বৃত্তিবাড়ি, পূর্বশালবাড়ি এলাকাগুলিতে আতঙ্ক ছড়ায়। যদিও রাত থেকে সকাল পর্যন্ত নদীগুলিতে কোনও জলস্ফীতি ঘটেনি।
আরও পড়ুন: নদীবাঁধে বিপর্যয়! ৫০ মিটার ধস, আরও ১০০ মিটারে দেখা দিয়েছে আতঙ্কের ফাটল; অর্ণবের আঁচড়
বৃহস্পতির রাত আতঙ্কের রাত
আলিপুরদুয়ারে সংকোশ বাজার এলাকা কৃষি প্রধান এলাকা। কিছু মানুষ দৈনিক মজুরিতে বালি-পাথর তোলেন সংকোশ নদী থেকে। সংকোশ নদীর কিনারায় তাঁদের বাড়ি। প্রায় ২৫০ পরিবার থাকে এই এলাকায়। গতকাল রাতে এই এলাকার মানুষের কাছে এক আতঙ্কের রাত হয়ে উঠেছিল। রাত তখন সাড়ে আটটা নয়টা। হঠাৎ প্রশাসন থেকে মাইকিং করে জানানো হয় ভুটানে বাঁধ ভেঙেছে, জল বাড়তে পারে সংকোশে। ভয়ে পরিবারের ছোট, বয়স্ক, আর মহিলাদের নিয়ে সংকোশ নদীর ব্রিজের উপর আশ্রয় নেন মানুষগুলি। বাড়ির পালিত গরু ছাগল সব নিয়েই নিদ্রাহীন রাত কাটে তাঁদের। ভোর ৪টে নাগাদ নদীতে জল না বাড়ায় ধীরে ধীরে বাড়ি ফেরেন সকলে। সকালেও তাঁদের চোখে-মুখে আতঙ্কের ছাপ ছিল।
ডুয়ার্সে আতঙ্ক, সতর্ক প্রশাসন
ভুটানে শিনতাফু হ্রদ থেকে জল উপচে পড়ার খবরে আতঙ্ক ছড়িয়েছে ডুয়ার্স এলাকায়। পরিস্থিতির কথা মাথায় রেখে বৃহস্পতিবার রাতেই নাগরাকাটা ব্লকের বেশ কয়েকটি নদী সংলগ্ন এলাকায় প্রশাসনের পক্ষ থেকে মাইকিং করে সাধারণ মানুষকে সতর্ক করা হয়। শুক্রবার সকাল থেকে ডুয়ার্সের বিভিন্ন এলাকায় ঝিরিঝিরি বৃষ্টি শুরু হলেও নদীগুলিতে জলস্তর বাড়তে দেখা যায়নি। চেল, ঘীস, লীস, মাল ও জলঢাকা নদীতে শুক্রবার সকালেও জলস্তর ছিল স্বাভাবিকের কাছাকাছি। ফলে কিছুটা স্বস্তি ফিরেছে স্থানীয় বাসিন্দাদের মধ্যে। তবে কোনও রকম ঝুঁকি নিতে নারাজ প্রশাসন। পরিস্থিতির উপর নিয়মিত নজরদারি চালানো হচ্ছে। অন্য দিকে, ঘূর্ণিঝড় অর্নবের প্রভাবে সকাল থেকেই ডুয়ার্স জুড়ে আকাশ মেঘলা। কোথাও কোথাও চলছে ঝিরিঝিরি বৃষ্টি। পাশাপাশি আবহাওয়াও বেশ ঠান্ডা রয়েছে।
(দেশ, দুনিয়া, রাজ্য, কলকাতা, বিনোদন, খেলা, বিজনেস, লাইফস্টাইল, কেরিয়ার, ইউটিলিটির টাটকা খবর, আপডেট এবং ভিডিয়ো পেতে ডাউনলোড-লাইক-ফলো-সাবস্ক্রাইব করুন আমাদের Facebook, Whatsapp Channel, X, Youtube, Instagram পেজ-চ্যানেল)