সুভাশিস মণ্ডল: প্রায় সাড়ে চারশো বছর আগের সেই প্রতিষ্ঠিত মা মহাকালী রূপে আজও বিরাজমান বাগনানে। সাড়ে চারশোর বেশি বছর আগের কথা, বাগনানের খালোড় এই জায়গাটির একদিকে রূপনারায়ণ অন্যদিকে দামোদর নদী বয়ে গিয়েছে। মাঝখানে বাগনানের এই জায়গাটি পড়ে ।
তৎকালীন সময়ে বর্ধমানের রাজা কনদর্পনারায়ণ ব্যবসা-বাণিজ্যের জন্য নৌকায় যাতায়াত করতেন ওই জায়গা দিয়ে। এইসব এলাকা তারই সাম্রাজ্যের মধ্যে পড়ত। প্রজারাও এখানে বসবাস করতেন। খালোড় বাগনানের প্রজারা একদিন রাজার কাছে আবদার করেন তারা মা কালীর পূজা করতে চান। তাদের কথা শুনে সেই মতো রাজা কনদর্পনারায়ণ এখানে অস্থায়ীভাবে মা কালীর পূজা শুরু করেন। পূজা চলতে চলতে কথিত আছে কিছুদিন যাওয়ার পর রাজা স্বপ্নাদেশ পান, 'তুই আমাকে এখানে স্থায়ীভাবে প্রতিষ্ঠা কর আমি এখানে স্থায়ী ভাবে থাকতে চাই।'
ওই স্বপ্নাদেশ পাওয়ার পর রাজা কনদর্পনারায়ণ ওই জায়গা মন্দির প্রতিষ্ঠিত করেন আজ থেকে সাড়ে চারশো বছর আগে। প্রাচীন সেই সময় কাল থেকে আজও এখানে পুজো হয়ে আসছে । কালের নিয়মে পরপর দুবারের মূর্তি অবক্ষয়ে হয়ে যায়। কথিত আছে দ্বিতীয় মূর্তি যখন অবক্ষয় হয়ে যায় সেই সময়ের পুরোহিত পূর্ণেন্দু নাথ গাঙ্গুলী মায়ের স্বপ্নাদেশ পান যে হুগলির সপ্তঋষি ঘাট ত্রিবেণী ঘাট সেখানে আমাকে ভাসান করে দিস তারপর তোরা আমাকে কাঠের মূর্তিতে প্রতিষ্ঠা কর।
ওই আদেশ পাওয়ার পর বোড়োল গ্রাম থেকে একটি নিম গাছ কেটে এনে তা থেকেই মায়ের মূর্তি তৈরি করা হয়। সেই থেকে আজও পুজিত হয়ে আসছে মায়ের বিরাজমান নিমকাঠের সেই মূর্তি। েসোনা রুপার অলংকারে সুসজ্জিত মায়ের অপূর্ব মূর্তি এখানে ভক্তদের দর্শন দেন। দূর দুরান্ত থেকে ভক্তরা আসেন তাদের মনস্কামনা নিয়ে। ভক্তদের মনস্কামনা পূর্ণ হয়। এখনও রীতি রেওয়াজ মেনে নিষ্ঠার সঙ্গে মায়ের আরাধনা করা হয়। বিভিন্ন সময়ে মেলা বসে এলাকায়। বাগনানে রাজার তৈরি সেই মন্দির প্রতিষ্ঠিত মা কালী বিরাজমান। তিনি আজও তার ভক্তদেরকে মনকামনা পূর্ণ করেন। বিপদে-আপদে রক্ষা করে চলেছেন। এমনটাই দাবি ভক্তদের।
(দেশ, দুনিয়া, রাজ্য, কলকাতা, বিনোদন, খেলা, বিজনেস, লাইফস্টাইল, কেরিয়ার, ইউটিলিটির টাটকা খবর, আপডেট এবং ভিডিয়ো পেতে ডাউনলোড-লাইক-ফলো-সাবস্ক্রাইব করুন আমাদের Facebook, Whatsapp Channel, X, Youtube, Instagram পেজ-চ্যানেল)