জি ২৪ ঘণ্টা ডিজিটাল ব্যুরো: ৬ নভেম্বর ২০১৩, ক্রিকেটের নন্দনকানন ইডেন গার্ডেন্সে মুখোমুখি হয়েছিল ড্য়ারেন স্যামির ওয়েস্ট ইন্ডিজ ও এমএস ধোনির ভারত। আর সেদিন টেস্ট অভিষেক হয়েছিল উত্তরপ্রদেশের আমরোহার এক পেসারের, যিনি ঘরোয়া ক্রিকেট খেলেন এই বাংলার হয়েই চেনা মাঠেই টেস্ট ডেবিউতে দুই ইনিংস মিলিয়ে ৯ উইকেট নিয়েছিলেন। তারপর থেকে আর পিছন ফিরে তাকাতে হয়নি। লাল বলের অন্য়তম সেরা হিসেবেই নিজের নাম লিখিয়ে ফেলেছিলেন তিনি। কথা হচ্ছে মহম্মদ শামিকে নিয়ে। ৬ নভেম্বর ২০২৬, ঠিক ১৩ বছর পর শামি জানিয়ে দিলেন যে, তাঁকে আর টেস্ট ক্রিকেটে দেখা যাবে না। সোশ্যাল মিডিয়ায় ভিডিয়ো পোস্ট করেই ক্রিকেটের দীর্ঘতম সংস্করণকে গুডবাই বললেন শামি। ২০২৩ সালের জুন মাসে ওভালে অস্ট্রেলিয়ার বিরুদ্ধে বিশ্ব টেস্ট চ্যাম্পিয়নশিপের ফাইনালই ছিল শামির শেষ টেস্ট। শামি ১৩ বছরের টেস্ট কেরিয়ারে ৬৪ ম্যাচে ২২৯ উইকেট নিয়েছেন ২৭.৭১-এর গড়ে। ছ'বার পাঁচ উইকেট করে পেয়েছেন শামি। ইংল্যান্ডের বিরুদ্ধে ৫৬ রানে ৬ উইকেটই শামির সেরা টেস্ট পরিসংখ্যান। শামির অবসরের পর প্রাক্তন থেকে বর্তমান ক্রিকেট তারকারা সোশ্যাল মিডিয়ায় তাঁকে শুভেচ্ছাবার্তায় ভরিয়ে দিয়েছেন। তবে শামির টেস্ট অবসর মানতে পারছেন না তাঁর প্রাক্তন জাতীয় দলের কোচ রবি শাস্ত্রী। ফুঁসছেন তিনি।
নিউ জিল্যান্ডের বিরুদ্ধে ভারতের চলতি দ্বিতীয় ওডিআই ম্যাচের আগে 'এক্সট্রা ইনিংস' অনুষ্ঠানে কথা বলার সময় শাস্ত্রী জানান যে, তিনি আশা করেছিলেন যে, শামি তাঁর টেস্ট আরও ৩০-৪০টি উইকেট পেতে পারতেন। শাস্ত্রী বলেন, "দেশের হয়ে এত ভালো খেলা একজন খেলোয়াড় যখন বিদায় নেয়, তখন তা দুঃখজনক। আমার দৃঢ় বিশ্বাস ছিল, ওর ঝুলিতে আরও ৩০-৪০টি উইকেট নেওয়ার ক্ষমতা ছিল। গত ১২ মাসে ওর খেলা উচিত ছিল এবং টেস্ট বোলার হিসেবে ওর দলে থাকা প্রয়োজন ছিল। জিমে ফিটনেস ধরে রাখার কী অর্থ, যদি আপনি কোনও ম্যাচে ১০ বা ১২ ওভার বলই করতে না পারেন! অথচ আপনার হাতে এমন একজন পরিশ্রমী বোলার ছিল, যে দলের জন্য বল করতে প্রস্তুত। তাই, ওকে আরও একটি সুযোগ না দেওয়ায় আমি কিছুটা হতাশ।'
বিদয়ীবার্তায় শামি লিখেছেন
'সাদা জার্সি থেকে আমার বিদায়। তবে এর সঙ্গে জড়িয়ে থাকা স্মৃতিগুলি থেকে কখনই নয়। যখন আমি প্রথমবার ভারতের টেস্ট জার্সি পরেছিলাম, তখ আমার একটাই স্বপ্ন ছিল- দেশের জন্য কিছু করা। এরপর প্রতিটি উইকেট, প্রতিটি সংগ্রাম, প্রতিটি চোট এবং প্রতিটি প্রত্যাবর্তন আমাকে কিছু না কিছু শিখিয়েছে। টেস্ট ক্রিকেট আমার কাছে শুধু একটি ফরম্যাট নয়, আমার জীবনের এক অত্যন্ত বিশেষ অংশ। আজ, ভারাক্রান্ত হৃদয়ে এবং অগুণিত সুন্দর স্মৃতি নিয়ে আমি টেস্ট ক্রিকেট থেকে অবসর নেওয়ার সিদ্ধান্ত নিচ্ছি। এই যাত্রায় আমার প্রতিটি সমর্থক, প্রত্যেক সতীর্থ, কোচ, পরিবারের সদস্য এবং ভালো ও কঠিন উভয় সময়ে আমার উপর আস্থা রাখা লক্ষ লক্ষ ভারতীয়দের প্রতি আমার আন্তরিক কৃতজ্ঞতা। আমার আন্তরিক কৃতজ্ঞতা বিসিসিআই এবং ক্রিকেট অ্যাসোসিয়েশন অফ বেঙ্গল (সিএবি)-এর প্রতিও, যারা আমার প্রতিভায় বিশ্বাস রেখেছিল, আমাকে বিকশিত হওয়ার সুযোগ দিয়েছিল এবং আমার ক্রিকেট যাত্রায় এক গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেছে। আপনাদের সমর্থন এবং বিশ্বাস আমার কাছে চিরকাল বিশেষ হয়ে থাকবে। আমার শেষ টেস্ট বলটি হয়তো করা হয়ে গিয়েছে কিন্তু ভারতের হয়ে খেলার গর্ব আমার হৃদয়ে চিরকাল বেঁচে থাকবে। ধন্যবাদ, টেস্ট ক্রিকেট। ইতি আপনার শামি।' ভিডিয়োতে টেস্ট অবসরের ঘোষণার সময়ে শামি জানিয়েছেন যে তিনি সাদা বলের ক্রিকেট খেলা চালিয়েই যাবেন।
আরও পড়ুন: WATCH: এশিয়া কাপে বিস্ফোরক বীরুপুত্র! আর্যবীর শেহওয়াগের ৭ চার ও ৪ ছয়ে ৫২ বলে ৭০*, ভারত ফেলে পিষল নেপালকে
চাকা ঘুরল না শামির
২০২৫ সালের চ্যাম্পিয়ন্স ট্রফির ফাইনালের পর থেকেই শামি ভারতীয় দলের বাইরে। চোটের কারণে দীর্ঘদিন তিনি খেলতে পারেননি। বাংলার হয়ে প্রতিযোগিতামূলক ক্রিকেটে দুর্দান্ত পারফরম্যান্স করেই কামব্য়াক করেছিলেন ক্রিকেটে। তবে অজিত আগররের নির্বাচকমণ্ডলী তাঁকে জাতীয় দলে খেলার যোগ্য মনে করেনি। ঘরোয়া ক্রিকেটে শামি ভালো পারফর্ম করেই চলেছেন। গত সপ্তাহে কল্যাণীতে দিল্লির বিরুদ্ধে বাংলার রঞ্জি ট্রফির উদ্বোধনী ম্যাচে তিনি পাঁচ উইকেট তুলে নিয়ে প্রমাণ করেছিলেন যে, ঘরোয়া ক্রিকেটেও তিনি কার্যকর। মনে করা হচ্ছিল যে, আগরকারের বিদায়ের পর প্রজ্ঞান ওঝার নির্বাচক কমিটিতে হয়তো তাঁকে দলে ফেরার দরজা খুলে দিতে পারে। কারণ ভুবনশ্বর কুমার চার বছর পর টি-২০আইতে ফিরেছেন। কিন্তু আসন্ন নিউ জিল্যান্ড সফরে ওঝার পরিকল্পনায় নেই শামি! সেই একই জিনিস...
(দেশ, দুনিয়া, রাজ্য, কলকাতা, বিনোদন, খেলা, বিজনেস, লাইফস্টাইল, কেরিয়ার, ইউটিলিটির টাটকা খবর, আপডেট এবং ভিডিয়ো পেতে ডাউনলোড-লাইক-ফলো-সাবস্ক্রাইব করুন আমাদের Facebook, Whatsapp Channel, X, Youtube, Instagram পেজ-চ্যানেল)