জি ২৪ ঘণ্টা ডিজিটাল ব্যুরো: 'শেষ হইয়াও হইল না শেষ'! গত ৭ অক্টোবর লিয়োনেল মেসির 'শেষের কবিতা' লেখা হয়ে গিয়েছিল। তাঁর অনন্য সুন্দর আন্তর্জাতিক কেরিয়ারের অন্তিম পর্ব ছিল আর্জেন্টিনার বুয়েনস আইরেসের মনুমেন্টাল স্টেডিয়ামে। বেনিনের বিরুদ্ধে দেশের হয়ে শেষ ম্যাচ খেলেছিলেন লিয়ো। আর এবার সেই ম্যাচ ঘিরে বড়সড় চাঞ্চল্যকর তথ্য সামনে এসেছে। পশ্চিম আফ্রিকান দেশের কোচ জেরনট রোর পরের পর সব বিস্ফোরক অভিযোগ করেছেন আর্জেন্টিনার বিরুদ্ধে। আরএমসি স্পোর্টসকে রোর জানিয়েছেন যে, 'কিচ্ছু দেয়নি আর্জেন্টিনা'! ২০১৬ থেকে ২০২১ সাল পর্যন্ত নাইজেরিয়ার দায়িত্বে ছিলেন জার্মান কোচ রোর। তিনি জানিয়েছেন যে, সফরকারী দলের সদস্যদের আর্জেন্টিনার অধিনায়কের সঙ্গে ছবি তুলতে বা ম্যাচের পর জার্সি অদলবদল পর্যন্তও করতে দেওয়া হয়নি। যা সাধারণত প্রচলিত একটি রীতি।
কী বলেছেন রোর
'আমার খেলোয়াড়রা সব রকম চেষ্টা করেছিল, কিন্তু কোনও কিছুই কাজে আসেনি। আর্জেন্টিনা আমাদের খেলোয়াড়দের কিচ্ছু দেয়নি! এমনকী মেসির সঙ্গেও একটা ছবি তোলার সুযোগ পাইনি। তিনবারের বিশ্বচ্যাম্পিয়নদের কাছে ৩-০ ব্যবধানে হারের পরেও রোর মনে করেন, আর্জেন্টিনা যদি তাদের প্রতি আরেকটু আন্তরিক বা সহযোগিতামূলক আচরণ করত, তবে তাঁর খেলোয়াড়দের জন্য অভিজ্ঞতাট অনেক ভালো হতে পারত। 'আমরা জার্সি অদলবদল করতে চেয়েছিলাম, কিন্তু একটাও জার্সি পাইনি। এমনকী ওরা আমাদের খেলোয়াড়দের চলাচলের করিডোরেও ঢুকতে দেয়নি। নিরাপত্তারক্ষীরা সবাইকে ফিরিয়ে দিচ্ছিল। খেলোয়াড়রা নিজেদের জার্সি নিয়ে এসেছিল এই আশায় যে, তারা আর্জেন্টাইন খেলোয়াড়দের সঙ্গে সেগুলি অদলবদল করতে পারবে।' ৭৩ বছর বয়সী কোচ আরও জানান যে, খেলা শেষ হওয়ার পর তাঁকে ৩০ মিনিট অপেক্ষা করতে হয়েছিল। এরপর মেসিদের কোচ লিয়োনেল স্কালোনি তাঁর কাছে থাকা মেসির একটি পুরনো ম্যাচের জার্সিতে সই করে দেন।
ম্যাচ কেমন ছিল
আলবিসেলেস্তের হয়ে শেষ ম্যাচে দুর্দান্ত পারফর্ম করেছেন মেসি। এক গোল করার পাশাপাশি আরও দু'গোল করালেন। মাঠে প্রথমার্ধ গোলশূন্য ভাবে শেষ হওয়ার পর দ্বিতীয়ার্ধের শুরুতেই আর্জেন্টিনা ডেডলক ভাঙে। ৪৮ মিনিটে মেসির অ্যাসিস্টে নিকোলাস ওটামেন্ডি গোল করে আর্জেন্টাইনদের এগিয়ে দেন। আর এই সুযোগ কাজে লাগাতে তিনি কোনও ভুল করেননি। আর্জেন্টিনার দ্বিতীয় গোলের ক্ষেত্রেও মূল ভূমিকা ছিল মেসির। তিনি নিকো পাজকে বল বাড়িয়ে দেন, যিনি চমৎকার এক বাঁকানো শটে ব্যবধান দ্বিগুণ করেন এবং গ্যালারিতে উপস্থিত দর্শকদের আনন্দে ভাসান। এরপর ৩৯ বছর বয়সী এই তারকা পেনাল্টি থেকে গোল করে স্কোরলাইন ৩-০ করেন এবং নিজের অসাধারণ আন্তর্জাতিক কেরিয়ারে আরও এক স্মরণীয় মুহূর্ত যোগ করেন। খেলার শেষ বাঁশি বাজার সঙ্গে সঙ্গে মেসি মাঠে তাঁর সতীর্থদের জড়িয়ে ধরেন। গ্যালারি জুড়ে সমর্থকরা স্লোগান ও করতালিতে মুখর হয়ে ওঠে। আবেগঘন এই দৃশ্যপট এমন এক যুগের উপযুক্ত সমাপ্তি ঘটাল, যে সময়ে এই ফরোয়ার্ড আন্তর্জাতিক অঙ্গনে আর্জেন্টিনার ভাগ্য বদলে দিয়েছিলেন।
(দেশ, দুনিয়া, রাজ্য, কলকাতা, বিনোদন, খেলা, বিজনেস, লাইফস্টাইল, কেরিয়ার, ইউটিলিটির টাটকা খবর, আপডেট এবং ভিডিয়ো পেতে ডাউনলোড-লাইক-ফলো-সাবস্ক্রাইব করুন আমাদের Facebook, Whatsapp Channel, X (Twitter), Youtube, Instagram পেজ-চ্যানেল)