জি ২৪ ঘণ্টা ডিজিটাল ব্যুরো: 'একে একে নিভিছে দেউটি'! শেষ হয়ে গেল লিয়োনেল মেসির অনন্য সুন্দর আন্তর্জাতিক অধ্যায়। গত মঙ্গলবার দেশের হয়ে শেষ ম্যাচ খেললেন তিনি। আর্জেন্টিনার বুয়েনস আইরেসের মনুমেন্টাল স্টেডিয়ামে বেনিনের বিরুদ্ধে জীবনের অন্তিম আন্তর্জাতিক ম্য়াচও স্মরণীয় করে রাখলেন এলএমটেন।'আলবিসেলেস্তের হয়ে দুর্দান্ত পারফর্ম করলেন মেসি। এক গোল করার পাশাপাশি আরও দু'গোল করালেন। খেলার শেষে ইনস্টাগ্রামে এক দীর্ঘ বার্তায় মেসি জানিয়েছেন যে, আর্জেন্টিনার জার্সি এখনই তিনি মিস করতে শুরু করেছেন। ৩৯ বছর বয়সী মহাতারকা জানিয়েছেন জাতীয় দল থেকে সরে দাঁড়ানোর এটাই উপযুক্ত সময়। পাশাপাশি তিনি নিজের পরিবার ও সতীর্থদের প্রতিও কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন। এছাড়া প্রয়াত কিংবদন্তি দিয়েগো মারাদোনার কথাও শ্রদ্ধার সঙ্গে স্মরণ করেছেন মেসি। তাঁকে সকলেই কুর্নিশ জানিয়েছেন এহেন কেরিয়ারের জন্য়। তবে মাঠের একসময়ের এক নম্বর প্রতিদ্বন্দ্বী ক্রিশ্চিয়ানো রোনাল্ডো। সিআর সেভেন যা লিখলেন, তা হৃদয় ছুঁয়ে নিল দুই মহানক্ষত্রের ভক্তদের। পাশাপাশি ফুটবলবিশ্বও দেখল দুই কিংবদন্তির সৌজন্য বোধ।
মেসি তাঁর বিদায়লগ্নে লিখলেন
'গতকাল ছিল আমার শেষ ম্যাচ আর এখনই নীল-সাদা জার্সিটা গায়ে জড়ানোর অভাব অনুভব করছি। আমি জানি, আমি সঠিক সিদ্ধান্তই নিয়েছি। এটি ছিল এক অবিশ্বাস্য যাত্রা—আনন্দ ও কিছুটা বিষাদে ভরা—তবে আমি নিশ্চিত যে আমার নেওয়া প্রতিটি পদক্ষেপই সার্থক ছিল। আমার আরও অনেক কিছু বলার আছে। আমার মনের সব অনুভূতি কেবল শব্দ বা কোনও পোস্টের মাধ্যমে প্রকাশ করা অসম্ভব। পরিবার ছাড়া এই যাত্রা কখনই সম্ভব হত না। তাঁরা সবসময় আমার পাশে থেকেছে ও আমাকে সমর্থন জুগিয়েছে—বিশেষ করে কঠিন মুহূর্তগুলিতে, যখন আমার সবচেয়ে বেশি প্রয়োজন ছিল। আমার বন্ধু-বান্ধব, সতীর্থ এবং কোচিং স্টাফ বা টেকনিক্যাল টিমের সদস্যরাও ছিলেন অপরিহার্য। আমি দিয়েগোর কথা ভুলতে চাই না, যিনি আমাদের দেশকে তার প্রাপ্য উচ্চতায় নিয়ে গিয়েছিলেন। আমি সবসময়ই বলি, আমাদের প্রতিটি পদক্ষেপে তিনি আমাদের পাশে থেকে এবং স্বর্গ থেকেও সাহায্য করেছেন। যেসব ক্লাবের হয়ে আমি খেলেছি, তাদের প্রতিও ধন্যবাদ জানাই। তারা সবসময় আমার আবেগকে সম্মান জানিয়েছে এবং জাতীয় দলের জার্সি পরার সময় আমাকে দেশের সেবায় নিজেকে নিয়োজিত করার সুযোগ দিয়েছে। আর অবশ্যই ঈশ্বরকে ধন্যবাদ। তাঁর নির্দেশনা ও ইচ্ছা ছাড়া এতদূর আসার স্বপ্ন দেখাও আমাদের পক্ষে সম্ভব হত না। আমি কৃতজ্ঞ। আমি আপনাদের সবাইকে খুব ভালোবাসি। আপনাদের অভাব অনুভব করব এবং আমাদের ও আমার পাশে থাকার জন্য আমি চিরকাল কৃতজ্ঞ থাকব।'
মেসির পোস্টে রোনাল্ডো লিখলেন
'লিও, এত বছর ধরে দেশের জার্সিতে লড়াই করে তুমি যে ইতিহাস লিখেছ, তা আজীবন অমর হয়ে থাকবে। আর্জেন্টিনার হয়ে তোমার সমস্ত অর্জন ও কৃতিত্বের প্রতি রইল আমার গভীর শ্রদ্ধা। তোমার জন্য রইল আন্তরিক শুভেচ্ছা ও ভালোবাসা। আমার আলিঙ্গন নিও'। ইনস্টায় মেসিকে এই প্রথম রোনালয়। গত অগাস্টে মেসির পিতৃহীন হয়েছিলেন। তখনও আর্জেন্টাইন নক্ষত্রকে সমবেদনা জানিয়েছিলেন পর্তুগিজ জাদুকর।
মেসি বনাম রোনাল্ডো
আধুনিক যুগে ফুটবলকে সংজ্ঞায়িত করেছেন মেসি-রোনাল্ডো। তাঁদের প্রতিদ্বন্দ্বিতা নিয়ে আজীবন চর্চা হবে। ২০০৭ সালে যখন তাঁরা দু'জনেই কাকার সঙ্গে ব্যালন ডি'অর জয়ের লড়াইয়ে ছিলেন, তখন থেকেই এই প্রতিদ্বন্দ্বিতার সূচনা। এরপর টানা ১০ বছর ধরে ফিফার বর্ষসেরা খেলোয়াড় এবং ব্যালন ডি'অর পুরস্কার—সবকটিই এই দুয়ের মধ্যে ভাগাভাগি হয়েছে। রোনাল্ডো রিয়াল মাদ্রিদে যোগ দেওয়ার পর এই প্রতিদ্বন্দ্বিতা আরও তীব্র হয়ে ওঠে। স্পেনে মেসির বার্সেলোনার বিরুদ্ধে তাঁর লড়াই এবং প্রতিটি 'এল ক্লাসিকো' ম্যাচ ক্লাব ফুটবলের সবচেয়ে আকর্ষণীয় ও গুরুত্বপূর্ণ লড়াই হিসেবে বিবেচিত হতে থাকে। তীব্র প্রতিদ্বন্দ্বিতা সত্ত্বেও, মাঠ ও মাঠের বাইরে—উভয় জায়গাতেই তাঁরা একে অপরের প্রতি সর্বদা শ্রদ্ধাই দেখিয়েছেন। আন্তর্জাতিক অঙ্গনে তাঁরা দু'বার একে অপরের মুখোমুখি হয়েছেন এবং দুজনেই একটি করে জয় পেয়েছেন।
(দেশ, দুনিয়া, রাজ্য, কলকাতা, বিনোদন, খেলা, বিজনেস, লাইফস্টাইল, কেরিয়ার, ইউটিলিটির টাটকা খবর, আপডেট এবং ভিডিয়ো পেতে ডাউনলোড-লাইক-ফলো-সাবস্ক্রাইব করুন আমাদের Facebook, Whatsapp Channel, X (Twitter), Youtube, Instagram পেজ-চ্যানেল)