জি ২৪ ঘণ্টা ডিজিটাল ব্যুরো: গত জুলাই থেকেই কিন্তু ফের অশান্ত অরুণাচল প্রদেশে সীমান্ত এলাকা। তবে এই বিষয়ে কোনও আনুষ্ঠানিক বক্তব্য এই ক'মাসে আসেনি। এই প্রথম কথা বললেন ইন্দো-তিব্বত বর্ডার পুলিসের (আইটিবিপি) ডিরেক্টর জেনারেল শত্রুজিৎ কাপুর। সীমান্তে বেশ কয়েকটি জায়গায় চিনা সৈন্যদের সঙ্গে ‘ফেস-অফ’ (মুখোমুখি অবস্থান) অব্যাহত রয়েছে বলেই জানিয়ে দিলেন কেন্দ্রীয় সশস্ত্র পুলিস বাহিনীর সর্বোচ্চ কর্তা। গত ২২ অক্টোবর রাজস্থানের আলওয়ারের সেন্ট্রাল ট্রেনিং কলেজে আইটিবিপির বার্ষিক সংবর্ধনা অনুষ্ঠান হিমবীর সম্মান সমারোহ ছিল। সেখানে বক্তব্য রাখার সময় কাপুর বলেন, 'গত কয়েক দিন অরুণাচলের বেশ কয়েকটি জায়গায় মুখোমুখি পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছে এবং তা এখনও অব্যাহত রয়েছে।' উত্তর-পূর্ব সীমান্তে উত্তেজনা কতটা ছড়িয়ে পড়েছে তা কাপুরের কথায় স্পষ্ট। কারণ আইটিবিপি কমান্ডোরা সক্রিয় ভাবে যুক্ত রয়েছেন। কাপুর আরও বলেন যে, 'আমাদের নবগঠিত শৌর্য কমান্ডোরা এক্ষেত্রে দৃষ্টান্তমূলক ভূমিকা নিয়েছে'। আইটিবিপি মূলত একটি পার্বত্য গেরিলা বাহিনী হিসেবে গঠিত হয়েছিল এবং ২০০৪ সালে আমাদের চিন সীমান্তে পাহারার দায়িত্ব দেওয়া হয়।' তিনি আরও বলেন, বাহিনীর মূল ভূমিকা থেকে সরে আসার কোনও পরিকল্পনাই নেই বরং সেনার থেকে আলাদা এক বিশেষায়িত উচ্চ পার্বত্য যুদ্ধ ইউনিট গড়ে তোলা হচ্ছে। কাপুর জুড়েছেন, 'খুব শীঘ্রই আমাদের পূর্ণাঙ্গ শৌর্য কমান্ডো ব্যাটালিয়ন তৈরি হবে; উচ্চ পার্বত্য অঞ্চলে মোতায়েন থাকাই আমাদের শক্তির জায়গা।'
চিন সীমান্তের কাছে ভূগর্ভস্থ আশ্রয়কেন্দ্র
কাপুর অনুষ্ঠানে আরও জানিয়েছেন যে, আগামী তিন বছরের মধ্যে চিন সীমান্ত বরাবর ভূ-পৃষ্ঠের উপর থাকা আশ্রয়কেন্দ্রগুলির সমপরিমাণ ভূগর্ভস্থ আশ্রয়কেন্দ্র নির্মাণের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। তিনি বলেন, 'আধুনিক যুদ্ধপদ্ধতিতে ভূগর্ভস্থ আশ্রয়কেন্দ্র অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। ভূ-পৃষ্ঠের উপর থাকা যে কোনও কিছুই লক্ষ্যবস্তুতে পরিণত হতে পারে। তাই সরাসরি সংঘাতের পরিস্থিতিতে ভূগর্ভস্থ আশ্রয়কেন্দ্রগুলোকেই অগ্রাধিকার দেওয়া হয়।' আইটিবিপি-র প্রতিটি ইউনিটে বর্তমানে পরীক্ষামূলক প্রকল্প চলছে, যার লক্ষ্যই হল এমন স্থায়ী প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা গড়ে তোলা—যা আরামদায়ক হবে এবং যেখানে পর্যাপ্ত শৌচাগার, বায়ু চলাচল ও নিষ্কাশন ব্যবস্থা থাকবে। নকশা চূড়ান্ত হওয়ার পর, তিন বছরের মধ্যে প্রতিটি সীমান্ত চৌকিতে ভূ-পৃষ্ঠের উপর ও নীচে সমান সংখ্যক কাঠামো নির্মাণ করা হবে।
টাকসিংয়ের কাছে চীনা তাঁবু?
সরকারি সূত্রকে উদ্ধৃত করে এক সর্বভারতীয় দৈনিক জানিয়েছে যে, জুলাইয়ের শেষ দিক থেকে টাকসিংয়ের কাছে আসাফিলা এলাকায় ভারত ও চিন মুখোমুখি অবস্থানে (স্ট্যান্ড-অফ) রয়েছে। পিপলস লিবারেশন আর্মি (পিএলএ) 'লাইন অফ অ্যাকচুয়াল কন্ট্রোল’ (এলএসি) থেকে ৬-৭ কিলোমিটারের মধ্যে তাঁবু তৈরি করেছে। এটি আপার সুবানসিরি জেলার টাকসিং সার্কেলে অবস্থিত মাজা কোম্পানি অপারেটিং বেসের কাছাকাছি। জুলাই মাসে নিয়মিত টহলের সময় মাজার কাছে ভারত ও চিনা সেনারা মুখোমুখি হয়েছিল। ছোট্ট উত্তেজনার পর উভয় পক্ষই কিছুটা পিছিয়ে যায়, কিন্তু কয়েক দিন পর পিএলএ আরও বড় সংখ্যায় ফিরে আসে এবং সেখানে তাঁবু তৈরি করে। এরপর ভারতও ওই এলাকায় নিজেদের সৈন্য মোতায়েন বাড়িয়েছে। কূটনৈতিক তৎপরতা চলা সত্ত্বেও এই মুখোমুখি অবস্থান অব্যাহত।
দুই দেশের মধ্যে আলোচনা
গত ১১ থেকে ১৩ সেপ্টেম্বর ভারতে আয়োজিত ১৮তম ব্রিকস শীর্ষ সম্মেলনে চিনের প্রেসিডেন্ট শি জিনপিং অংশ নিয়েছিলেন। এছাড়া জুলাই মাস থেকে দুই দেশের মধ্যে সীমান্তে উচ্চপর্যায়ের তিনটি বৈঠক হয়েছে। ৬ অগাস্ট ৩৬তম ডব্লিউএমসিসি বৈঠক হয়। এরপর গত ২৬ অগাস্ট বেজিংয়ে বিশেষ প্রতিনিধিদের ২৫তম দফার আলোচনা (যেখানে ভারতের প্রতিনিধিত্ব করেন জাতীয় নিরাপত্তা উপদেষ্টা অজিত দোভাল) হয় এবং গত ৬ সেপ্টেম্বর অরুণাচল প্রদেশের ভাচা-দামাই বর্ডার পার্সোনেল মিটিং পয়েন্টে প্রথমবারের মতো কোর কমান্ডার পর্যায়ের বৈঠক। উল্লেখ্য ২০২০ সালের জুন মাসে গালওয়ান সংঘাতের পর থেকে এ ধরনের বৈঠকগুলো মূলত পূর্ব লাদাখের চুশুল-মোল্ডোতেই অনুষ্ঠিত হয়ে আসছিল।
(দেশ, দুনিয়া, রাজ্য, কলকাতা, বিনোদন, খেলা, বিজনেস, লাইফস্টাইল, কেরিয়ার, ইউটিলিটির টাটকা খবর, আপডেট এবং ভিডিয়ো পেতে ডাউনলোড-লাইক-ফলো-সাবস্ক্রাইব করুন আমাদের Facebook, Whatsapp Channel, X, Youtube, Instagram পেজ-চ্যানেল)