জি ২৪ ঘণ্টা ডিজিটাল ব্যুরো: চ্যালেঞ্জ যতই কঠিন হোক না কেন, সংকল্প কঠিন হলে জয় নিশ্চিত। এটাই করে দেখিয়েছিলেন প্রভু রাম। দিল্লিতে দশেরার অনুষ্ঠানে এমনটাই বললেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী। পাশাপাশি প্রধানমন্ত্রী বলেন, রামরাজ্য মানে এমন শাসন যেখানে কারও প্রতি অবিচার করা হয় না। শাসন সেখানে মুখ্য নয়, জনকল্যানই একমাত্র লক্ষ্য।
দশেরার রাবণ দহন পর্বে প্রধানমন্ত্রী তাঁর বক্তব্যে বলেন, দেশবাসীকে বিজয়া দশমীর শুভেচ্ছো। গোটা দেশ আজ'রামময়'। গ্রাম শহর রামলীলার রসে ডুবে রয়েছে। অত্য়াচার ও আতঙ্কের শেষ, অসত্যের উপরে সত্যের জয়। এই উত্সব শুধু উত্সব নয়, এটা দেশের প্রাণের প্রাণশক্তি। দেশের প্রতিটি মানুষ অধর্মের উপরে ধর্মের জয়ের উদযাপন করছে। রাবণের নিধন করেছিলেন রামচন্দ্রজি। শুধু এইজন্যই মানুষ রামের পুজো করেন না। বরং মানুষের আস্থা এইজন্য যে প্রভু রাম এমন আদর্শ দিয়েছেন যা মানবতার ইতিহাসে অতুলনীয়। প্রভু রাম জীবনে বহু চ্যালেঞ্জের সম্মুখীন হয়েছিলেন কিন্তু সত্যের পথ থেকে সরে আসেননি। উনি প্রতিটি সংকট সহ্য করেও ধর্মের পালন করেছিলেন। যখন রামজি জঙ্গলে গিয়েছিলেন তখন নিষাদরাজকে আপন করে নেন। দয়া করুণা প্রেমের মানদণ্ড স্থাপন করেছিলেন। অযোধ্যায় যখন রামরাজ্য প্রতিষ্ঠা করেছিলেন তা আজও তাকে সুশাসনের মানদণ্ড বলে মনে করা হয়। রামরাজ্য মানে এমন শাসন যেখানে কারও প্রতি অবিচার করা হয় না। যেখানে ন্যায় পান, সমান সুযোগ পান সবাই। যেখানে রাজ্যত্ব করার উদ্দেশ শাসন করা নয় ববং জনকল্যাই একমাত্র লক্ষ্য। এটাই মর্যাদা পুরোষোত্তম প্রভু রামের উদ্দেশ্য। এইজনই আমাদেরকে নাগরিক দেব ভব মন্ত্র সামনে রেখে এগিয়ে চলতে হবে।
প্রধানমন্ত্রী বলেন, প্রভু রাম শিখিয়েছেন চ্যালেঞ্জ যতই শক্তিশালী হোক না কেন আমাদের নিজেদের সামর্থকে চিনতে হবে। সংকল্পকে শক্তিতে রূপান্তরিত করতে হবে। পরিশ্রম করে সমাধান বের করতে হবে। প্রভু রাম শিখিয়েছেন রাস্তা যতই কঠিন হোক না কেন আমাদের যাত্রাকে তা রুখতে পারে না। সমুদ্র সামনে, লঙ্কা অনেক দূরে কিন্তু সংকল্প কঠিন ছিল। তাই রামজি সাধাররণ মানুষের সংকল্পকে জাগিয়ে তোলেন। অসম্ভবকে সম্ভব করে তোলেন। নিজের শক্তির উপরে বিশ্বাস করাই সাফল্যের মূল মন্ত্র। এখন আমাদের সেই মন্ত্রকে নিয়ে এগিয়ে চলতে হবে।
প্রধানমন্ত্রী আরও বলেন, আমাদের সামনে বিকশিত ভারত, আত্মনির্ভার ভারত। আমাদের জনশক্তির সাহায্য মানুষের সব আকাঙ্খাকে পূর্ণ করতে হবে। একটি রাষ্ট্র তখনই প্রগতি করে তখন তার আত্মসম্মান থাকে। এর পেছন বড় ভূমিকা রয়েছে তার পরম্পরায়। যুগ যুগ ধরে আমাদের দেশের সম্পদ লুট করে বিদেশে নিয়ে যাওয়া হয়েছে। কিন্তু আজ আমরা সেই সম্পদে দেশে ফিরিয়ে আনছি। গত ১২ বছরে ৬৫০ এর বেশি প্রাচীন মূর্তিকে ভারতে ফিরিয়ে আনা হয়েছে। এভাবেই ভারত নিজেরে সাংস্কৃতিক কেন্দ্রকে নতুন রূপ দিচ্ছে। আমাদের দেশের বহু জায়গাকে ইউনেস্কেকো ওয়ার্ল্ড হেরিটেজ বলে মান্যতা দিয়েছে। বিজয়া দশমী জয়ের উত্সব। এই পর্ব আমাদের সাহস দেয়। এই পরব আমাদের শেখায় শত্রু যথই শক্তিশালী হোক যদি সত্যের পথে থাকা যায় তাহলে শেষপর্যন্ত জয় আমাদেরই হয়। দেশের শত্রুদের বিরুদ্ধে লড়তে হবে। দেশের সম্মান নষ্ঠকারী শক্তি, আমাদের সংস্কৃতি নষ্ট করার মানসিকতা আমাদের দেশের শত্রু। দেশের শত্রুকে চিনতে হবে, তাদের পরাস্ত করতে হবে। সংকল্প করতে হবে, রাষ্ট্রই প্রথম। সবাইকে একসঙ্গে আসতে হবে।
(দেশ, দুনিয়া, রাজ্য, কলকাতা, বিনোদন, খেলা, বিজনেস, লাইফস্টাইল, কেরিয়ার, ইউটিলিটির টাটকা খবর, আপডেট এবং ভিডিয়ো পেতে ডাউনলোড-লাইক-ফলো-সাবস্ক্রাইব করুন আমাদের Facebook, Whatsapp Channel, X (Twitter), Youtube, Instagram পেজ-চ্যানেল)