জি ২৪ ঘণ্টা ডিজিটাল ব্যুরো: ভারতের অন্যতম প্রাচীন এবং পবিত্রতম শহর বারাণসী। বিশ্ব জুড়ে সমাদৃত এই আধ্যাত্মিক পীঠস্থানে তৈরি রাজসূয় যজ্ঞের জন্য। দেশের বায়ুসেনা ৯৪তম বর্ষপূর্তিতে বিরাট এয়ার শোয়ের জন্য় বেছে নিয়েছে মোক্ষলাভের দ্বার। ২২, ২৪ ও ২৫ অক্টোবর হবে ১০০ এয়ারক্রাফ্টের (৫২ যুদ্ধবিমান ও ১৫ পরিবহণ বিমান-সহ) 'উইংস ওভার গঙ্গা' এয়ার শো। মনে করা হচ্ছে ১৫ থেকে ২০ লাখ দর্শক সমাগম হবে। স্থানীয় বিজেপি নেতা ও কর্মকর্তাদের তথ্য অনুযায়ী, ২৫ অক্টোবর নমো ঘাটে সমাপনী অনুষ্ঠান রয়েছে। সেদিন দেশের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী, প্রতিরক্ষামন্ত্রী রাজনাথ সিং, উত্তরপ্রদেশের রাজ্যপাল আনন্দিবেন প্যাটেল, মুখ্যমন্ত্রী যোগী আদিত্যনাথ এবং অন্যান্য ভিভিআইপিদের উপস্থিত থাকার কথা রয়েছে। এই এয়ার শোয়ে বায়ুসেনার কার্যক্ষমতা, প্রযুক্তিগত শক্তি এবং আকাশপথে যুদ্ধের দক্ষতা দেখানো হবে। রাফাল, সুখোই-৩০এমকেআই, মিগ-২৯, মিরাজ ২০০০, জাগুয়ার এবং দেশীয় প্রযুক্তিতে তৈরি হালকা যুদ্ধবিমানের মতো বিমানগুলির অংশ নেওয়ার কথা রয়েছে। বিপুল সংখ্যক দর্শকের সমাগমের সম্ভাবনা থাকায় উত্তর প্রদেশ সরকার নিরাপত্তা, যান চলাচল ব্যবস্থাপনা, জরুরি চিকিৎসা সেবা এবং ভিড় নিয়ন্ত্রণের জন্য ব্যাপক প্রস্তুতি নিয়েছে।
এখানে কিছু গুরুত্বপূর্ণ তথ্য দেওয়া হল:
বারাণসীর পুলিস কমিশনার মোহিত আগরওয়াল জানিয়েছেন যে, এই অনুষ্ঠানের জন্য ৭৯টি অস্থায়ী থানা তৈরি করা হয়েছে এবং ১১৯০০ পুলিসকে মোতায়েন করা হয়েছে।
প্রাদেশিক সশস্ত্র কনস্ট্যাবুলারি, জাতীয় দুর্যোগ মোকাবিলা বাহিনী, রাজ্য দুর্যোগ মোকাবিলা বাহিনী, বোম্ব ডিসপোজাল স্কোয়াড (বোমা নিষ্ক্রিয়কারী দল) এবং সন্ত্রাসবিরোধী স্কোয়াডের সদস্যরাও দায়িত্বে থাকবেন।
ট্রাফিক ব্যবস্থাপনার জন্য চারটি পরিকল্পনা তৈরি করা হয়েছে, যার মধ্যে অভ্যন্তরীণ ও বাহ্যিক যান চলাচলের জন্য আলাদা ডাইভারশন (পথ পরিবর্তন), ব্যারিকেড এবং বিকল্প পথের ব্যবস্থা রাখা হয়েছে।
বারাণসীর ভিতর থেকে আসা দর্শকদের গঙ্গার শহরের দিকের নির্ধারিত পার্কিং এলাকায় যেতে বলা হবে।
অন্যান্য জেলা থেকে আসা ব্যক্তিদের রামনাগর-পডাব এলাকায় পার্কিং এবং অ্যাকসেস পয়েন্টগুলির দিকে নির্দেশ দেওয়া হবে।
ঘাটগুলিকে বিভিন্ন জোনে ভাগ করা হয়েছে, যেখানে এন্ট্রি ও এক্সিটের আলাদা পথ রাখা হয়েছে।
ডুমারি থেকে সতী ঘাট এবং আদি কেশব থেকে দশাশ্বমেধ ঘাটের মধ্যবর্তী প্রায় ৫.৫ কিলোমিটার দীর্ঘ এলাকা জুড়ে দ্বিগুণ ব্যারিকেড বসানো হয়েছে।
এছাড়াও সিসিটিভি ক্যামেরা, ২৫টি ওয়াচ টাওয়ার, মেটাল ডিটেক্টর এবং পাবলিক অ্যাড্রেস সিস্টেমের (ঘোষণা করার ব্যবস্থা) ব্যবস্থা করা হয়েছে।
নদীতে নিরাপত্তা কর্মীরা মোতায়েন থাকবেন; পাশাপাশি অ্যান্টি-ড্রোন সিস্টেম, সব ধরনের ভূখণ্ডে চলতে সক্ষম যানবাহন (অল-টেরেইন ভেহিকল) এবং সাইবার নিরাপত্তা দল সতর্ক অবস্থায় থাকবে।
এয়ার শো চলাকালীন সকাল ৮টা থেকে বিকেল ৫টা পর্যন্ত গঙ্গায় ব্যক্তিগত নৌকা চলাচল নিষিদ্ধ থাকবে।
ঘাটগুলির উভয় পাশে ৫ কিলোমিটার ব্যাসার্ধের মধ্যে অননুমোদিত ড্রোন ওড়ানোও নিষিদ্ধ করা হয়েছে।
পরিকল্পনায় রয়েছে গ্রিন করিডোর
চিফ মেডিকেল অফিসার এন পি সিং জানিয়েছেন যে, যান চলাচলের উপর বিধিনিষেধের মধ্যে রোগীদের জরুরি পরিবহনের সুবিধার্থে তিনটি গ্রিন করিডোর তৈরির পরিকল্পনা হয়েছে। এছাড়া আটটি অস্থায়ী হাসপাতাল এবং দুটি ওয়াটার-অ্যাম্বুলেন্স-সহ মোট ১০০টি অ্যাম্বুলেন্স প্রস্তুত রাখা হবে। তিনি জানান, জরুরি চিকিৎসার জন্য স্যার সুন্দরলাল হাসপাতাল এবং বিএইচইউ ট্রমা সেন্টার-সহ বড় হাসপাতালগুলিকে চিহ্নিত করা হয়েছে। উদ্ধার অভিযানের জন্য এনডিআরএফ, এসডিআরএফ, পিএসি-র বন্যা ত্রাণ কর্মী, জল-পুলিশ এবং স্থানীয় ডুবুরিদের মোতায়েন করা হবে। কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, পার্কিং এলাকা ও জনসমাগমপূর্ণ স্থানগুলোতে পানীয় জল, শৌচাগার এবং অন্যান্য নাগরিক সুবিধার ব্যবস্থা রাখা হবে।
(দেশ, দুনিয়া, রাজ্য, কলকাতা, বিনোদন, খেলা, বিজনেস, লাইফস্টাইল, কেরিয়ার, ইউটিলিটির টাটকা খবর, আপডেট এবং ভিডিয়ো পেতে ডাউনলোড-লাইক-ফলো-সাবস্ক্রাইব করুন আমাদের Facebook, Whatsapp Channel, X (Twitter), Youtube, Instagram পেজ-চ্যানেল)