দেবভূমিতে মহাবিপদ! যোজনব্যাপী বিশাল বরফস্তূপের নীচে তলিয়ে যাবে বদ্রীর মন্দির-সহ উত্তরাখণ্ডের বিস্তীর্ণ এলাকা?
Badrinath Avalanche Risk: বিশাল বরফস্তূপের নীচে তলিয়ে যাবে বদ্রীর মন্দির-সহ উত্তরাখণ্ডের বিস্তীর্ণ এলাকা? দেবভূমিতে কবে এ মহা বিপদ? সাম্প্রতিক এক গবেষণায় দেখা গিয়েছে, বরফের ধস কতটা দূর পর্যন্ত নেমে আসবে, তা মূলত নির্ভর করে কতটা বরফ ভাঙছে এবং পাহাড়ের ঢাল কতটা খাড়া-- এ সবের উপর। বরফের পরিমাণ বেশি হলে এবং পাহাড়ের ঢাল বেশি খাড়া হলে ধসের গতি ও বিস্তৃতি বাড়ে। বাড়ে ক্ষতির পরিমাণও।
জি ২৪ ঘণ্টা ডিজিটাল ব্যুরো: মাথার উপর ঝুলছে খাড়া! মহা বিপদের খাড়া! অচিরেই মৃত্যু তাতে। এই খাড়া বরফের। বদ্রীনারায়ণ মন্দিরের মাথার উপর ঝুলছে তিন-তিনটে হিমবাহ! এরা যে কোনও সময়ে গলে ধসে নীচে নেমে আসবে। আর তখনই ঘটে যাবে প্রলয়! উত্তরাখণ্ডের চামোলি জেলায় কপালে যে কোনও ঘটতে পারে এই বিপর্যয়! লহমায় ধ্বংস হয়ে যাবে প্রায় ৪০০ বাড়ি, হেলিপ্যাড, পার্কিং এরিয়া, রাস্তাঘাট সব! এক আন্তর্জাতিক সমীক্ষায় বেরিয়ে এসেছে এই তথ্য। শুধু তাই নয়, আসন্ন এই হিমবাহ-প্রলয়ে নষ্ট হবে ওই এলাকার বনাঞ্চল, তৃণভূমি, কৃষিজমিও।
দেবভূমিতে মহা বিপদ
উত্তরাখণ্ডের বদ্রীনারায়ণ মন্দির ভক্তদের কাছে খুবই শ্রদ্ধেয় এক তীর্থস্থান। এহেন বদ্রীনাথকে ঘিরে তৈরি হয়েছে চরম উদ্বেগ। কিন্তু সম্প্রতি জানা গিয়েছে, হিমালয়ের পাহাড়ে ঝুলে থাকা হিমবাহ থেকে যে কোনও সময়ে বড় মাপের বিপদ নেমে আসতে বদ্রী মন্দিরের মাথায়। সেখানে ঘটে যেতে পারে ভয়াবহ অ্যাভালাঞ্চ। আর এই বরফধসে ভয়ংকর বিপদের মুখে পড়তে পারে বদ্রীনাথ শহরের কয়েকশো বাড়ি এবং একাধিক গুরুত্বপূর্ণ পরিকাঠামো। একটি বৈজ্ঞানিক গবেষণায় এই সতর্কবার্তা দিয়ে আগেভাগেই এ বিষয়ে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ করার পরামর্শ দিয়েছেন সংশ্লিষ্ট গবেষকরেরা।
'ভালনারেবিলিটি অ্যাসেসমেন্ট অফ হ্যাংগিং-গ্লেসিয়ার অ্যাভালাঞ্চেস'
বদ্রীনাথে তুষারধস নিয়ে করা সাম্প্রতিক ওই গবেষণার নাম-- 'ভালনারেবিলিটি অ্যাসেসমেন্ট অফ হ্যাংগিং-গ্লেসিয়ার অ্যাভালাঞ্চেস ইন বদ্রীনাথ টাউনশিপ, সেন্ট্রাল হিমালয়াজ, ইন্ডিয়া' (Vulnerability Assessment of Hanging-Glacier Avalanches in Badrinath Township, Central Himalayas, India)। সেখানেই এই সব তথ্য উঠে এসেছে। মূলত বদ্রীনাথ শহরের আশপাশে থাকা তিনটি ঝুলন্ত হিমবাহকে কেন্দ্র করে এই গবেষণা করা হয়েছে। উপগ্রহচিত্র থেকে পাওয়া তথ্য এবং অন্য় বিভিন্ন বৈজ্ঞানিক প্রক্রিয়া ব্যবহার করে গবেষকরা বোঝার চেষ্টা করেছেন, ঠিক কোন জায়গা থেকে বরফের চাঁই ভেঙে নীচে নেমে আসতে পারে।
ধসের মডেল
গবেষণায় দেখার চেষ্টা করা হয়েছে, বরফধস কত দূর পর্যন্ত নেমে আসতে পারে। তবে গবেষকেরা মনে করিয়ে দিয়েছেন যে, তা অবশ্য মূলত নির্ভর করে, কতটা বরফ ভাঙছে, যেখানে ঘটনাটা ঘটছে সেখানে পাহাড়ের ঢাল কতটা খাড়া এবং যেখানে গিয়ে ধসের অংশ পড়বে নীচের সেই জমির ভূমিরূপ ও তার গঠন কেমন-- এসবের উপর। বরফের পরিমাণ বেশি হলে, পাহাড়ের ঢাল বেশি খাড়া হলে ধসের গতি-বিস্তৃতি স্বভাবতই বাড়বে।
ধ্বংসের হিসাব
বদ্রীনাথের কোন এলাকায় বিপদের আশঙ্কা সবচেয়ে বেশি? গবেষণায় চিহ্নিত তিনটি জায়গার মধ্যে সাইট-টু (Site 2)-কে সবচেয়ে ঝুঁকিপূর্ণ বলে মনে করেছেন গবেষকরা। বরফধসের গতিশীলতা এখানে বেশি হলে এর প্রভাব পড়তে পারে প্রায় ৩৯৮টি বাড়ির উপর। শুধু বাড়িই নয়, ক্ষতি হতে পারে ২.৬৬ কিলোমিটার রাস্তা ও পরিবহণ পরিকাঠামোর-ও। এ ছাড়াও বিপদের মুখে আছে ৩.৮৭ হেক্টর কৃষিজমি, ১৫.৫৭ হেক্টর বনভূমি।
বিজ্ঞানীদের পরামর্শ
বদ্রীনাথ এ দেশের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ তীর্থস্থান। বৈষ্ণবদের কাছে তা মহাতীর্থস্থান। প্রতি বছর বহু ভক্ত পুণ্যার্থী ও পর্যটক এখানে যান। বরফধসের মতো কোনও প্রাকৃতিক বিপর্যয় কীভাবে মোকাবিলা করা যাবে? বিজ্ঞানীরা বলছেন, এর আগাম প্রস্তুতি জরুরি। ঝুঁকিপূর্ণ এলাকার জন্য বিস্তারিত সমীক্ষার পরামর্শ তাঁদের। সংশ্লিষ্ট নিরাপত্তাব্যবস্থাও জোরদার করা জরুরি বলে পরামর্শ দিচ্ছেন বিজ্ঞানীরা। বলছেন, নির্মাণকাজের উপর নিয়ন্ত্রণ এবং স্থানীয় বাসিন্দাদের মধ্যে এ বিষয়ে সচেতনতা বাড়ানোটাও গুরুত্বপূর্ণ।
(দেশ, দুনিয়া, রাজ্য, কলকাতা, বিনোদন, খেলা, বিজনেস, লাইফস্টাইল, কেরিয়ার, ইউটিলিটির টাটকা খবর, আপডেট এবং ভিডিয়ো পেতে ডাউনলোড-লাইক-ফলো-সাবস্ক্রাইব করুন আমাদের Facebook, Whatsapp Channel, X, Youtube, Instagram পেজ-চ্যানেল)