জি ২৪ ঘণ্টা ডিজিটাল ব্যুরো: ভারতীয় মধ্যবিত্ত ও বিনিয়োগকারীদের চোখে সোনা শুধু অলঙ্কার নয়, আর্থিক নিরাপত্তার সেরা অস্ত্র। ধনতেরাসে হুড়মুড়িয়ে কমেছে সোনার দাম। ৯৯৫ বিশুদ্ধতার ফাইন গোল্ডের দাম গ্রামপ্রতি ১৪,০৮৭ টাকা। ৫ নভেম্বর এই দাম ছিল ১৪,৪৩৭ টাকা। অর্থাৎ একদিনে গ্রামপ্রতি কমেছে ৩৫০ টাকা। ২২ ক্যারেট বা ৯১৬ বিশুদ্ধতার সোনার বিক্রির দাম এখন গ্রামপ্রতি ১৩,৩৮০ টাকা। আগের দিন এই দাম ছিল ১৩,৭১৫ টাকা। অর্থাৎ গ্রামপ্রতি ৩৩৫ টাকা কমেছে। অন্যদিকে, ২২ ক্যারেট সোনার কেনার দামও কমে হয়েছে গ্রামপ্রতি ১২,৮১৯ টাকা। বৃহস্পতিবার এই দাম ছিল ১৩,১৩৭ টাকা। অর্থাৎ গ্রামপ্রতি ৩১৮ টাকা কমেছে। ১৮ ক্যারেট বা ৭৫০ বিশুদ্ধতার সোনার দামও কমেছে। ৫ নভেম্বর যেখানে গ্রামপ্রতি দাম ছিল ১১,২৬০ টাকা, সেখানে ৬ নভেম্বর তা কমে হয়েছে ১০,৯৮৫ টাকা। অর্থাৎ গ্রামপ্রতি ২৭৫ টাকা সস্তা হয়েছে ১৮ ক্যারেট সোনা। কিন্তু সম্প্রতি বাজার বিশ্লেষকদের পূর্বাভাসে শোরগোল পড়েছে-- দিওয়ালি ২০২৭-এর মধ্যে মাল্টি কমোডিটি এক্সচেঞ্জে (MCX) ১০ গ্রাম সোনার দর নাকি পৌঁছতে পারে ১.৭৫ লক্ষ টাকায়। এই পূর্বাভাস সামনে আসতেই লগ্নিকারীদের মনে প্রশ্ন, বর্তমান দরে কি সোনা কেনা বুদ্ধিমানের কাজ হবে, নাকি এ শুধুই বাজারের জল্পনা?
অঙ্কটা ঠিক কোথায় দাঁড়িয়ে?
আন্তর্জাতিক ব্রোকারেজ হাউস ও পণ্য বিশ্লেষকদের মতে, বিশ্ব অর্থনীতি এক গভীর পরিবর্তনের মধ্য দিয়ে যাচ্ছে। যখনই বিশ্বজুড়ে মুদ্রা অবমূল্যায়ন (Currency Depreciation) বা অস্থিরতা বাড়ে, তখনই কেন্দ্রীয় ব্যাংকগুলো মার্কিন ডলারের উপর নির্ভরতা কমিয়ে সোনা মজুত (Gold Reserve) করতে শুরু করে। যদি বার্ষিক চক্রবৃদ্ধি হারে (CAGR) সোনার দর ১৫ থেকে ২০ শতাংশ হারে বৃদ্ধি পেতে থাকে, তবে ২০২৭ সাল নাগাদ ১০ গ্রাম সোনার দাম দেড় থেকে পৌনে দুই লক্ষ টাকা ছোঁয়া অসম্ভব কিছু নয়।
সোনার দাম রকেটের গতিতে বাড়ার প্রধান চালিকাশক্তি কোনগুলি?
বিশ্লেষকরা এই নজিরবিহীন উত্থানের নেপথ্যে মূলত চারটি কারণ তুলে ধরছেন:
ভূ-রাজনৈতিক অস্থিরতা (Geopolitical Tensions): মধ্যপ্রাচ্য থেকে শুরু করে পূর্ব ইউরোপ-- যুদ্ধ পরিস্থিতি এবং বিশ্ব কূটনৈতিক টানাপোড়েন বিনিয়োগকারীদের ‘সেফ-হ্যাভেন’ (Safe-haven Asset) হিসেবে সোনার দিকে টানছে।
মার্কিন ফেডের সুদের হার হ্রাস (US Fed Rate Cuts): মার্কিন কেন্দ্রীয় ব্যাঙ্ক যখন সুদের হার কমায়, তখন বন্ড বা ডলারে বিনিয়োগের আকর্ষণ কমে যায়। ফলে বিকল্প হিসেবে সোনা ও রুপোয় মূলধন স্থানান্তরিত হয়।
সেন্ট্রাল ব্যাংকের সোনার ক্ষুধা (Central Bank Buying): আরবিআই (RBI)-সহ বিশ্বের অধিকাংশ কেন্দ্রীয় ব্যাংক লাগাতার টন টন সোনা কিনে নিজেদের রিজার্ভ শক্তিশালী করছে।
মুদ্রাস্ফীতি ও রুপির মূল্যহ্রাস (Rupee Depreciation vs USD): আন্তর্জাতিক বাজারে দাম বাড়ার পাশাপাশি ডলারের নিরিখে ভারতীয় টাকার পতন ঘটলে অভ্যন্তরীণ বাজারে (Domestic Market) সোনা আরও ব্যয়বহুল হয়ে ওঠে।
তবে কি ১.৭৫ লাখ একদম নিশ্চিত? বাজারের উল্টো পিঠ
সব পূর্বাভাসের পেছনেই একটি সতর্কতা থাকে। বাজার কখনো সোজা রেখায় চলে না। বিশেষজ্ঞরা মনে করিয়ে দিচ্ছেন:
সাধারণ ক্রেতা ও বিনিয়োগকারীদের করণীয়
এখনই একসঙ্গে সব টাকা একবারে না লাগিয়ে ধাপে ধাপে বিনিয়োগ (Systematic Investment / SIP) করাই শ্রেয়। গোল্ড ইটিএফ (Gold ETF) বা সোভারেন গোল্ড বন্ডের মতো বিকল্পে প্রতিটা বাজার সংশোধনে (Dips) অল্প অল্প করে সঞ্চয় বাড়ালে দীর্ঘমেয়াদে ঝুঁকি এড়িয়ে সুফল পাওয়া সম্ভব। ১.৭৫ লক্ষের লক্ষ্য বাস্তব হোক বা না হোক, মুদ্রাস্ফীতির বিরুদ্ধে সুরক্ষাকবচ হিসেবে পোর্টফোলিওতে ১০-১৫% সোনা রাখা বরাবরই কার্যকর।
(দেশ, দুনিয়া, রাজ্য, কলকাতা, বিনোদন, খেলা, বিজনেস, লাইফস্টাইল, কেরিয়ার, ইউটিলিটির টাটকা খবর, আপডেট এবং ভিডিয়ো পেতে ডাউনলোড-লাইক-ফলো-সাবস্ক্রাইব করুন আমাদের Facebook, Whatsapp Channel, X, Youtube, Instagram পেজ-চ্যানেল)