ট্রাম্পের ভয়াবহ বিপর্যয়ের পরই টালমাটাল বাজারে ডুবে গেল সোনা: রেকর্ড দাম কমায় মালামাল মধ্যবিত্তের, একলক্ষের নিচে নামার আতঙ্কে বাজার
Gold Price Fall: রেকর্ড শিখর থেকে ২২% পর্যন্ত কমল সোনার দাম। মার্কিন মধ্যবর্তী নির্বাচনে ট্রাম্প শিবিরের ধাক্কা এবং উৎসবের মুখে ভারতীয় বাজারে ১০ গ্রাম সোনার দর কত সস্তা হলো? জানুন কেনার সঠিক সময়।
উৎসবের মরসুম ও ধনতেরাসের ঠিক মুখে হলুদ ধাতুর বাজারে বড় ওলটপালট। আন্তর্জাতিক বাজারের অস্থিরতা এবং মার্কিন মধ্যবর্তী নির্বাচনের ফলাফলের (US Midterm Election Results) প্রভাব সরাসরি এসে পড়েছে সোনা ও রুপোর দামে। নিজেদের সর্বকালীন রেকর্ড উচ্চতা বা পিক (Peak) থেকে সোনার দর প্রায় ২২ শতাংশ পর্যন্ত পতন (Correction) হয়েছে। কিন্তু সাধারণ ক্রেতা ও লগ্নিকারীদের মনে এখন একটাই প্রশ্ন-- টাকার অঙ্কে সোনা ঠিক কতটা সস্তা হল এবং বর্তমান পরিস্থিতিতে সোনা কেনা কি লাভজনক?
আসুন পুরো বিষয়টি সহজ-সরল আর্থিক সমীকরণে বুঝে নেওয়া যাক।
টাকার হিসেবে সোনার দাম কতটা কমল?
বাজারের সাম্প্রতিক পরিসংখ্যান বলছে, আগে যেখানে আন্তর্জাতিক বাজারে বুলিয়ন রেকর্ড উচ্চতায় পৌঁছেছিল, সেখান থেকে ২২% দরপতনের ফলে ভারতীয় বাজারেও বড় ধরণের প্রভাব পড়েছে।
রেকর্ড দর বনাম বর্তমান দর:
উৎসবের আগে ভারতের মাল্টি কমোডিটি এক্সচেঞ্জে (MCX) প্রতি ১০ গ্রাম সোনার দর রেকর্ড স্তর থেকে সংশোধন হয়ে দাঁড়িয়েছে প্রায় ১,৩৮,৪০০ থেকে ১,৪২,৫০০ টাকার স্তরে।
টাকার হিসেবে কতটা সস্তা? হিসেব অনুযায়ী, সর্বোচ্চ চূড়া বা পিক লেভেল (যা প্রায় ১,৭৫,০০০ থেকে ১,৮০,০০০ টাকার উচ্চতায় ছিল) থেকে ২২% কমে যাওয়ার অর্থ হল প্রতি ১০ গ্রাম সোনায় সরাসরি প্রায় ৩৫,০০০ থেকে ৪০,০০০ টাকা পর্যন্ত পতন ঘটেছে।
আন্তর্জাতিক বাজারে স্পট গোল্ড (Spot Gold) তার শীর্ষস্তর থেকে নেমে বর্তমানে প্রতি আউন্স প্রায় ৪,০১৬ ডলার স্তরের আশেপাশে লেনদেন হচ্ছে।
কেন এই আকস্মিক পতন ও ওঠানামা?
সোনার এই তীব্র ওঠানামার পেছনে প্রধানত দুটি কারণ কাজ করছে:
মার্কিন নির্বাচনের প্রভাব (US Midterm Impact):
মার্কিন মধ্যবর্তী নির্বাচনে ডোনাল্ড ট্রাম্পের রিপাবলিকান শিবিরের প্রত্যাশিত ফলাফল না হওয়া এবং ডেমোক্র্যাটদের প্রাথমিক শক্তিবৃদ্ধি মার্কিন ডলার সূচকে (US Dollar Index) ঝাঁকুনি দিয়েছে। রাজনৈতিক অনিশ্চয়তা এবং সরকারের ব্যয় নিয়ন্ত্রণ সংক্রান্ত আশঙ্কায় লগ্নিকারীরা প্রফিট বুকিং (Profit Booking) শুরু করায় সোনা তার সর্বকালীন উচ্চতা থেকে দ্রুত নেমে আসে।
সুদের হার ও মুদ্রাস্ফীতির দোলাচল:
মার্কিন কেন্দ্রীয় ব্যাঙ্ক ‘ইউএস ফেডারেল রিজার্ভ’ (Federal Reserve)-এর সুদের হার নীতি এবং বন্ড ইল্ডের (Bond Yields) ওঠানামা অ-উৎপাদনশীল সম্পদ হিসেবে সোনার ওপর সাময়িক চাপ তৈরি করেছিল।
বাজারে কি আবার ঘুরে দাঁড়ানোর ইঙ্গিত?
২২ শতাংশ পতনের পর বাজার কিন্তু সম্পূর্ণ ভেঙে পড়েনি। বরং নিম্নস্তর থেকে সোনা প্রায় ২% থেকে ২.২% রিকভারি বা উত্থান দেখিয়েছে। ডলার সাময়িক দুর্বল হওয়ায় আন্তর্জাতিক লগ্নিকারীরা আবারও নিরাপদ আশ্রয় হিসেবে সোনায় ফিরছেন।
ভারতে ধনতেরাস ও আসন্ন বিয়ের মরশুমের কারণে অভ্যন্তরীণ বাজারে গহনার কেনাকাটা এবং উৎসবের চাহিদা (Festive and Wedding Demand) দাম বাড়ার চেষ্টা চলছে (Support Level)।
বাজার বিশেষজ্ঞদের মত: এখন কি সোনা কেনা উচিত?
বাজার বিশ্লেষক সংস্থাগুলোর (যেমন ভেনচুরা) মতে, এই মুহূর্তে সোনার দাম প্রতি ১০ গ্রামে ১,৪০,০০০ থেকে ১,৫০,০০০ টাকার মধ্যে কনসোলিডেট বা ওঠানামা করতে পারে।
বিশেষজ্ঞদের পরামর্শ:
স্বল্পমেয়াদী ক্রেতাদের জন্য, যাঁরা কেবল উৎসব বা পারিবারিক ব্যবহারের জন্য গহনা কিনতে চান, তাঁদের জন্য ২২% পতনের এই একটি আকর্ষণীয় সুযোগ। কারণ বিয়ের মরসুমে চাহিদা বাড়লে দাম আবার উপরের দিকে যেতে পারে।
দীর্ঘমেয়াদী লগ্নিকারীদের জন্য, একবারে পুরো টাকা না ঢেলে কিস্তিতে বা এসআইপি (SIP) পদ্ধতিতে ধাপে ধাপে সোনা বা গোল্ড ইটিএফ (Gold ETF)-এ লগ্নি করা বিচক্ষণতার পরিচয় হবে।সব মিলিয়ে, রেকর্ড দামের অতিরিক্ত চাপ থেকে ২২% ছাড় পাওয়া ক্রেতাদের জন্য ধনতেরাসের আগে নিঃসন্দেহে কিছুটা স্বস্তির খবর।