নোবেল কমিটির খাতায় বাঙালির নাম! সাহিত্যে জগতের সর্বোচ্চ পুরস্কার ঘোষণার আগেই...
Nobel Prize for Bengali: রবীন্দ্রনাথ, অমর্ত্য সেন, .... নোবেলে বাঙালির জয়জয়কারের রথ কি মাঝে থেমে গিয়েছিল? আর কোনও নাম কি এর মধ্যে ওঠেনি নোবেল কমিটির খাতায়? হ্যাঁ, উঠেছিল। কিন্তু এ এক দারুণ আবিষ্কার। জানা যায়, রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর ছাড়া আর তিনবার নোবেল কমিটির খাতায় উঠেছিল বাঙালির নাম। এর দু'বারই একজনের নাম; অন্যবার অন্যজনের। এই দুই ব্যক্তিই সাহিত্যের জন্য মনোনীত হয়েছিলেন। প্রথমজন একাধারে দার্শনিক ও কবি; দ্বিতীয়জন ঔপন্যাসিক!
জি ২৪ ঘণ্টা ডিজিটাল ব্যুরো: রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর, অর্মত্য সেন। একটা ধারা শুরু হয়ে যেন থেমে যায়। কিন্তু এর মাঝে অন্য ইতিহাসও আছে। রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর ও অমর্ত্য সেন ছাড়া আর মোট তিনবার নোবেল কমিটির খাতায় উঠেছিল বাঙালির নাম। এর দু'বারই একজনের নাম; অন্যবার অন্য একজনের। দু'জনই সাহিত্যের জন্য মনোনীত হয়েছিলেন। প্রথমজন একাধারে দার্শনিক ও কবি; দ্বিতীয়জন মূলত কথাকার, ঔপন্যাসিক! কারা তাঁরা? প্রথমজন অরবিন্দ ঘোষ, দ্বিতীয়জন তারাশঙ্কর বন্দ্যোপাধ্যায়।
আরও পড়ুন: Nobel Prize 2026: দৃষ্টি ফিরে পাবেন অন্ধ? জিনের আলোয় মস্তিষ্করহস্য ভেদ করে চিকিৎসাবিজ্ঞা
ঋষি অরবিন্দ
দু-দুবার নোবেল পুরস্কারের জন্য মনোনীত হয়েছিলেন মহান ভারতীয় তথা বিশিষ্ট বাঙালি অরবিন্দ ঘোষ। ভারতের স্বাধীনতা সংগ্রামের ইতিহাসেও তিনি এক উজ্জ্বল ব্যক্তিত্ব। কিন্তু এটা তাঁর জীবনের একটা অধ্যায়। বিস্মৃত অধ্যায় বলতে গেলে। কেননা, তিনি স্বেচ্ছায় এই পথ ছেড়ে সাহিত্য-দর্শন-কাব্য চর্চা এবং যোগের জীবন বেছে নিয়েছিলনে।
১৯৪৩, ১৯৫০
১৯৪৩ সালে স্যর ফ্রান্সিস ইয়ংহাজব্যান্ড সাহিত্যে নোবেলের জন্য শ্রীঅরবিন্দের নাম প্রস্তাব করেছিলেন। কিন্তু সেবার পাননি তিনি। এর পরে ১৯৫০ সালে সাহিত্যে নোবেল পুরস্কারের জন্য চিলির নোবেলবিজয়ী মাদাম গ্যাব্রিয়েলা মিস্ত্রাল শ্রীঅরবিন্দের নাম প্রস্তাব করেন এবং মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের নোবেলবিজয়ী মিস পার্ল এস. বাক তা সমর্থনও করেন। কিন্তু সেবারও পাননি তিনি।
দার্শনিক-কবি
শ্রীঅরবিন্দ বেদ, উপনিষদ ও ভগবদ্গীতার গূঢ় তাৎপর্য সামনে এনেছেন। যার গভীরতা ও মহিমা অদ্বিতীয়। তাঁর লেখনীর মাধ্যমে তিনি সত্য ও শাশ্বতকে উপলব্ধির পথ উন্মোচন করেছিলেন। শ্রীঅরবিন্দের হাতে কবিতাও হয়ে উঠেছে যেন এক স্বর্গীয় সঙ্গীত। যা অসীমের আনন্দ প্রকাশ করে। যা অন্তর্জগৎ ও বহির্জগতের যোগ রচনা করে পাঠককে নিয়ে যায় অনুভূতির মাধুর্যে।
এবং তারাশঙ্কর
তারাশঙ্কর বন্দ্যোপাধ্যায়ও যে নোবেলের মনোনয়ন পেয়েছিলেন সেই তথ্য কিন্তু তখনই সামনে আসেনি। আসে অনেক পরে। ১৯৭১ সালে এই মনোনয়ন পেয়েছিলেন তিনি। কিন্তু ১৯৭১ সালে সাহিত্যে নোবেল জেতেন পাবলো নেরুদা। কিন্তু এমন একটা খবর এত পরে কেন প্রকাশ্যে আসে? আসলে সুইডিশ কমিটি কেবল বিজয়ীদের নামই ঘোষণা করে। বছরখানেক আগে প্রথম তারা সর্ব সাধারণের জন্য তাদের আর্কাইভ খুলে দেয়। আর তার ফলেই জানা যায়, ১৯৭১ সালে তারাশংকরের মনোনীত হওয়ার কথা। গর্বিত হওয়ার একটা দারুণ মুহূর্ত তৈরি হয়েছে বটে বাঙালির জন্য। কিন্তু বাস্তবে তা ঘটেনি! পুরস্কারের ওয়েবসাইট থেকে জানা গিয়েছে, তারাশংকরের নাম প্রস্তাব করেছিলেন সাহিত্য অ্যাকাডেমির তৎকালীন সম্পাদক কৃষ্ণ কৃপালনী। বীরভূমের লাভপুরে ১৮৮৮ সালের ২৩ জুলাইয়ে জন্ম তারাশংকরের। সারাজীবনে লিখেছেন ৬৫টি উপন্যাস, ১২টি নাটক, ৫৩টি গল্প সংকলন। পেয়েছেন রবীন্দ্র পুরস্কার, সাহিত্য অ্যাকাডেমি পুরস্কার, জ্ঞানপীঠ। পেয়েছেন পদ্মশ্রী ও পদ্মভূষণও।
(দেশ, দুনিয়া, রাজ্য, কলকাতা, বিনোদন, খেলা, বিজনেস, লাইফস্টাইল, কেরিয়ার, ইউটিলিটির টাটকা খবর, আপডেট এবং ভিডিয়ো পেতে ডাউনলোড-লাইক-ফলো-সাবস্ক্রাইব করুন আমাদের Facebook, Whatsapp Channel, X (Twitter), Youtube, Instagram পেজ-চ্যানেল)