জি ২৪ ঘণ্টা ডিজিটাল ব্যুরো: ২০২৬ সালের চিকিৎসায় নোবেল পুরস্কার পেলেন মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের কার্ল ডিসেরথ এবং জার্মানির পিটার হেগেমান ও গেয়র্গ নাগেল। আর তার পরের দিনই নোবেল এল পদার্থবিদ্যায়। আইসকিউব নিউট্রিনো অবজারভেটরিতে গুরুত্বপূর্ণ অবদানের জন্য এবং মহাজাগতিক উৎস থেকে আসা উচ্চশক্তির নিউট্রিনো আবিষ্কারের স্বীকৃতি হিসেবে ফ্রান্সিস হালজেনকে এ বছর নোবেল পুরস্কার দেওয়া হল।
মেরুর বরফ থেকে নোবেল
ফ্রান্সিসের জন্ম বেলজিয়ামে। বয়স ৮২ বছর। নোবেল কমিটি ফর ফিজিক্সের চেয়ারম্যান এক বিবৃতিতে বলেছেন, ফ্রান্সিস হালজেন গবেষক ও ইঞ্জিনিয়রদের এক আন্তর্জাতিক দলের নেতৃত্ব দিয়েছেন। তাঁদের হাত ধরেই তৈরি হয়েছে এক অসাধারণ বৈজ্ঞানিক যন্ত্র। তাঁর অধ্যবসায় ও বৈজ্ঞানিক দূরদৃষ্টি জ্যোতির্বিজ্ঞানে নতুন ধারার পথ প্রশস্ত করেছে। নোবেল পুরস্কারের ওয়েবসাইট অনুযায়ী, হালজেন বুঝতে পেরেছিলেন, দক্ষিণ মেরুর বরফকে কাজে লাগিয়ে নিউট্রিনো নামে পরিচিত কণাগুলির গতিবিধি শনাক্ত করা সম্ভব। তাঁর সেই বৈজ্ঞানিক ভাবনা ও নেতৃত্বই আইসকিউব নিউট্রিনো অবজারভেটরি তৈরির ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা নিয়েছিল।
মহাবিশ্বে মহাকাশে
আইসকিউবের সাহায্যে বিজ্ঞানীরা দূরবর্তী মহাবিশ্বের অত্যন্ত শক্তিশালী ও উচ্চশক্তির ক্রিয়াগুলি থেকে নির্গত নিউট্রিনো শনাক্ত করতে পারেন। এর ফলে মহাবিশ্বের এমন কিছু রহস্য অনুসন্ধানের সুযোগ তৈরি হয়, যা প্রচলিত জ্যোতির্বিজ্ঞানের পদ্ধতিতে বোঝা কঠিন। নোবেল কমিটি তাই বলেছে, হালজেনের অধ্যবসায় ও দূরদৃষ্টি জ্যোতির্বিজ্ঞানে এক নতুন পথ খুলে দিয়েছে। উল্লেখ্য, গত বছর পদার্থবিদ্যায় নোবেল পুরস্কার পেয়েছিলেন তিন বিজ্ঞানী। তাঁদের গবেষণার বিষয় ছিল কোয়ান্টাম টানেলিং নামে পরিচিত এক কণার অদ্ভুত আচরণ।
চিকিৎসায় নোবেল
মাত্র একদিন আগেই ৫৪ বছরের কার্ল ডিসেরথ, ৭১ বছরের পিটার হেগেমান এবং ৭৩ বছর বয়সি জর্জ নাগেল 'লাইট-গেটেড আয়ন চ্যানেল' ও 'অপটোজেনেটিক্স' নিয়ে গবেষণার সূত্রে জিতে নিয়েছেন শারীরবিদ্যা তথা চিকিৎসায় নোবেল।
'আলোক-নিয়ন্ত্রিত আয়ন চ্যানেল ও অপটোজেনেটিকস' আবিষ্কারের জন্য বিশ্বের সবচেয়ে মর্যাদাপূর্ণ এই পুরস্কার জিতে নিলেন তাঁরা। অপটোজেনেটিক্স পদ্ধতিতে মস্তিষ্কের স্নায়ুকোষগুলি স্মৃতি ও অনুভূতিতে কীভাবে আচরণ করে-- তা দেখানো সম্ভব। পিটার হেগেমান ও জর্জ নাগেল একটি এককোষী শৈবালের মধ্যে 'চ্যানেলরোডোপসিন' নামের এক প্রোটিন আবিষ্কার করেন। পরে কার্ল ডিসেরথ ওই প্রোটিনকে স্নায়ুকোষের জন্য একটি আলোক-নিয়ন্ত্রিত সুইচে রূপান্তর করেন। এর অর্থ, অপ্টোজেনেটিক্স ব্যবহার করে গবেষকেরা স্নায়ুর বিশেষ সার্কিট উন্মোচন করতে সক্ষম হয়েছেন।
স্নায়ু, মন, মস্তিষ্ক, চোখ
এই সার্কিটগুলি নির্দিষ্ট স্মৃতি, অনুভূতি ও আচরণ নিয়ন্ত্রণ করে, যা স্নায়বিক ও মানসিক রোগের সঙ্গে সম্পর্কিত। দৃষ্টিহীন ব্যক্তিদের দৃষ্টিশক্তি ফিরিয়ে আনার চেষ্টায় গবেষকরা ইতিমধ্যেই এই পদ্ধতি ব্যবহার করতে শুরু করে দিয়েছেন। শুধু তাই নয়, মস্তিষ্ক সম্পর্কে আমাদের জানা ও বোঝাকে পুরোপুরি বদলে দিয়েছে অপ্টোজেনেটিক্স। তাছাড়া মস্তিষ্ক ঠিক কীভাবে কাজ করে, এ নিয়ে মানুষের কৌতূহলের শেষ নেই। এই তিন জনের আবিষ্কার সেই রহস্য ভেদ করতে সহায়তা করছেন বিজ্ঞানীদেরকে।
ক্রমশ
চিকিৎসায় নোবেল পুরস্কার প্রদানের মাধ্যমে এ বছরের প্রথম নোবেল বিজয়ীর নাম ঘোষণা করা হলো। এরপর সুইডেন ও নরওয়ে থেকে ক্রমান্বয়ে ঘোষণা করা হবে পদার্থবিজ্ঞান, রসায়ন, সাহিত্য, শান্তি ও অর্থনীতিতে নোবেল পুরস্কার বিজয়ীদের নাম। বিজ্ঞান, শান্তি ও সাহিত্যে অবিস্মরণীয় অবদানের স্বীকৃতি হিসেবে ১৯০১ সাল থেকে সুইডিশ বিজ্ঞানী ও ব্যবসায়ী আলফ্রেড নোবেলের ইচ্ছানুসারে এই পুরস্কার দেওয়া হচ্ছে।
(দেশ, দুনিয়া, রাজ্য, কলকাতা, বিনোদন, খেলা, বিজনেস, লাইফস্টাইল, কেরিয়ার, ইউটিলিটির টাটকা খবর, আপডেট এবং ভিডিয়ো পেতে ডাউনলোড-লাইক-ফলো-সাবস্ক্রাইব করুন আমাদের Facebook, Whatsapp Channel, X (Twitter), Youtube, Instagram পেজ-চ্যানেল)